ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষে সফলতা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষে সফলতা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগরে মলা মাছ ধরছেন চাষিরা। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মৎস্যচাষিরা। ৮০ শতাংশ জমিতে ৯ মাসে ৪০ মণ মলা মাছ উৎপাদন করেছে জাজিরা উপজেলার চাষিরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে  শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ মাছের চাষাবাদ করছে মৎস্যচাষিরা। এসডিএসের মৎস্য বিভাগ বলছে, অল্প খরচে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন দেশি এ মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।

জানা গেছে, দেশীয় মাছ মলা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। বিভিন্ন ধরনের রোগীর চিকিৎসকরা প্রায়ই মলা মাছ খেতে পরামর্শ দেন। এক সময় খালে-বিলে প্রচুর মলা মাছ পাওয়া যেত। তবে সেই মাছ এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মলা মাছ যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য পিকেএসএফের অর্থায়নে ও এসডিএসের সহযোগিতায় এই মাছ পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষে জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের মাধ্যমে উৎপাদন, ব্রুড ব্যাংক (উচ্চমানের পোনা উৎপাদনের জন্য নির্বাচিত মাছ) করছেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের জেলেরা। এ ধরনের মাছ চাষ করে তারা নিজেদের ভাগ্য বদল করছেন। ভালো উৎপাদন হচ্ছে আর প্রত্যাশিত দামও পাওয়া যাচ্ছে। 

এসডিএসের মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে মলা মাছ এখন বড় পরিসরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় অন্য মাছও তারা চাষের মাধ্যমে উৎপাদন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ দেখে অনেক খামারিরা মলা চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আর এদিকে ভালো দাম পেয়ে খুশি মৎস্য খামারিরা।

এ ব্যাপারে বিকেনগর এলাকার মাছচাষি আব্দুস সালাম মাদবর বলেন, ‘আমরা এসডিএস মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের পরামর্শ নিয়ে মলা মাছ চাষ শুরু করি। চলতি বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মলা-ঢেলা মাছ বিক্রি করেছি। আগামীতে আরও বেশি করে এসব মাছ চাষ করব।’

এ মাছ চাষ ও খাদ্য সম্পর্কে এসডিএসের কৃষি কর্মকর্তা তানভীর হোসেন  জানান, কার্প বা অন্য মাছ চাষের মতো পুকুর প্রস্তুত করে মলা মাছ চাষ করা হয়। মলা কার্প মাছের সঙ্গে মিশ্র চাষ বা এককভাবেও চাষ করা যায়। মলা প্রাকৃতিক খাদ্য পানির প্লাংকটন, জৈব পদার্থ  খায়। পুকুরে নিয়মিত ভাসমান খাদ্য ও রাসায়নিক সার ইউরিয়া, টিএসসি প্রয়োগে উৎপাদন বাড়ায়।

এসডিএসের মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের খাল-বিল কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এখন আর মলা মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই মলা মাছ এখন বড় পরিসরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মলা দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ, যা সুস্বাদু, পুষ্টিকর। এ মাছে প্রচুর ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিংক রয়েছে।’

ঘাটাইলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে লটকন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৬ পিএম
ঘাটাইলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে লটকন
ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাহাড়ি এলাকায় গাছে গাছে এখন লটকনের সমারোহ। উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেনের বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পাকা লটকন। বাগান নিয়ে খুশি ফরিদ। কয়েক বছর ধরে লটকন চাষ করে অর্থ আয় করছেন তিনি। তার বাগান দেখে গ্রামের অনেকেই লটকন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি মাটিতে লটকন চাষের জন্য খুব উপযোগী। অনেক কৃষক লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, লটকনে অনেক পুষ্টি ও ঔষধি গুণ রয়েছে। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি।  

জাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেন জানান, তিনি শখ করে ১০টি লটকন গাছ দিয়ে ছোট পরিসরে বাগান করেছিলেন। তবে বাজারে লটকনের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় অর্থনৈতিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন। 

তিনি আরও জানান, চলতি বছর ১ লাখ টাকার ওপরে লটকন বিক্রি করবেন। এতে তার কোনো খরচ নেই। পাইকাররা বাগানে এসে লটকন কিনে নিয়ে যান। বিক্রির কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। বড়-ছোট ভেদে লটকন মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়। উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় উঁচু লালচে অম্লীয় মাটি ও ছায়ামুক্ত আবহাওয়ায় লটকন গাছ ভালো হয়ে জন্মায়।

