ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

ককলিয়ার ইমপ্লান্ট শ্রবণশক্তিহীনদের আশার আলো

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
শ্রবণশক্তিহীনদের আশার আলো

শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের আধুনিক চিকিৎসা ককলিয়ার ইমপ্লান্ট। এটি শ্রবণসহায়ক একটি ইলেকট্রনিক মেডিকেল ডিভাইস, যা শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে কানের ভেতর প্রতিস্থাপন করা হলে শ্রবণশক্তি ফিরে পাওয়া যায়। কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও বাংলাদেশে হচ্ছে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট। লিখেছেন বাংলাদেশ ইএনটি হাসপাতাল লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ


বিশ্বে প্রতি এক হাজারে একজন বধিরতা নিয়ে জন্মায়। আবার প্রায় সমানসংখ্যক জনগোষ্ঠী শ্রুতিশক্তি নিয়ে জন্মালেও জীবদ্দশায় তারা কোনো না কোনো সময় বধিরে পরিণত হয়। বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখ লোক বিভিন্ন মাত্রায় বধির। এর মধ্যে ৩০ লাখ লোক মারাত্মক বধিরতায় ভুগছে, যাদের অনেকেই ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

ককলিয়ার ইমপ্লান্ট কী?
ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। আলেসান্দ্রো ভল্টা, যিনি ইলেকট্রিক ব্যাটারির আবিষ্কারক, তিনিই এ বিষয়ে প্রথম কথা বলেন। মানুষের বিশেষ ইন্দ্রিয় যেমন- শোনা, দেখা, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ এগুলোর মধ্যে শুধু শোনাতেই এ পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে অন্তঃকর্ণ সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় অথচ অডিটরি নার্ভ বা স্নায়ু সক্ষম থাকে, সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্নায়ুকে কাজে লাগিয়ে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে শ্রবণশক্তিকে পুনরুদ্ধার করার চিকিৎসাই ককলিয়ার ইমপ্লান্ট। এর দুটি অংশ থাকে।

একটি অংশ অপারেশন করে কানের ভেতর বসিয়ে দেন ইএনটি সার্জনরা। অপর অংশটি কানের পেছনে সেট করা হয়। এটি দুটি চুম্বক তারের যন্ত্রের সঙ্গে বাইরের যন্ত্রের একত্রে নির্দিষ্ট স্থানে থাকা নিশ্চিত করে। একটি মাইক্রোফোন থাকে, যা বাইরের শব্দকে সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছায়।

ফলে শব্দ শোনা যায় প্রায় স্বাভাবিকের মতোই। একে বায়োনিক কানও বলে। পুরো প্রক্রিয়ার জন্য লাগে মাইক্রোফোন, সংযুক্ত তার, স্পিচ প্রসেসর, ট্রান্সমিটিং কয়েল, রিসিভার স্টিমুলেটর, ইলেকট্রোড, ককলিয়ার, অডিটরি নার্ভ প্রভৃতি।

শ্রুতিহীন কারা?
বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ- কানের এই তিনটি অংশ। অন্তঃকর্ণে থাকে ককলিয়ার, যা দেখতে অনেকটা শামুকের মতো। বাইরের শক্ত হাড়ের ভেতর থাকে অতিসংবেদনশীল মেমরেনাস ককলিয়ার। এটিই শোনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে। এই ককলিয়ার যখন তৈরি হয় না অথবা নষ্ট হয়ে যায়, তখন শোনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে ভাষাও শিখতে পারে না। ককলিয়ার ড্যামেজ মানেই কানের ভেতরের শ্রবণের সব অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া। একে সেনসরিনিউরাল হিয়ারিং লস বলে। তখন এই ককলিয়ারকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়।

যাদের জন্য প্রযোজ্য
কোনো ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ কর্মকুশলতা দেখাতে চাই স্বাভাবিক শ্রুতিশক্তি। এর অন্যথা হলেই দেখা দিতে পারে প্রতিবন্ধিতা। দীর্ঘ সময় শ্রুতিহীনতার উপযুক্ত চিকিৎসা অনুপস্থিত ছিল। এখন মাত্র ১০-১২ মাসের শিশুর ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করা সম্ভব হচ্ছে। আর দশজন সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে।

