ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ইউরোপে শুধু ইভি বিক্রির লক্ষ্য পুনর্বিবেচনা করছে ফোর্ড

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
ইউরোপে শুধু ইভি বিক্রির লক্ষ্য পুনর্বিবেচনা করছে ফোর্ড

ইউরোপজুড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল আমেরিকান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড। তবে এই অঞ্চলে ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানিটি আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে।

কোম্পানিটি ২০২১ সালে জানিয়েছিল, ২০৩০-এর শেষ নাগাদ ইউরোপে শুধু বিদ্যুৎচালিত প্যাসেঞ্জার কার বিক্রি করবে। ফোর্ডের এই পরিকল্পনা ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনার চেয়েও বেশি উচ্চাভিলাষী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের পরে কেবল কার্বন নিঃসরণমুক্ত গাড়ি বিক্রির অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা আশানুরূপ না থাকায় ফোর্ড জানিয়েছে, ক্রেতাদের চাহিদা থাকলে ২০৩০ সালের পরেও ইউরোপে জ্বালানি ইঞ্জিনের গাড়ি বিক্রি চালিয়ে যাবে।

ইউরোপে ফোর্ডের প্যাসেঞ্জার কার ব্যবসার প্রধান মার্টিন স্যান্ডার বলেন, ‘প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মতো কোনো গাড়ির উচ্চ চাহিদা থাকলে, আমরা সেগুলো সরবরাহ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী না বাড়ায় আগের লক্ষ্য পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ফোর্ডের ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের কেবল শতভাগ বিদ্যুৎচালিত গাড়ি উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ‘ফিউচার অব দ্য কার’ সম্মেলনে গত মঙ্গলবার এ কথাগুলো বলেন।

কোম্পানিটির জার্মানির কলোনে অবস্থিত কারখানা সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির জন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি ভক্সওয়াগেন গ্রুপের এমইবি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। কলোনে আগামী জুন মাসে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত কমপ্যাক্ট এসইউভির সিরিজ উৎপাদন শুরু হবে। একই মাসে এমইবি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত দ্বিতীয় গাড়িটি উন্মোচন করা হবে।

এ বছরের শেষের দিকে ফোর্ড রোমানিয়ার ক্রাইওভায় তৈরি তাদের সর্বাধিক বিক্রীত পিউমা এসইউভির ব্যাটারিচালিত পিউমা জেন-ই সংস্করণটিও প্রকাশ করবে।

প্রত্যাশিত বিদ্যুৎচালিত ভ্যানের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও, ফোর্ড তুরস্কে তাদের ট্রানজিট কাস্টম ওয়ান-টন ভ্যানের ইলেকট্রিক সংস্করণ বিক্রি শুরু করেছে।

ফোর্ড ইলেকট্রিক গাড়ি ও লাভজনক লাইট কমার্শিয়াল গাড়ির ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জ্বালানি ইঞ্জিনের গাড়ির লাইনআপ কমিয়ে দিচ্ছে। গত বছর কোম্পানিটি কলোনে তাদের ছোট আকারের ফিয়েস্তা কারের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে তারা জার্মানির সারলুইয়ের কারখানায় ফোকাস গাড়ির উৎপাদনও বন্ধ করে দেবে। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার কারখানায় ফোর্ড তাদের মন্ডিও মিডসাইজ গাড়ি এবং গ্যালাক্সি/এস-ম্যাক্স মিনিভ্যান তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানিটি সেখানে নতুন ‘মাল্টি-এনার্জি’ প্যাসেঞ্জার কারের মডেল তৈরি করার কথা ভাবছে, যা বর্তমানে প্লাগ-ইন হাইব্রিড, সম্পূর্ণ হাইব্রিড বা জ্বালানি ইঞ্জিন সংস্করণে কুগা কমপ্যাক্ট এসইউভি তৈরি করে। সূত্র: অটোমোটিভ নিউজ ইউরো

জাহ্নবী

 

গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল চীন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৪২ পিএম
গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল চীন
ছবি: সংগৃহীত

চীন প্রথমবারের মতো ভারী যানবাহনে তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রযুক্তি দেশটির পরিবহন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। প্রযুক্তিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন (সিএএসসি) চলতি মাসের ১০ তারিখে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ সিস্টেমটি ভারী ট্রাকে ব্যবহার করা হবে। এতে একবার হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে।

বিশ্বে হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের বিকাশে অগ্রগামী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। দেশটিতে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রোজেন ফুয়েলিং স্টেশন নেটওয়ার্ক রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন রাস্তায় চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

মূলত চীনের পরিবহন খাতকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। দেশটির সরকার হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভারী যানবাহনের জন্য তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি। এই ব্যবস্থাটি পরিবেশবান্ধব ও প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সম্প্রতি ১০০ কেজি তরল হাইড্রোজেন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ সিস্টেমটি তৈরিতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা সিএএসসি জানিয়েছে, আগের চেয়ে এর ধারণক্ষমতা ২০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে নতুন এ ব্যবস্থায় বাড়তি জায়গা লাগছে না। এ ব্যবস্থায় আগের থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া নতুন এ সিস্টেম ১০০ কেজি পর্যন্ত তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ধারণক্ষমতাসহ এই সিস্টেমের গুণমান, হাইড্রোজেন স্টোরেজ ঘনত্ব ও রিফিলের সময়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্ভাবনটি ভারী যানবাহন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে, যা পরিবেশ দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

হাইড্রোজেনকে মাইনাস ২৫২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শীতল করলে পাওয়া যাবে তরল হাইড্রোজেন। এটি একটি উচ্চ শক্তির জ্বালানি, যার বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারে বেশ ঝুঁকিও রয়েছে। যানবাহনে তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এটি দ্রুত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে। তরল হাইড্রোজেন পরিবহন করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। 

এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্যাংক ও ট্রাকগুলোয় পরিবহন করতে হয়। তরল হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো সাধারণত গ্যাসোলিন স্টেশনগুলো তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়। এই ঝুঁকিগুলো সত্ত্বেও তরল হাইড্রোজেন শক্তিশালী জ্বালানি, যা পরিবহন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে। সূত্র: সিসিটিভি

শুরু হয়েছে ১৭তম ঢাকা মোটর শো ২০২৪

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৩৫ পিএম
শুরু হয়েছে ১৭তম ঢাকা মোটর শো ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত

নতুন গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ নানারকম অটোমোবাইল পণ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ১৭তম ঢাকা মোটর শো-২০২৪। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে এই আয়োজন।

এ প্রদর্শনী চলাকালে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘অষ্টম ঢাকা বাইক শো-২০২৪’, ‘সপ্তম ঢাকা অটো পার্টস শো-২০২৪’, ‘ষষ্ঠ ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো-২০২৪’ ও ‘প্রথম ইলেকট্রিক ভেহিকেল বাংলাদেশ এক্সপো-২০২৪’।

অন্যদিকে সেমস-গ্লোবাল ও বাংলাদেশ মোটর স্পোর্টসের যৌথ আয়োজনে বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণে গতকাল প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় মোটরবাইক প্রতিযোগিতা ‘প্রথম ডার্ট ট্র্যাক চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪’। একই সঙ্গে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে অফ-রোড রেসট্র্যাক সম্পর্কিত বাংলাদেশের জমকালো মোটর স্পোর্টস প্রতিযোগিতা ‘চতুর্থ র‍্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪’। প্রতিযোগিতা দুটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।