স্থানীয় খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ ভাই বাগান করেছেন, নিজে খাওয়ার জন্য। কিন্তু এখন তার বাগানের গাছগুলোতে অনেক পরিমাণ ফল হয়। দেখে আমরা অবাক। তিনি এখন হাজার হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেন। চোখের সামনে তার পরিবর্তন দেখলাম। তার লটকন চাষ দেখে অনেকেই আগ্রহী হবেন।’

সাগরদীঘির গ্রামের শফিকুল ইসলাম জয় বলেন, ‘ফরিদের লটকনের বাগান দেখতে এসেছিলাম। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লটকন ধরে আছে। দেখে অনেক সুন্দর লাগছে। আমার ইচ্ছে, এলাকায় গিয়ে লটকন গাছের বাগান করব। এতে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। এই বাগান দেখে আমার মতো অনেকে লটকন চাষে আগ্রহী হবেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ‘লটকন উৎপাদনের জন্য ঘাটাইলের পাহাড়ি মাটি খুব উপযোগী। লটকন চাষে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কম। স্বাস্থ্যসম্মত ফলটি উৎপাদনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’

পিরোজপুরে ভাসমান চাষাবাদ ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা
নাজিরপুরের ভাসমান বীজতলায় যত্ন নিচ্ছেন এক চাষি। খবরের কাগজ

দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুর। এখানকার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রায় সারা বছর কিছু কিছু জমিতে পানি আটকে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে আপস করে, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর ধরে বিকল্প পদ্ধতিতে পানির ওপর কচুরিপানার ধাপ তৈরি করে চাষাবাদ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ভাসমান সবজি চাষাবাদের ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনার কথা বলেছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা।

এ অঞ্চলে ভাসমান সবজির চারা উৎপাদন করেন কয়েক শ কৃষক। মূলত, আষাঢ় মাসে শুরু হয় এ কর্মযজ্ঞ। কচুরিপানা দিয়ে ধাপ তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। পরে ভাসমান বেডে বীজতলায় পেঁপে, লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, বেগুন, করলা, শসা, লাউশাক, লালশাক, পালং শাক উৎপাদন করেন চাষিরা। নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া, পদ্মডুবি, মনোহরপুর, দেউলবাড়ী, সোনাপুরসহ প্রায় ১২টি গ্রামের কৃষকরা ভাসমান চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

সরেজমিন কৃষি কাজে ব্যস্ত দেখা যায়, মো. মনিরুল ইসলাম ও সজীব মোল্লাসহ কয়েকজন কৃষককে। তারা  জানান, ভাসমান বেড তৈরির পর ওপরিভাগ আবাদ উপযোগী প্রায় ১৫-২০ দিন সময় লাগে। বেড তৈরির পর তাতে বীজ রোপণ করা হলে ২০ থেকে ২৫ দিনে চারা জন্ম নেয়। ভাসমান এই বীজতলায় বিভিন্ন জাতের শাকসবজির চারা উৎপাদন করা হয়। 

কৃকষরা আরও জানান, ওই উৎপাদিত সবজি ও চারা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে বেঠাকাটার ভাসমান সবজির হাটে বিক্রি করা হয়। সম্ভাবনাময় এই কৃষি খাতে কোনো সহযোগিতা না থাকায় অনেক চাষি হতাশ। 
ভাসমান এ চাষাবাদে শুধু পুরুষ নন, ওই কাজে সমানতালে নারীরাও শ্রম দেন। তাদের হাতে নিখুঁতভাবে তৈরি হয় ওই সব বীজতলা। এসব গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে দেখা যায় বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। তাদের মধ্যে কহিনুর বেগম (৪৬)। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের (মুগারজোড়) প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বীজতলা বানান নারীরা। আমরা ১ হাজার বীজতলা বানিয়ে মজুরি পাই ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। 

এদিকে কৃষকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে কৃষি উন্নয়ন ক্লাব। ওই ক্লাবের সংগঠক কৃষক আরিফিন সামছুর বলেন, ‘এই অঞ্চলে ভাসমান সবজির উৎপাদনের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। তবে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা না পাওয়ায়, এ কৃষি খাত দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বল্পসুদে কৃষিঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে ভাসমান এ সবজির উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেত।’ 