সাধারণত নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য বা শর্ত সাপেক্ষে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করা যায়। যেমন-
যাদের দুই কানেই মারাত্মক শ্রুতিহীনতা রয়েছে এবং হিয়ারিং এইড বা ওষুধ প্রয়োগ করেও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

কানে শোনার ক্ষেত্রে যাদের জন্মগত সমস্যা রয়েছে তাদের বেলায় ১০ মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া বেশি বয়সী, যাদের শ্রবণশক্তি নেই, তারাও এ চিকিৎসায় ভালো শুনতে পান।

অন্তঃকর্ণ গঠনগত দিক দিয়ে স্বাভাবিক এবং অডিটরি নার্ভ কর্মক্ষম রয়েছে যাদের।

কানে ইনফেকশন বা অন্য কোনো রোগবালাই নেই যাদের।

সর্বোপরি যিনি কথা বলতে, শুনতে এবং স্পিচ রিডিং করতে উৎসাহী এবং ইমপ্লান্ট-পরবর্তী নিবিড় পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজি।

শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে যে কারও
সন্তান মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায় মায়ের রুবেলা, হাম, মাম্পস হলে, জন্মগত সিফিলিস থাকলে, মায়ের ভাইরাস সংক্রমণ হলে, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম হলে শিশুটির শ্রবণশক্তির সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া প্রসবকাল যদি দীর্ঘ হয়, জন্মের পর যদি নবজাতকের অক্সিজেন কমে যায়, যদি খিঁচুনি বা মেনিনজাইটিস হয়, তাহলে ককলিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছোট শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়াও শিশুকে বধির করে দিতে পারে। অন্তঃকর্ণের সমস্যা যেমন- মাথায় আঘাত, কানে ইনফেকশন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত-পরবর্তী জটিলতা হিসেবে বধিরতা দেখা দিতে পারে। আবার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ঠাণ্ডা, সর্দি, স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার কিংবা আঘাত, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ অনেক অজানা কারণে ককলিয়ার নষ্ট হয়ে শোনার ক্ষমতা হারাতে পারে যে কেউ। এ জন্য সতর্কতা হিসেবে সময়মতো মা ও শিশুকে ক্ষতিকর ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া, জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়রিয়ার সঠিক চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়।

খরচ
২০০৬ সালে আমরাই সর্বপ্রথম মিটফোর্ড হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের উদ্যোগে সফলভাবে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করি। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএসএমএমইউ) বিশেষ বাছাই প্রক্রিয়ায় ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) অনুদানের মাধ্যমে এ সার্জারি হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে সোবহানবাগ বাংলাদেশ ইএনটি হাসপাতালে এ অপারেশন হচ্ছে, যাতে খরচ পড়ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা।

সফলতা ও ঝুঁকি
ককলিয়ার ইমপ্লান্টের চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। তবে ব্যক্তিভেদে এর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এটি নির্ভর করে বধিরতা দেখা দেওয়ার বয়সকাল, স্থায়িত্ব, বয়স, বিদ্যমান অডিটরি নার্ভের কর্মক্ষমতা, যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রভৃতির ওপর।

সতর্কতা ও করণীয়
ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করালে ডিভাইসটি সাধারণত আমৃত্যু কার্যকর থাকে। তবে বিভিন্ন কারণে সমস্যা হতে পারে। এর জন্য ডিভাইসটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যেমন-

এটি যেহেতু ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ডিভাইস তাই ইলেকট্রিক শক থেকে দূরে থাকা উচিত।

যন্ত্রটিকে সবসময় শুকনো রাখতে হয়। কাপড় দিয়ে মুছে ড্রাই এইড বক্সে যত্ন করে প্রতিদিন রাখা উচিত। প্রচণ্ড গরম, আর্দ্রতা, ঘাম বা অন্য কোনো কারণে কোনো ক্ষতি যেন না হয়।

কানে জোরে আঘাত পেলে ইমপ্লান্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য খেলাধুলার সময়ও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হয় মাঝে মধ্যে। রিচার্জেবল ব্যাটারিও লাগানো যায়। ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজারের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা ভালো।

সপ্তাহে অন্তত এক দিন নরম ব্রাশ দিয়ে যন্ত্রের বাইরের মাইক্রোফোন, ব্যাটারি কন্ট্রাক্ট ও ট্রান্সমেটিং কয়েলসহ বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করা ভালো, যাতে ধুলোবালি না লাগে।

