একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীতে গাড়ি ছিল না, মোটরসাইকেল ছিল না, এমনকি সাইকেলও ছিল না। তখন মানুষ হেঁটে আর ঘোড়ায় চড়েই চলাফেরা করত। কিন্তু এক ভদ্রলোক ছিলেন, নাম কার্ল ড্রাইস। তিনি ছিলেন একটু কৌতূহলী, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। সব সময় ভাবতেন, ‘মানুষ কি হাঁটা ছাড়া আর কোনোভাবে চলতে পারে না?’
একদিন তিনি বনে হাঁটতে হাঁটতে বিরক্ত হয়ে গেলেন। মাটিতে পড়ে থাকা একটা পুরোনো কাঠ দেখে ভাবলেন, ‘ইশ, এটা দিয়ে যদি আমাকে নিয়ে দৌড়াতে পারে এমন কিছু বানানো যেত!’ সেদিন থেকেই তার মাথায় ঢুকে গেল একটা অদ্ভুত আইডিয়া: দুটি চাকা আর মাঝখানে বসার জায়গা। ব্যস, গুড টু গো।
১৮১৭ সালের এক দুপুরে সবাই অবাক হয়ে দেখল কার্ল ড্রাইস নামের লোকটা কাঠ আর লোহা দিয়ে বানানো দুই চাকায় চেপে দ্রুত দৌড়ে যাচ্ছে। তবে তখন প্যাডেল ছিল না। তাকে দুই পা দিয়ে মাটিতে ঠেলতে ঠেলতে এগোতে হতো, যেন কেউ সুপার স্পিডে দৌড়াচ্ছে আবার চাকার ওপরে বসেও আছে! লোকজন দেখে বলল, ‘এটাকে তো ঘোড়া ছাড়াই ঘোড়া মনে হচ্ছে!’ তাই তারা নাম দিল ‘লফমাশিন’, যার মানে রানিং মেশিন।
এরপর শুরু হলো মানুষের মাথায় মাথায় আইডিয়া লাফালাফি। কেউ ভাবল, ‘পা দিয়ে ঠেলতে ভালো লাগে না, প্যাডেল দিলেই হয়!’ কয়েক বছর পর ফ্রান্সের দুই ভায়েরা সাইকেলের সামনে বিশাল এক চাকা লাগিয়ে প্যাডেল বসাল। দেখতে এত অদ্ভুত যে মনে হতো কেউ একটা বিশাল চাকায় বসে দুলছে। তখন তাকে বলা হতো ‘পেনি-ফার্থিং’। বাচ্চারা দেখে হাসত, বড়রা দেখে ভয় পেত, কারণ পড়ে গেলে ধপাস করে অনেক উঁচু থেকে পড়তে হতো।
তারপর আসল সাইকেল তৈরি হলো উনিশ শতকের শেষ দিকে। এবার দুটি সমান চাকা, সামনে হ্যান্ডেল, প্যাডেল, চেইন সব একসঙ্গে। সাইকেল দেখেই মানুষ বলল, ‘এ তো পারফেক্ট!’ নামও জুটল সুন্দর- বাইসাইকেল।
আর এর পর থেকে সাইকেল পৃথিবী জয় করল। স্কুলে যাওয়া, নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বন্ধুর বাড়ি ছুটে যাওয়া সবকিছুতেই সাইকেল হয়ে উঠল সেরা সঙ্গী। সস্তা, পরিবেশবান্ধব আর চালাতেও মজা। আজও বাচ্চা থেকে বড় সবাই সাইকেলকে ভালোবাসে।
ভাবুন তো, যদি কার্ল ড্রাইস সেই দিনে বনে হাঁটতে হাঁটতে বিরক্ত না হতেন, তাহলে হয়তো আজও আমরা সাইকেলের মজা পেতাম না।