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাতুন্নেসা এশা বলেন, ‘এখানকার কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পরামর্শে অল্প পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করে চাষিরা ভালো ফল পাচ্ছেন।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠিতে চলতি বছর ৩০৮ হেক্টর জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষবাদ করা হচ্ছে। ফলন হবে সাড়ে ৫ হাজার টন শাকসবজি। যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা।’

পিরোজপুর সরকারি সোহওয়ার্দী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিলাঞ্চলে ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদনের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নাজিরপুরের কৃষকরা প্রায় দেশের সবজির চারা চাহিদার পূরণ করেন। এই খাতকে সমৃদ্ধ করতে কৃষকদের সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে ভাসমান চাষাবাদ আরও সম্প্রসারণ হবে।’

পেঁয়াজের দাম কমছেই না

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
পেঁয়াজের দাম কমছেই না
খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের বস্তা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। খবরের কাগজ

দেশের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারিতে কেজি প্রতি পেঁয়াজ ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইরে এই পেঁয়াজ খুচরায় মিলছে ১১০ টাকায়। এদিকে জোগান বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু করলেও কোনো সুখবর মিলছে না। এতে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, জানুয়ারি থেকে দীর্ঘ ছয় মাস দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল ছিল দেশ। এখন মৌসুম শেষ হয়ে আসায় কৃষকের কাছ থেকে আগেই কিনে রাখা পেঁয়াজ বাড়তি দরে বিক্রি করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তারা প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজে নতুন করে ৩০০ টাকা বাড়িয়েছে। তাই পেঁয়াজের দাম ক্রমেই বাড়ছে। 

এদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। গত ১৫ দিনে সব স্থলবন্দর দিয়ে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ গাড়ি পেঁয়াজ। তবে বর্তমানে সব স্থলবন্দর আমদানি একটু বেড়েছে। দিনে গড়ে ৪৮ থেকে ৫০ গাড়ি পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করছে। প্রতিটি গাড়িতে ৩০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ আনতে খরচ পড়ছে ৯০ টাকা। সীমান্তেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জ হয়ে খুচরা বাজারে যেতে কেজি প্রতি পড়বে ১১০ টাকা। কাজেই ভারত থেকে পেঁয়াজ এলেও ক্রেতাদের সুফল মিলবে না।  

চট্টগ্রামের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে গত কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। গত ২৫ জুন বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। গত ২৮ জুন বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় ও গত ৭ জুলাই বিক্রি হয় আকারভেদে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা। 

অপরদিকে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। গত ২৮ জুন পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৮০ টাকা। গত ৭ জুলাই সরবরাহ সংকট দেখিয়ে পাইকারিতেই ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯৫ টাকা। বর্তমানে ওই দরেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

খাতুনগঞ্জের ‘হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট’ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীরা দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। কোরবানির আগে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। কোরবানির পর দাম বেড়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ টাকায়। এসব কারণে পেঁয়াজের বাজার দিনকে দিন আরও অস্থির হয়ে উঠছে।’ 

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. মোবারক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেছে। তাই আমদানিকারকরা পণ্যটি আমদানিতে আগ্রহ দেখাননি। আমরা ভেবেছিলাম, ভারতের নির্বাচনের পর শুল্কের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাবে। কিন্তু দেশটি এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।’ তিনি বলেন, ‘ভারতে বড় আকারের পেঁয়াজ ৩৪ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ শতাংশ শুল্ক, বাংলাদেশে ভ্যাট, ট্যাক্স, পণ্যপরিবহন যোগ করে মোকামেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকায়। তবে দেশে পেঁয়াজের বাজার ক্রমশ বাড়ায় আমদানিকারকরা আগের তুলনায় কিছুটা আমদানি বাড়িয়েছেন। কিন্তু আমদানি খরচ বেশি পড়ায় আমদানির পরও কোনো স্বস্তির খবর মিলছে না।’

নগরের আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১০ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। আলুর কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ৬০ টাকার নিচে সবজি নেই। চালের দাম বাড়তি। আমরা সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। কিন্তু দিনের পর দিন ব্যয় বাড়ছে। সে হিসেবে আয় তো বাড়ছে না। আমরা সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’ 