কানের সংক্রমণ বা পুঁজ হওয়া থেকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। এ জন্য সর্দি লাগলে বা কানের ব্যথা হলে ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে হবে।

নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। কেননা অপারেশনের পর (৪-৬ সপ্তাহ পরে) ডিভাইসটিকে চালু করা হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি সপ্তাহে একবার করে দুই বা তিন মাস পর্যন্ত সেন্টারে আসতে হয়। তবে যন্ত্রটি ব্যবহারে তারা পারদর্শী হয়ে উঠলে তখন স্পিচ প্রসেসরটিকে বারবার ম্যাপিং বা প্রোগ্রামিং করার দরকার পড়ে না। তখন প্রতি ৬ থেকে ১২ মাস অন্তর আসতে হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে শোনা, কথা বলা এবং ভাষাবিষয়ক নির্দেশনা চালিয়ে যেতে হয়, যতদিন প্রয়োজন পড়ে ততদিন পর্যন্ত এমনকি কয়েক বছর ধরে।

এমআরআই করতে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করতে হয়।

না শুনলে করণীয়
পঞ্চইন্দ্রিয়ের অন্যতম বাকশক্তি। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী কোনো শিশু যদি কানে না শুনে বা কথা বলতে না পারে, তবে যত দ্রুত সম্ভব ইএনটি চিকিৎসকদের দেখানো উচিত। কেননা শিশুদের ভাষা শেখার জন্য এ সময়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় শিশু কথা শুনে শুনে ভাষা শিখে। সে যদি কিছু শুনতে না-ই পায়, তবে তার ভাষার বিকাশটাও হয় না। সে ক্ষেত্রে হিয়ারিং এইড দিতে হয় এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

গ্রন্থনা: হৃদয় জাহান

কলি

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ডাবের পানি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ডাবের পানি

যুগ যুগ ধরে ডাবের পানি একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পানীয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। বহু দেশে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশ্বে সর্বাধিক ডাব উৎপন্ন হয় ইন্দোনেশিয়ায়। তার পরে আছে ফিলিপাইন এবং ভারতবর্ষ। বাংলাদেশের প্রায় সবখানেই ডাব পাওয়া যায়। মাইউপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং নানাবিধ খনিজ পদার্থ যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস থাকে। ইউএসডিএ পুষ্টি তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ০.৩০ গ্রাম আমিষ, ৬.৯৭ গ্রাম শ্বেতসার, ৬.৩৬ গ্রাম চিনি, ৬ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ৬ মিলিগ্রাম ফসফোরাস, ১৭৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৫.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যের উপকারে ডাবের পানি
দেহের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে: শারীরিক পরিশ্রমের পর দেহের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করতে ডাবের পানি পান করা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। পরিশ্রম করার সময় দেহ থেকে যে পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ডাবের পানি তা পূরণ করে। ফলে ক্লান্তি দূর হয়।
বৃক্কে পাথর জমা প্রতিরোধ করে: ডাবের পানি দেহ থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং বৃক্কতে জমতে দেয় না। দেখা গিয়েছে যে, ডাবের পানি বৃক্কতে পাথর জমাতে বাধা দেয় এবং পাথরের সংখ্যা কম রাখে।

ত্বকের উপকার: প্রদাহ এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ডাবের পানি সবচেয়ে কাছের বন্ধু। প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম থাকায় ত্বকের সংক্রমণ এবং বয়সের প্রাথমিক ছাপ পড়াকে প্রতিরোধ করে।

দাঁতে গর্ত হওয়া প্রতিরোধ করে: ডাবের পানিতে থাকে লউরিক অ্যাসিড, যেটি একটি ফ্যাটি অ্যাসিড। লউরিক অ্যাসিডের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ আছে। ফলে দাঁতে গর্ত করা ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিকাশ এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে দাঁত খারাপ হওয়া প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরের স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালগুলো অস্থিতিশীল অণু। অধিক পরিমাণে এই সক্রিয় অক্সিজেন দেহের কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে এবং অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি করতে পারে। অত্যধিক পরিমাণে অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি হলে দেহ নানা রকমের অসুখের শিকার হতে পারে। যেমন- কর্কট রোগ, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস এবং ডায়াবেটিস।

গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। ফলে অক্সিডেটিভ চাপ সৃষ্টি হতে বাধা দেয়। এতে রয়েছে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, ক্যাফেইক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ধরনের ফেনোলিক যৌগ, যেগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলোকে দেহ থেকে বের করে দেয়। একটি প্রিক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দেখাচ্ছে যে, ডাবের পানিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকরভাবে দেহের রক্তচাপ, রক্তের গ্লুকোজ, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা হ্রাস করে এবং দেহের স্বাভাবিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

ত্বকের উপকার: সাধারণ সংক্রমণ, দূষণ এবং ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির বিরুদ্ধে দেহের প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো ত্বক। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের অবস্থা যেমন- চর্ম রোগ, গায়ে ছোপ পড়া এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল থেকে ত্বককে রক্ষা করা জরুরি। গবেষণা দেখিয়েছে যে, ডাবের পানি গায়ে ছোপ পড়া হ্রাস করতে পারে।

কেশ পরিচর্যা: ডাবের পানি চুলের পক্ষে খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ডাবের পানি চুল পড়া এবং চুলের অকালপক্বতা নিবারণ করে। গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে, চুলে ডাবের পানি দিলে চুলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। এ ছাড়া চুলে থাকে ক্যাপ্রাইলিক অ্যাসিড, যার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ আছে। তাই চুলের খুসকি প্রতিরোধ করতে পারে।

উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে অধিক পরিমাণে চর্বি থাকলে সেই অবস্থাকে হাইপারলিপিডেমিয়া বলা হয়। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যাস্করবিক অ্যাসিড উপস্থিত থাকলে চর্বির ওপরে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেখা গেছে, ডাবের পানি মোট কোলেস্টেরল (টিসি) এবং খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা বৃদ্ধি করে।

ডায়াবেটিস: দীর্ঘসময় ধরে হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে অত্যধিক পরিমাণে গ্লুকোজ থাকা) হলে তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। ডাবের পানির হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম করা) ধর্ম আছে। প্রাণীদের নিয়ে করা একটি গবেষণা দেখাচ্ছে যে, ডাবের পানি রক্তের গ্লুকোজ এবং গ্লাইকোসাইলেটেড হেমোগ্লোবিনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোনো কিছুরই অতিরিক্ত ভালো নয়। যদিও ডাবের পানি স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী, তবুও এর কিছু খারাপ প্রভাব এবং অসুবিধা আছে।

হাইপারক্যালেমিয়ার: উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম হাইপারক্যালেমিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। সুস্থ হৃদয় এবং পেশির জন্য পটাশিয়ামের সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রয়োজন। অত্যধিক পরিমাণে ডাবের পানি পান করলে দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে হৃদ-স্পন্দনের তালে বিপজ্জনক এবং মারাত্মক পরিবর্তন আসতে পারে।

রক্তচাপ হ্রাস: ডাবের পানি রক্তচাপ হ্রাস করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি উপকারী। কিন্তু যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তারা ডাবের পানি পরিহার করবেন। কারণ এটি রক্তচাপকে আরও নামিয়ে আনতে পারে।

ডাবের পানি পানে সতর্কতা
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঠাণ্ডা ও সর্দির রোগী, অ্যালার্জির রোগীদেরও ডাবের পানি পানে সতর্ক থাকতে হবে।

 কলি

পাঁজরে ব্যথা যা জানতে ও করতে হবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
যা জানতে ও করতে হবে

পাঁজরে ব্যথা এমন একটি অবস্থা যেখানে বুকের এক দিকে বা দুই দিকে ব্যথা অনুভব হতে পারে। ব্যথা একই সময় একটি বা একটির বেশি পাঁজরে হতে পারে। হেলথলাইন অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

পাঁজরে ব্যথার বিশেষ কিছু উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন- কসটোকন্ড্রাইটিসের ক্ষেত্রে পাঁজরের কোমলাস্থিতে প্রদাহ বা ফোলা দেখা যায় এবং বুকে সংবেদনশীলতা লক্ষ করা যায়। ব্যথা অনুভব হয় উপরের দিকে পাঁজরে এবং স্টারনামের কাছে। যখন এই ব্যথা গুরুতর হয়, তখন উপসর্গগুলোও খারাপ আকার নেয় এবং শরীরের নিম্নভাগে বারবার ব্যথার অনুভব হতে থাকে। এইরকম ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।

একইভাবে, প্লিউরিসি হচ্ছে বুকের দেয়াল ও ফুসফুসের মাঝখানের লাইনিংয়ের একটা প্রদাহ। এই অবস্থার সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো ব্যথা। সাধারণত সমস্যাটা নিজের থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, মানে শ্বাসনালির প্রদাহের কারণেও পাঁজরের চারপাশে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

ফুসফুসে ক্যানসারের জন্যও পাঁজরে ব্যথা হতে পারে, যেটা কাশি বা হাসির সময় আরও বাজে আকার নেয়। এর ফলে সাঁ সাঁ আওয়াজ হতে পারে, কফ এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ক্ষেত্রে, ব্যথাটা জ্বালা, ছুরি মারা অথবা হালকা ব্যথা আকারে হতে পারে।

কারণ
নানা কারণে পাঁজরে ব্যথা হতে পারে। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে কসটোকন্ড্রাইটিস, থোরাসিক স্পাইনে ব্যথা। এ ছাড়া স্টার্নালিস সিনড্রোম যা একটা বিরল সিনড্রোম। এর বৈশিষ্ট্য হলো বুকের দেয়ালে ব্যথা। কোনো আঘাতের কারণে, খেলতে গিয়ে, দুর্ঘটনায়, মারামারি করে বা পড়ে গিয়ে পাঁজর ভেঙে থাকলেও ব্যথা হতে পারে।

পাঁজরে ব্যথা হওয়ার অনিয়মিত কারণগুলোর মধ্যে আছে রিউমাটয়েড (হাড়ে বা গাঁটে ফোলা বা ব্যথা)।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া: পেশিতে ব্যথা এবং শক্তভাব সঙ্গে গাঁটে ব্যথা।
সিকেল সেল অ্যানিমিয়া: রক্তে অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কমে যায় সিকল আকারের লাল রক্তকোষের জন্য।
পলিকন্ড্রাইটিস: কোমলাস্থির প্রদাহ বা ফোলা।
অস্টিওপোরোসিস: মেনোপজের পরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
লিউপাস এরিথেমাটোসাস: একটা অটোইমুন অবস্থা।
স্লিপিং পাঁজর সিনড্রোম: একটা বিরল অবস্থা যেখানে নিচের পাঁজরের কোমলাস্থি স্লিপ করার জন্য ব্যথা হয়।

এ ছাড়া টিউমারস, গলস্টোনস, প্লিউরিসি, পাল্মোনারি এম্বোলিসিম রোগের কারণেও পাঁজরে ব্যথা হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
উল্লিখিত অবস্থাগুলো উপসর্গের থেকে অনুমান করা যেতে পারে। চিকিৎসক প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন। যেমন- বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন মাত্রা।

এগুলো ছাড়াও চিকিৎসক যে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারেন তার মধ্যে আছে অ্যানালজেসিক বা ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া। সাময়িকভাবে শারীরিক চাপ এড়িয়ে চলা। গরম/ঠাণ্ডা প্যাক থেরাপি। ফিজিওথেরাপি ও কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি। রোগের তীব্রতার ক্ষেত্রে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কলি

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) হলো নারীদের এক ধরনের হরমোনাল অসামঞ্জস্যতা। এর ফলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন হ্রাস পায় এবং অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) বৃদ্ধি পায়। নারীদের প্রজনন সময়কালে মূলত এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তবে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে রোগটি বেশি হয়। লিখেছেন নর্দান  ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাসনীম খান

লক্ষণ

 অনিয়মিত অথবা দীর্ঘকালীন ঋতুস্রাব ও মাসিক রক্তক্ষরণ।

 ওজনাধিক্য বা মুটিয়ে যাওয়া (৮০ শতাংশ বা তার অধিক ক্ষেত্রে)।

 অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) নিঃসরণ।

 ওভারিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজকোষ বা গ্রন্থিকোষ সৃষ্টি হয়, যা দেহে অপ্রয়োজনীয় তরল বহন করে এবং ডিম্বাণু নিঃসরণে বাধা দেয়।