ওই এলাকায় আল-আমিন স্টোরের মালিক মো. সেলিম বলেন, ‘পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের বাজার দর অনেক চড়া। দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আমি দেশি পেঁয়াজ কেজি ৯৫ টাকায় কিনে এনেছি। শ্রমিকের মজুরি, পণ্য পরিবহন খরচ যোগ করে লাভসহ বিক্রি করছি ১১০ টাকায়।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ থাকার পরও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের বাজার অস্থির করে তুলেছে। অপরদিকে দিনকে দিন নানা অজুহাতে পেঁয়াজের দরও লাগাছাড়া। খুচরায় শত টাকার ওপরে চলে গেছে পণ্যটির দর। কেন এমনটা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু ভোগ্যপণ্যের বাজারে আমরা সেভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কোনো তদারকি দেখছি না। আর এ সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।’ 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। মূল্য তালিকা না থাকা, ক্রয়-বিক্রয় রশিদ না থাকা, বাড়তি দরে পণ্য বিক্রির চিত্র আমরা দেখতে পাই। তাই আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থাও গ্রহণ করি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

ব্যয় বাড়ায় আগ্রহ কমছে পাট চাষে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৬ পিএম
ব্যয় বাড়ায় আগ্রহ কমছে পাট চাষে
বেনাপোল রঘুনাথপুর গ্রামের চাষি চাঁদ মিয়া খেতে পাটের আঁটি বাঁধছেন। খবরের কাগজ

পাট চাষে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। যে কারণে যশোর অঞ্চলে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। এতে এই অঞ্চলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় একসময় প্রচুর পরিমাণ পাট চাষ হতো। এক সময় এই দুই উপজেলায় পাট চাষে চাষিদের অনেক আগ্রহ ছিল। উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় এ অঞ্চলের সেই সোনালি ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। পাট চাষে উৎপাদন খরচ গত পাঁচ বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া পানির সংকটে জাগ দেওয়া সমস্যা, শ্রমিক-সংকট ও মজুরি বেশি হওয়ায় লোকসানের ভয়ে দিন দিন পাট চাষের প্রতি চাষিদের আগ্রহ নেই। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাষিদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার। পাট চাষে মাঠ পর্যায়ের চাষিদের সঙ্গে নানাভাবে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

পাটচাষিরা বলেন, দেশি জাতের বীজ না পাওয়ায় বেশি দামে বিদেশি বীজ কিনতে হয়। অনেক সময় নিম্নমানের বীজের কারণে ফলন ভালো হয় না। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয় হয় কম। চাষিদের ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। তাই দিন দিন পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শার্শা উপজেলায় ৫ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। পাটের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৫ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় পাটের চাষ বাড়েনি।

জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির হাল চাষ ১ হাজার ৬০০ টাকা, পানি সেচ ১ হাজার টাকা, সার ১ হাজার ৩০০ টাকা, বীজ কেজি ৪০০ টাকা, পোকা দমনে কীটনাশক ১ হাজর টাকা, ঘাস নিড়ানি ও পাটের চারা বাছাই তিনবার শ্রমিক খরচ ৩ হাজার টাকা। এরপর পাট কাটা ও জাগ দেওয়াসহ জায়গা দূরত্ব হিসাবে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। সবশেষে পাট ধোয়া খরচ পড়ে গোল্লাপ্রতি (আটি) ৫ হাজার ৫০০ টাকা। ধোয়ার পর নদী থেকে পাটকাঠি ও পাটচাষির বাড়ি পৌঁছাতে খরচ হয় আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাট কাটা পুরোদমে শুরু হয়নি। চাষিরা জানান, শ্রাবণের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে সব পাট কাটা হবে। অনেকে আবার আমন ধান রোপণের জন্য আগাম পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় নদী-খাল-পুকুর শুকিয়ে গেছে। পানি সংকটের কারণে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা।

এদিকে পাটের আবাদ কমে যাওয়ায় গত দুই বছর থেকে বেড়েছে পাটের দাম। এক বিঘাতে ৮-১০ মণ পাটের ফলন হয়। গত বছর প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। চাষিদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে পাট বিক্রির পরে বাজারে দাম বেড়ে যায়।

পাটচাষি চাঁদ মিয়া বলেন, ‘গত বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বঙ্কিম (ইন্ডিয়া) জাতের পাটের আবাদ করেছিলাম। পানি সংকটে পাট জাগ দেওয়ার সমস্যায় চলতি বছর দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এ বছর আমাদের অঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় পাটচাষিদের জন্য বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জমি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বেতনা নদী, সেখানে পাট নিয়ে গিয়ে জাগ দিতে হয়। যে কারণে পরিবহন বা শ্রমিকের মজুরি খরচ বেশি হবে। বিঘাপ্রতি পাট কাটতে খরচ পড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এক বিঘায় পাট হয় ১৫০ থেকে ১৮০ গোল্লা (আটি)। যা ধোঁয়ার সময় খরচ পড়বে গোল্লাপ্রতি ৩০ টাকা, সেই হিসাবে আরও ৫ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হবে।

তিনি বলেন, ‘পাট চাষে শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হয়। প্রতি বিঘায় ৮-১০ মণ পাটের ফলন পাওয়া যায়। আবার পাটকাঠি পাওয়া যায়। দেখা যায় সব মিলিয়ে আয়-ব্যয় সমান হয়। তবে চলতি বছর বৃষ্টি না হওয়ায় বিঘাপ্রতি ৭-৮ মণ ফলন পাওয়াই দুষ্কর। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার লোকসান হবে। আমাদের শুধু কষ্টই করা হয়, লাভ হয় না। এসব কারণে এ বছর পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছি।’

শার্শা উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের পাটচাষি শাহাদাৎ সরদার বলেন, ‘পাটের আবাদ করতে বিঘাপ্রতি এখন প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। গত কয়েক বছর থেকে পাটের দাম পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত দুই বছর থেকে দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাটের রঙের ওপর দাম নির্ভর করে। প্রতি মণ পাট ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পানির অভাবে এবার রং ভালো হবে না। ব্যবসায়ীরা দাম পেলেও আমরা পাই না। তবে দাম যদি আরেকটু বাড়ানো হয় আমাদের জন্য সুবিধা হবে।’

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নদী-খাল শুকিয়ে গেছে। পানি-সংকটে পাট জাগ দেওয়া সমস্যার কারণে অনেক চাষি পাটের চাষ বাড়ছে না। এ ছাড়া এ অঞ্চলে পাট পচানোর জন্য জলাভূমির সংকট রয়েছে। ফলে চাষিদের পাট পচাতে ভোগান্তির পোহাতে হতে হয়। এ ছাড়া পাট উৎপাদনে চাষির খরচ বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় তারা দাম পাচ্ছেন না। এসব কারণে পাটচাষিরা পাট চাষ কমিয়ে দিচ্ছে। পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কৃষি বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে ২ হাজার ৬০০ জন চাষিকে পাট বীজ বিতরণ করা করেছে।’

ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারকারী কমেছে ২৯ শতাংশ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারকারী কমেছে ২৯ শতাংশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ডিএসইর লেনদেন কমা এবং এই অ্যাপে ফি আরোপের কারণে মোবাইলে অ্যাপ  ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে বলেছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসই-ইনভেস্টরের মোবাইল ও ডেস্কটপ সংস্করণের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৯০০ জনে।
 
এর আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৬২২ জন। এক বছরে কমেছে ১৩ হাজার ৭২২ জন বা ২৯ শতাংশ। 

পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা প্রবণতার কারণে গত চার অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

এর আগের অর্থবছর ২০২২-২৩ এ অ্যাপ ব্যবহারকারীর যে সংখ্যা ছিল, কিন্তু বর্তমান ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২২ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করা হলে ৪০ শতাংশ কম। ২০২২ অর্থবছরে অ্যাপ ব্যবহারকারী ছিল ৭৭ হাজার ৯৪৯ জন।

২০২১-২২ অর্থবছরে নিবন্ধিত মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ৯৪৯। ২০২০-২১ অর্থবছরে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৮৯৫। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৭৫৪। অ্যাপ চালুর তৃতীয় বছর ২০১৮-১৯ সালে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ২৮৩। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীল অবস্থা বিনিয়োগকারীদের বাজার ছাড়তে বাধ্য করছে।’

‘একসময় বাজারের পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিল। তখন অ্যাপের জনপ্রিয়তাও ছিল। গত দু-তিন বছরে বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে, তাই  বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পুঁজিবাজার ছাড়ছেন যার প্রভাবে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কমেছে, যোগ করেন তিনি।’