 ব্রণ, আঁচিল। মুখ, গলা, বুক, পিঠে অবাঞ্ছিত লোম।

 ত্বকের বিভিন্ন অংশ যেমন- গলা, ঘাড়, স্তন ও বগলে কালচে ভাব দেখা দেয়।

 চুল পড়ে পাতলা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কারণ

জেনেটিক: এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ না থাকলেও কিছু কারণকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম জেনেটিক বা বংশগত। পরিবারের কোনো সদস্যের, বিশেষ করে মা অথবা বোনের এই রোগ থাকলে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছু বেশি থাকে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: ইনসুলিন এক প্রকার হরমোন, যা দেহেই উৎপন্ন হয়। প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এই ইনসুলিন। কিন্তু যখন দেহের কোষগুলো ইনসুলিনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে না, তখন দেহে ইনসুলিনের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। ইনসুলিন ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে তা অ্যান্ড্রোজেনের (পুরুষ হরমোন) উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ নারীরই পিসিওএস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট।

যেসব জটিলতা হতে পারে

প্রজনন সমস্যা: গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজন ওভুলেশন (ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রক্রিয়া)। যেসব নারীর অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষ হরমোন নিঃসৃত হয়, তাদের ওভুলেশনচক্র ব্যাহত হয়। 

মেটাবলিক সিনড্রোম: পিসিওএসে আক্রান্ত হওয়ার দরুন ৮০ শতাংশের অধিক নারী মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতায় ভোগেন। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের মাত্রা কমে যাওয়াজনিত নানা সমস্যা হতে পারে।

ক্যানসার: প্রতি মাসে ওভুলেশন না হওয়ার কারণে ইউটেরাসের সংযোগে এপিথেলিয়ামের পুরুত্ব বেড়ে যায়। ফলে ইউটেরাসে ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

নিদ্রাহীনতা, বিষণ্নতা: দুশ্চিন্তা, অতি উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। নিদ্রাহীনতা হতে পারে।

শনাক্তের উপায়

তিনটি প্রধান লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা রোগীর দেহে পিসিওএসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেন। এগুলো হলো- অধিক অ্যান্ড্রোজেন হরমোন লেভেল, অনিয়মিত মাসিকচক্র এবং ওভারিতে সিস্ট, যা আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া মুখ, বুক ও পিঠে ব্রণ, অবাঞ্ছিত লোম, স্থূলতা, অতিরিক্ত চুল পড়ার প্রবণতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখেও চিকিৎসকরা পিসিওএস সন্দেহ করেন।

প্রতিরোধে করণীয়

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: পিসিওএসের জটিলতা নিরসনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি সঠিক ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত। অস্বাস্থ্যকর এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। দুগ্ধজাত ও চিনিযুক্ত খাবার যত সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ: কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার কম খেলে দেহের ওজনের সমতা বজায় থাকে। তখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়েট (ফলমূল, শাকসবজি ও শস্য থেকে যেসব কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়) মেনে চললে ঋতুস্রাবচক্রে সাহায্য করে। ভালো হয় একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হয়ে পরিপূর্ণ খাদ্যতালিকা মেনে চলতে পারলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: সঠিক মাত্রার ওজন বজায় রাখলে ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ওজন কমালে কোলেস্টেরল ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তখন হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। 

কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম: সপ্তাহে কমপক্ষে তিন থেকে চার দিন ব্যায়াম করলে ডিম্বচক্রের যথেষ্ট উন্নতি হয়। এতে সঠিক ওজন বজায় থাকে এবং ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস পায়। পিসিওএসের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ: অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের একমাত্র উপায় হচ্ছে লেজার হেয়ার রিমুভাল। কোনোভাবেই অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে হেয়ার রিমুভ করা উচিত নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে উন্নতমানের লেজার হেয়ার রিমুভাল ডিভাইসের মাধ্যমে চিকিৎসা হতে পারে।

চিকিৎসা

সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারলে পিসিওএস এবং এর জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। 

অনুলিখন: হৃদয় জানায়

কলি 

ফসফরাসের অভাব হতে পারে যে কারও

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৯ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:২২ পিএম
ফসফরাসের অভাব হতে পারে যে কারও

ফসফরাস আমাদের শরীরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের শরীরে এর প্রচুর চাহিদা আছে। খাদ্যে এই মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টটির অভাবের ফলে নানারকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

শরীরে ডিএনএর মতো বিভিন্ন আনবিক উপাদানগুলোর মধ্যে ফসফরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আবার আমাদের শরীরে যে শক্তির আনবিক এককগুলো উৎপন্ন হয়, তাতেও ফসফরাস থাকে। তবে শরীরে বেশির ভাগ ফসফরাস থাকে হাড়ের মধ্যে, বাকি ফসফরাস শরীরের নরম টিসু বা কলার মধ্যে থাকে। আমাদের শরীরে কোষের বিকাশ এবং খাদ্যকে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য ফসফরাসের প্রয়োজন হয়।

রোগের লক্ষণ
ফসফরাসের অভাবের ফলে নানা রকম উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে আছে হাড়ের উন্নয়নে বা গঠনে সমস্যা। এ ছাড়া হাঁটাচলায় অসুবিধা, দুর্বলতা, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ও মুখের ভিতরে সংক্রমণ। পাশাপাশি হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা ও খিদে কমে যেতে পারে। শিশু এবং বেড়ে ওঠা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ফসফরাসের অভাব হাড়ের বিকৃতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার মতো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ
প্রাথমিকভাবে জাঙ্ক ফুডের মতো স্বল্প পুষ্টির খাবার বা নিম্নমানের খাদ্য খাওয়ার ফলে ফসফরাসের ঘাটতি দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানের মধ্যে ফসফরাস থাকায় এর অভাব খুব একটা দেখা যায় না। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খেলে ফসফরাস শরীরে শোষিত হতে সমস্যা দেখা দেয়। এই ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টাসিড বা অম্লনাশক ওষুধ।

তবে, ম্যাগনেজিয়ামের অভাবের ফলেও শরীরে ফসফরাস শোষিত হতে সমস্যা হয়, ফলে ফসফরাসের অভাব দেখা যায় (আরডিআই অনুসারে)। প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত ১ হাজার এমজি ফসফরাস গ্রহন করা জরুরি।

রোগ নির্ণয়
রক্ত পরীক্ষা করে ও বর্তমান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো দেখে চিকিৎসক ফসফরাসের ঘাটতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ফসফরাসের অভাব কাটিয়ে উঠতে, চিকিৎসক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। স্বাভাবিকভাবে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ফসফরাস অভাব নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে, প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসক মাল্টিভিটামিন সম্পূরক গ্রহণের পরামর্শও দিতে পারেন।

দৈনিক ফসফরাস গ্রহণের পরিমাণ
শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সে ১০০ মিলিগ্রাম।
৭ থেকে ১২ মাস বয়সে ২৭৫ মিলিগ্রাম।
এক থেকে তিন বছর বয়সে ৪৬০ মিলিগ্রাম।
চার থেকে আট বছর বয়সে ৫০০ মিলিগ্রাম।
৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১২৫০ মিলিগ্রাম।
১৯ বছরের পর থেকে ৭০০ মিলিগ্রাম।

ফসফরাস রয়েছে যেসব খাবারে  
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকা মানে আপনি ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার ঠিকঠাক মতোই গ্রহণ করছেন। সাধারণত যেসব খাবারে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, সেগুলো ফসফরাসের ভালো উৎস। যেমন মাছ, মাংস, মুরগির মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার, ডিম, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার। প্রোটিন ছাড়া ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবারগুলো হলো ভূসি ও ভূসিসমেত খাদ্য, আলু, শুকনো ফল এবং রসুন।

কলি

সাইনোসাইটিস কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:২৮ পিএম
সাইনোসাইটিস কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

সাইনাস হলো আমাদের করোটির বা মাথার খুলির অন্তরস্থ চার জোড়া ফাঁকা প্রকোষ্ঠ। এই প্রকোষ্ঠগুলির স্থান আমাদের কপাল, চোখ, নাক ও গালের নিচে। এরা নাসারন্ধ্রের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সাধারণত বাতাসে পূর্ণ থাকে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ভাইরাস সংক্রমণ, ছত্রাক (ফাঙ্গাল) সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির কারণে প্রকোষ্ঠগুলোর ভেতরের আস্তরণকারী টিস্যুতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সাইনোসাইটিস বলে। সিকে বিড়লা হাসপাতালের ওয়েবসাইট অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

সাইনোসাইটিসের কারণে সাইনাসের প্রকোষ্ঠগুলোয় তরল (মিউকাস) পদার্থ জমে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে মুখে চাপ এবং ব্যথা অনুভূতি হতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাক দিয়ে পানি ঝরে। এ ছাড়া অন্যান্য উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও সাইনাসের প্রদাহ হতে পারে। সাইনোসাইটিসকে অনেক সময় রাইনো সাইনোসাইটিসও বলা হয়।

সাইনোসাইটিসের প্রকারভেদ
কতক্ষণ প্রদাহ স্থায়ী হচ্ছে (তীব্র, সাব-একিউট, দীর্ঘস্থায়ী বা পুনরাবৃত্ত-তীব্র) এবং কীসের কারণে (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক সংক্রমণ) প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে সেই অনুসারে সাইনোসাইটিসকে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়। তীব্র সাইনোসাইটিস হলে নাক বন্ধ হওয়া, নাক থেকে পানি ঝরা, মুখের ব্যথা/চাপ এবং গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া। চার সপ্তাহেরও কম সময় ধরে থাকে। এটি সাধারণত সর্দি-কাশির মতো ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়।

সাব-অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে ঘটে। পুনরাবৃত্তি-তীব্র সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো এক বছরে চার বা তার বেশি বার ফিরে আসে।

সাইনাস সংক্রমণের লক্ষণ
দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে নাকের প্রদাহ। এ ছাড়া নাক থেকে ঘন, বিবর্ণ স্রাব (নাক দিয়ে পানি পড়া)। গলায় শ্লেষ্মা জমা হওয়া, কাশি, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা। এ ছাড়া চোখ, গাল, নাক বা কপালের চারপাশে ব্যথা এবং ফোলা ভাব। গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া।

অন্যান্য লক্ষণ এবং উপসর্গের মধ্যে আছে কানে ব্যথা, মাথাব্যথা, উপরের চোয়াল এবং দাঁতে ব্যথা, গলা ব্যথা। এ ছাড়া নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ও শরীরে ক্লান্তি থাকতে পারে।

সাইনাস সংক্রমণের কারণ
সাইনাসের সংক্রমণের কারণগুলো হলো ভাইরাস সংক্রমণ, ছত্রাক সংক্রমণ, সাইনাস প্রকোষ্ঠে অ্যালার্জি, সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা। এ ছাড়া স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, মরাক্সেলা ক্যাটারেলিস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
কিছু মানুষের সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তার কারণ হলো এসব রোগীর আগে থেকে থাকা নাকের অ্যালার্জি, হাঁপানি, নাকের পলিপ, নাকের সেপ্টাম টিস্যুতে চ্যুতি থাকে। এ ছাড়া যাদের নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস, দুর্বল ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এইচআইভি বা ক্যানসারের কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার করলেও সাইনোসাইটিসের ঝুঁকি থাকে।

কীভাবে সাইনাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়?
ডক্টর অথবা স্বাস্থ্যসেবাকর্মী রোগীর বর্তমান এবং অতীত লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সাইনোসাইটিস শনাক্ত করেন। নাকের ভেতরে দেখতে এন্ডোস্কোপ যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়।

সাইনোসাইটিস নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা আছে। যেমন- নাকের এন্ডোসকপি। এ ছাড়া নাসিকা রন্ধ্র থেকে নমুনা (নাসাল সোয়াব) সংগ্রহ এবং জীবাণুর অস্তিত্বের জন্য পরীক্ষা। নাসাল স্ক্যান (কম্পিউটেড টমোগ্রাফি / CT) বা ইমেজিং। অ্যালার্জির পরীক্ষা। বায়োপসি বা নাক থেকে টিস্যুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা।

সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা 
সাইনোসাইটিসের প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে একাধিক চিকিৎসার বিকল্প রয়েছে। সাধারণ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হিসেবে নাসাল ডিকনজেসটেন্ট (জমে যাওয়া নাক পরিষ্কার)-এর ব্যবহার। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার ঠাণ্ডা এবং অ্যালার্জির ওষুধ। নাসাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার। এ ছাড়া রোগীকে প্রচুর পানি পান করতে হয়। যদি সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো ১০ দিন পরও না কমে, তাহলে অতি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কলি