ডিএসই ২০২৩ সালে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বার্ষিক দেড় হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ আরোপ করে। কিন্তু চার্জ আরোপের কারণে বিনিয়োগকারীরা অ্যাপ এড়িয়ে চলছেন এমন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ‘কেউ কেউ হয়তো বলবেন, সার্ভিস চার্জ আরোপের কারণে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে, কিন্তু আমি তা মনে করি না।’

‘তারা যদি বাজার থেকে মুনাফা করতে পারে, তাহলে সার্ভিস চার্জ কোনো ব্যাপার না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, বেশির ভাগ মানুষ ব্রোকার বা প্রতিনিধিদের কাছে ফোন কলের মাধ্যমে লেনদেনের কাজ সম্পন্ন করেন। কিছু অংশ আছে যারা ব্রোকারেজ হাউসে এসেই লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তিনি বলেন,  বাজারে যে হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সামনে বাজার ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

‘তাই শুধু মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা নয়, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, বলেন তিনি।’

এদিকে টার্নওভার বা মোট লেনদেনেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ অর্থবছরে টার্নওভার আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৩ অর্থবছরে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ২১ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা ২০২২ অর্থবছরের তুলনায় ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ কম ছিল।

২০২২ অর্থবছরে টার্নওভার ছিল ৪২ হাজার ৪০১ কোটি টাকা, যা ২০২১ অর্থবছরের ২৮ হাজার ৮০৪ কোটি টাকার তুলনায় ৪৭ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি ছিল।

ডিএসইর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সার্বিক লেনদেন কমে যাওয়ায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ারের লেনদেন কমেছে। টার্নওভার বাড়লে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়বে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসইর দৈনিক গড় টার্নওভার আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ কমে ৬২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ৭৯২ কোটি টাকা।

২০১৬ সালের ৯ মার্চ মোবাইল অ্যাপস সেবা চালু করে ডিএসই। এর ফলে ব্রোকারেজ হাউসে না গিয়ে ঘরে কিংবা অফিস-আদালতে বসে লেনদেনের সুযোগ পান বিনিয়োগকারীরা।

দেশের অনেক ব্রোকারেজ ফার্মের নিজস্ব ট্রেডিং অ্যাপ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ফার্ম যৌথভাবে লেনদেনের অ্যাপ তৈরি করেছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারের জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না। অ্যাপে লেনদেন চালুর ৭ বছর তিন মাস পর ব্যবহারকারীদের জন‍্য প্রতি মাসে ১২৫ টাকা করে চার্জ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।

এরপর গত বছরের ১২ জুলাই ডিএসইর পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি স্টক ব্রোকারদের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ডিএসই মোবাইল অ্যাপের নতুন ব্যবহারকারীকে গত বছরের জুলাই মাস থেকে ১২৫ টাকা মাসিক চার্জ দিতে হবে। তবে যারা আগে থেকেই অ্যাপটি ব্যবহার করছেন তাদেরকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ফি দিতে হবে না।

বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের অভিযোগ, একদিকে পুঁজিবাজারে মন্দা। অন্যদিকে বারবার বলার পরও মোবাইল অ্যাপের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিবন্ধন বাতিল করছেন। প্রতি মাসে ১২৫ টাকা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের ফলে আগামীতে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা আরও কমবে। 

মনিরুল হক নামের একজন বিনিয়োগকারী খবরের কাগজকে বলেন, ২০১৯ সালে আমি মোবাইল অ্যাপটি খুলেছিলাম, কিন্তু প্রথমে পুঁজিবাজার থেকে কিছুটা মুনাফা পেলেও পরবর্তীতে লোকসান হয়। এর মধ্যে আবার অ্যাপটির মাধ্যমে লেনদেন করতে গেলে দিতে হয় ফি। তাই আমি এখন অ্যাপটি ব্যবহার করি না। 

বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের অভিযোগ, একদিকে পুঁজিবাজারে মন্দা, অন্যদিকে এখন প্রতি মাসে ১২৫ টাকা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের ফলে আগামীতে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা আরও কমবে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমবে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসইর কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল অ্যাপে বেশ কিছু নিষ্ক্রিয় নিবন্ধন ছিল। তাদের বাদ দেওয়ার কারণে নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে। এখন যারা রয়েছে তারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী।