ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা ও করণীয়

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম
থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা ও করণীয়

থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে লিখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিন

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানব শরীরের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ থাইরয়েড হরমোন। এটি কম-বেশি হলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই নির্দিষ্ট মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন থাকা খুব জরুরি। শরীরের বিভিন্ন কোষে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ-জাতীয় খাবারের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করাই এর কাজ। এটি মানব শরীরের বৃদ্ধি, স্নায়ুর গঠন, যৌন ক্ষমতা, প্রজনন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে, ওজন হ্রাস, ক্ষয় হওয়া, মাসিকের সমস্যা ও চোখ ভয়ংকরভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণও এই থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড নামক গ্রন্থি থেকে। এই গ্রন্থি গলার সামনের উঁচু হাড়ের পেছনের দিকে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালিকে প্যাঁচিয়ে থাকে।
থাইরয়েডের হরমোনজনিত সমস্যাকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতাজনিত সমস্যা
থাইরয়েডের গঠনগত সমস্যা (যেমন- গলগণ্ড)
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যানসার।

থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতাবিষয়ক সমস্যা দুই রকম হতে পারে। যেমন- হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম।

হাইপোথাইরয়েডিজম
হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েডের লঘু ক্রিয়া হলো থাইরয়েডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ রোগে পুরুষের চেয়ে নারীরা কয়েক গুণ বেশি ভোগে।

কারণ 
কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম বা জন্মগত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি।  
থাইরয়েড হরমোনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে (একে অটোইমিউন হাইপোথাইরয়েডিজম বলে)।
অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে।
মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি যথেষ্ট টিএসএইচ নিঃসরণ না করলে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকলে।
রক্তে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে।

লক্ষণ 
অবসাদগ্রস্ত হওয়া, অলসতা বা ঘুম ঘুমভাব।
ওজন বেড়ে যাওয়া।
পায়ে পানি আসা।
ক্ষুধামান্দ্য।
চুল পড়া।
ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া।
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া।
মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
কোষ্ঠ কাঠিন্য।
রক্তচাপ বৃদ্ধি।
বন্ধ্যত্ব।
গর্ভপাত।
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া।
শরীরে শীত শীত ভাব।
অনিয়মিত পিরিয়ড ইত্যাদি।

হাইপারথাইরয়েডিজম
রক্তে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে হাইপারথাইরয়েডিজম হয়।  

কারণ
প্রধান কারণ গ্রেভস ডিজিজ, যাতে অ্যান্টিবডি অতিরিক্ত মাত্রায় থাইরয়েডকে উত্তেজিত করলে হাইপারথাইরয়েডিজমের সমস্যা দেখা দেয়। 
অন্যান্য কারণের মধ্যে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের প্রদাহ, ওষুধের প্রতিক্রিয়া, টিউমার ইত্যাদি।

লক্ষণ  
ক্ষুধা বেড়ে গেলেও ওজন কমে।
শরীরে গরম অনুভব।
বুক ধড়ফড় করা।
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
ত্বক কালো হয়ে যাওয়া।
ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া।
চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসা।
অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
পিরিয়ডের সমস্যা।
বন্ধ্যত্ব।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
থাইরয়েড গ্রন্থি ও হরমোনের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে নিচের পরীক্ষাগুলো করা হয়।  

রক্তে হরমোনের মাত্রা।
আল্ট্রাসনোগ্রাম।
রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক ও স্ক্যানটেস্ট।
এফএনএসি।

চিকিৎসা
হাইপো বা হাইপার দুই ক্ষেত্রেই ওষুধের মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ওষুধে কাজ না করলে সার্জারি বা রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিনথেরাপি দেওয়া হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থির গঠনগত সমস্যা
থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গেলে তাকে থাইরয়েড নডিউল বলে। অনেক সময় হরমোন নরমাল থেকেও থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। সাধারণত আয়োডিনের অভাবে গলাফোলা রোগ হয়ে থাকে। যাকে সাধারণ ভাষায় বলে ঘ্যাগ বা গলগণ্ড রোগ।

আয়োডিনের অভাব
বাংলাদেশের মানুষ আয়োডিনযুক্ত লবণ খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ স্কুলগামী শিশু ও গর্ভবতী মায়ের আয়োডিনের অভাব রয়ে গেছে। এ আয়োডিন শরীরে অতিপ্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুঃখের বিষয়, সারা পৃথিবীতে এখনো দুই হাজার মিলিয়ন মানুষ আয়োডিনের অভাবে ভুগছে। কিছু কিছু জিনগত কারণেও থাইরয়েড নডিউল হতে পারে। আবার থাইরয়েড নডিউল বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসার) দুই রকমই হতে পারে।

চিকিৎসা
সময়মতো রোগ নির্ণয় করা গেলে থাইরয়েড নডিউল বা ক্যানসার নিরাময় করা যায়। বিনাইন নডিউলের চিকিৎসা রোগ অনুযায়ী ওষুধ দ্বারা অথবা নডিউল থেকে পানি বের করে অথবা রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন সেবনের মাধ্যমে করা হয়। ক্যানসার হলে অপারেশন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। অনেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন সেবনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে থাইরয়েড হরমোনের সব ধরনের চিকিৎসাই দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। এ জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

অনুলিখন: হৃদয় জাহান

 কলি

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ডাবের পানি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ডাবের পানি

যুগ যুগ ধরে ডাবের পানি একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পানীয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। বহু দেশে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশ্বে সর্বাধিক ডাব উৎপন্ন হয় ইন্দোনেশিয়ায়। তার পরে আছে ফিলিপাইন এবং ভারতবর্ষ। বাংলাদেশের প্রায় সবখানেই ডাব পাওয়া যায়। মাইউপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং নানাবিধ খনিজ পদার্থ যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস থাকে। ইউএসডিএ পুষ্টি তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ০.৩০ গ্রাম আমিষ, ৬.৯৭ গ্রাম শ্বেতসার, ৬.৩৬ গ্রাম চিনি, ৬ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ৬ মিলিগ্রাম ফসফোরাস, ১৭৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৫.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যের উপকারে ডাবের পানি
দেহের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে: শারীরিক পরিশ্রমের পর দেহের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করতে ডাবের পানি পান করা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। পরিশ্রম করার সময় দেহ থেকে যে পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ডাবের পানি তা পূরণ করে। ফলে ক্লান্তি দূর হয়।
বৃক্কে পাথর জমা প্রতিরোধ করে: ডাবের পানি দেহ থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং বৃক্কতে জমতে দেয় না। দেখা গিয়েছে যে, ডাবের পানি বৃক্কতে পাথর জমাতে বাধা দেয় এবং পাথরের সংখ্যা কম রাখে।

ত্বকের উপকার: প্রদাহ এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ডাবের পানি সবচেয়ে কাছের বন্ধু। প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম থাকায় ত্বকের সংক্রমণ এবং বয়সের প্রাথমিক ছাপ পড়াকে প্রতিরোধ করে।

দাঁতে গর্ত হওয়া প্রতিরোধ করে: ডাবের পানিতে থাকে লউরিক অ্যাসিড, যেটি একটি ফ্যাটি অ্যাসিড। লউরিক অ্যাসিডের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ আছে। ফলে দাঁতে গর্ত করা ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিকাশ এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে দাঁত খারাপ হওয়া প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরের স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালগুলো অস্থিতিশীল অণু। অধিক পরিমাণে এই সক্রিয় অক্সিজেন দেহের কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে এবং অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি করতে পারে। অত্যধিক পরিমাণে অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি হলে দেহ নানা রকমের অসুখের শিকার হতে পারে। যেমন- কর্কট রোগ, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস এবং ডায়াবেটিস।

গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। ফলে অক্সিডেটিভ চাপ সৃষ্টি হতে বাধা দেয়। এতে রয়েছে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, ক্যাফেইক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ধরনের ফেনোলিক যৌগ, যেগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলোকে দেহ থেকে বের করে দেয়। একটি প্রিক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দেখাচ্ছে যে, ডাবের পানিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকরভাবে দেহের রক্তচাপ, রক্তের গ্লুকোজ, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা হ্রাস করে এবং দেহের স্বাভাবিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

ত্বকের উপকার: সাধারণ সংক্রমণ, দূষণ এবং ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির বিরুদ্ধে দেহের প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো ত্বক। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের অবস্থা যেমন- চর্ম রোগ, গায়ে ছোপ পড়া এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল থেকে ত্বককে রক্ষা করা জরুরি। গবেষণা দেখিয়েছে যে, ডাবের পানি গায়ে ছোপ পড়া হ্রাস করতে পারে।

কেশ পরিচর্যা: ডাবের পানি চুলের পক্ষে খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ডাবের পানি চুল পড়া এবং চুলের অকালপক্বতা নিবারণ করে। গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে, চুলে ডাবের পানি দিলে চুলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। এ ছাড়া চুলে থাকে ক্যাপ্রাইলিক অ্যাসিড, যার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ আছে। তাই চুলের খুসকি প্রতিরোধ করতে পারে।

উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে অধিক পরিমাণে চর্বি থাকলে সেই অবস্থাকে হাইপারলিপিডেমিয়া বলা হয়। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যাস্করবিক অ্যাসিড উপস্থিত থাকলে চর্বির ওপরে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেখা গেছে, ডাবের পানি মোট কোলেস্টেরল (টিসি) এবং খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা বৃদ্ধি করে।

ডায়াবেটিস: দীর্ঘসময় ধরে হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে অত্যধিক পরিমাণে গ্লুকোজ থাকা) হলে তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। ডাবের পানির হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম করা) ধর্ম আছে। প্রাণীদের নিয়ে করা একটি গবেষণা দেখাচ্ছে যে, ডাবের পানি রক্তের গ্লুকোজ এবং গ্লাইকোসাইলেটেড হেমোগ্লোবিনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোনো কিছুরই অতিরিক্ত ভালো নয়। যদিও ডাবের পানি স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী, তবুও এর কিছু খারাপ প্রভাব এবং অসুবিধা আছে।

হাইপারক্যালেমিয়ার: উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম হাইপারক্যালেমিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। সুস্থ হৃদয় এবং পেশির জন্য পটাশিয়ামের সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রয়োজন। অত্যধিক পরিমাণে ডাবের পানি পান করলে দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে হৃদ-স্পন্দনের তালে বিপজ্জনক এবং মারাত্মক পরিবর্তন আসতে পারে।

রক্তচাপ হ্রাস: ডাবের পানি রক্তচাপ হ্রাস করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি উপকারী। কিন্তু যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তারা ডাবের পানি পরিহার করবেন। কারণ এটি রক্তচাপকে আরও নামিয়ে আনতে পারে।

ডাবের পানি পানে সতর্কতা
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঠাণ্ডা ও সর্দির রোগী, অ্যালার্জির রোগীদেরও ডাবের পানি পানে সতর্ক থাকতে হবে।

 কলি

পাঁজরে ব্যথা যা জানতে ও করতে হবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
যা জানতে ও করতে হবে

পাঁজরে ব্যথা এমন একটি অবস্থা যেখানে বুকের এক দিকে বা দুই দিকে ব্যথা অনুভব হতে পারে। ব্যথা একই সময় একটি বা একটির বেশি পাঁজরে হতে পারে। হেলথলাইন অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

পাঁজরে ব্যথার বিশেষ কিছু উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন- কসটোকন্ড্রাইটিসের ক্ষেত্রে পাঁজরের কোমলাস্থিতে প্রদাহ বা ফোলা দেখা যায় এবং বুকে সংবেদনশীলতা লক্ষ করা যায়। ব্যথা অনুভব হয় উপরের দিকে পাঁজরে এবং স্টারনামের কাছে। যখন এই ব্যথা গুরুতর হয়, তখন উপসর্গগুলোও খারাপ আকার নেয় এবং শরীরের নিম্নভাগে বারবার ব্যথার অনুভব হতে থাকে। এইরকম ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।

একইভাবে, প্লিউরিসি হচ্ছে বুকের দেয়াল ও ফুসফুসের মাঝখানের লাইনিংয়ের একটা প্রদাহ। এই অবস্থার সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো ব্যথা। সাধারণত সমস্যাটা নিজের থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, মানে শ্বাসনালির প্রদাহের কারণেও পাঁজরের চারপাশে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

ফুসফুসে ক্যানসারের জন্যও পাঁজরে ব্যথা হতে পারে, যেটা কাশি বা হাসির সময় আরও বাজে আকার নেয়। এর ফলে সাঁ সাঁ আওয়াজ হতে পারে, কফ এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ক্ষেত্রে, ব্যথাটা জ্বালা, ছুরি মারা অথবা হালকা ব্যথা আকারে হতে পারে।

কারণ
নানা কারণে পাঁজরে ব্যথা হতে পারে। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে কসটোকন্ড্রাইটিস, থোরাসিক স্পাইনে ব্যথা। এ ছাড়া স্টার্নালিস সিনড্রোম যা একটা বিরল সিনড্রোম। এর বৈশিষ্ট্য হলো বুকের দেয়ালে ব্যথা। কোনো আঘাতের কারণে, খেলতে গিয়ে, দুর্ঘটনায়, মারামারি করে বা পড়ে গিয়ে পাঁজর ভেঙে থাকলেও ব্যথা হতে পারে।

পাঁজরে ব্যথা হওয়ার অনিয়মিত কারণগুলোর মধ্যে আছে রিউমাটয়েড (হাড়ে বা গাঁটে ফোলা বা ব্যথা)।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া: পেশিতে ব্যথা এবং শক্তভাব সঙ্গে গাঁটে ব্যথা।
সিকেল সেল অ্যানিমিয়া: রক্তে অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কমে যায় সিকল আকারের লাল রক্তকোষের জন্য।
পলিকন্ড্রাইটিস: কোমলাস্থির প্রদাহ বা ফোলা।
অস্টিওপোরোসিস: মেনোপজের পরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
লিউপাস এরিথেমাটোসাস: একটা অটোইমুন অবস্থা।
স্লিপিং পাঁজর সিনড্রোম: একটা বিরল অবস্থা যেখানে নিচের পাঁজরের কোমলাস্থি স্লিপ করার জন্য ব্যথা হয়।

এ ছাড়া টিউমারস, গলস্টোনস, প্লিউরিসি, পাল্মোনারি এম্বোলিসিম রোগের কারণেও পাঁজরে ব্যথা হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
উল্লিখিত অবস্থাগুলো উপসর্গের থেকে অনুমান করা যেতে পারে। চিকিৎসক প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন। যেমন- বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন মাত্রা।

এগুলো ছাড়াও চিকিৎসক যে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারেন তার মধ্যে আছে অ্যানালজেসিক বা ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া। সাময়িকভাবে শারীরিক চাপ এড়িয়ে চলা। গরম/ঠাণ্ডা প্যাক থেরাপি। ফিজিওথেরাপি ও কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি। রোগের তীব্রতার ক্ষেত্রে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কলি

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) হলো নারীদের এক ধরনের হরমোনাল অসামঞ্জস্যতা। এর ফলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন হ্রাস পায় এবং অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) বৃদ্ধি পায়। নারীদের প্রজনন সময়কালে মূলত এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তবে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে রোগটি বেশি হয়। লিখেছেন নর্দান  ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাসনীম খান

লক্ষণ

 অনিয়মিত অথবা দীর্ঘকালীন ঋতুস্রাব ও মাসিক রক্তক্ষরণ।

 ওজনাধিক্য বা মুটিয়ে যাওয়া (৮০ শতাংশ বা তার অধিক ক্ষেত্রে)।

 অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) নিঃসরণ।

 ওভারিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজকোষ বা গ্রন্থিকোষ সৃষ্টি হয়, যা দেহে অপ্রয়োজনীয় তরল বহন করে এবং ডিম্বাণু নিঃসরণে বাধা দেয়।

 ব্রণ, আঁচিল। মুখ, গলা, বুক, পিঠে অবাঞ্ছিত লোম।

 ত্বকের বিভিন্ন অংশ যেমন- গলা, ঘাড়, স্তন ও বগলে কালচে ভাব দেখা দেয়।

 চুল পড়ে পাতলা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কারণ

জেনেটিক: এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ না থাকলেও কিছু কারণকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম জেনেটিক বা বংশগত। পরিবারের কোনো সদস্যের, বিশেষ করে মা অথবা বোনের এই রোগ থাকলে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছু বেশি থাকে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: ইনসুলিন এক প্রকার হরমোন, যা দেহেই উৎপন্ন হয়। প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এই ইনসুলিন। কিন্তু যখন দেহের কোষগুলো ইনসুলিনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে না, তখন দেহে ইনসুলিনের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। ইনসুলিন ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে তা অ্যান্ড্রোজেনের (পুরুষ হরমোন) উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ নারীরই পিসিওএস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট।

যেসব জটিলতা হতে পারে

প্রজনন সমস্যা: গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজন ওভুলেশন (ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রক্রিয়া)। যেসব নারীর অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষ হরমোন নিঃসৃত হয়, তাদের ওভুলেশনচক্র ব্যাহত হয়। 

মেটাবলিক সিনড্রোম: পিসিওএসে আক্রান্ত হওয়ার দরুন ৮০ শতাংশের অধিক নারী মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতায় ভোগেন। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের মাত্রা কমে যাওয়াজনিত নানা সমস্যা হতে পারে।

ক্যানসার: প্রতি মাসে ওভুলেশন না হওয়ার কারণে ইউটেরাসের সংযোগে এপিথেলিয়ামের পুরুত্ব বেড়ে যায়। ফলে ইউটেরাসে ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

নিদ্রাহীনতা, বিষণ্নতা: দুশ্চিন্তা, অতি উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। নিদ্রাহীনতা হতে পারে।

শনাক্তের উপায়

তিনটি প্রধান লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা রোগীর দেহে পিসিওএসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেন। এগুলো হলো- অধিক অ্যান্ড্রোজেন হরমোন লেভেল, অনিয়মিত মাসিকচক্র এবং ওভারিতে সিস্ট, যা আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া মুখ, বুক ও পিঠে ব্রণ, অবাঞ্ছিত লোম, স্থূলতা, অতিরিক্ত চুল পড়ার প্রবণতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখেও চিকিৎসকরা পিসিওএস সন্দেহ করেন।

প্রতিরোধে করণীয়

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: পিসিওএসের জটিলতা নিরসনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি সঠিক ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত। অস্বাস্থ্যকর এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। দুগ্ধজাত ও চিনিযুক্ত খাবার যত সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ: কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার কম খেলে দেহের ওজনের সমতা বজায় থাকে। তখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়েট (ফলমূল, শাকসবজি ও শস্য থেকে যেসব কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়) মেনে চললে ঋতুস্রাবচক্রে সাহায্য করে। ভালো হয় একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হয়ে পরিপূর্ণ খাদ্যতালিকা মেনে চলতে পারলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: সঠিক মাত্রার ওজন বজায় রাখলে ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ওজন কমালে কোলেস্টেরল ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তখন হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। 

কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম: সপ্তাহে কমপক্ষে তিন থেকে চার দিন ব্যায়াম করলে ডিম্বচক্রের যথেষ্ট উন্নতি হয়। এতে সঠিক ওজন বজায় থাকে এবং ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস পায়। পিসিওএসের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ: অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের একমাত্র উপায় হচ্ছে লেজার হেয়ার রিমুভাল। কোনোভাবেই অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে হেয়ার রিমুভ করা উচিত নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে উন্নতমানের লেজার হেয়ার রিমুভাল ডিভাইসের মাধ্যমে চিকিৎসা হতে পারে।

চিকিৎসা

সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারলে পিসিওএস এবং এর জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। 

অনুলিখন: হৃদয় জানায়

কলি 

ফসফরাসের অভাব হতে পারে যে কারও

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৯ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:২২ পিএম
ফসফরাসের অভাব হতে পারে যে কারও

ফসফরাস আমাদের শরীরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের শরীরে এর প্রচুর চাহিদা আছে। খাদ্যে এই মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টটির অভাবের ফলে নানারকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

শরীরে ডিএনএর মতো বিভিন্ন আনবিক উপাদানগুলোর মধ্যে ফসফরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আবার আমাদের শরীরে যে শক্তির আনবিক এককগুলো উৎপন্ন হয়, তাতেও ফসফরাস থাকে। তবে শরীরে বেশির ভাগ ফসফরাস থাকে হাড়ের মধ্যে, বাকি ফসফরাস শরীরের নরম টিসু বা কলার মধ্যে থাকে। আমাদের শরীরে কোষের বিকাশ এবং খাদ্যকে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য ফসফরাসের প্রয়োজন হয়।

রোগের লক্ষণ
ফসফরাসের অভাবের ফলে নানা রকম উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে আছে হাড়ের উন্নয়নে বা গঠনে সমস্যা। এ ছাড়া হাঁটাচলায় অসুবিধা, দুর্বলতা, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ও মুখের ভিতরে সংক্রমণ। পাশাপাশি হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা ও খিদে কমে যেতে পারে। শিশু এবং বেড়ে ওঠা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ফসফরাসের অভাব হাড়ের বিকৃতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার মতো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ
প্রাথমিকভাবে জাঙ্ক ফুডের মতো স্বল্প পুষ্টির খাবার বা নিম্নমানের খাদ্য খাওয়ার ফলে ফসফরাসের ঘাটতি দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানের মধ্যে ফসফরাস থাকায় এর অভাব খুব একটা দেখা যায় না। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খেলে ফসফরাস শরীরে শোষিত হতে সমস্যা দেখা দেয়। এই ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টাসিড বা অম্লনাশক ওষুধ।

তবে, ম্যাগনেজিয়ামের অভাবের ফলেও শরীরে ফসফরাস শোষিত হতে সমস্যা হয়, ফলে ফসফরাসের অভাব দেখা যায় (আরডিআই অনুসারে)। প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত ১ হাজার এমজি ফসফরাস গ্রহন করা জরুরি।

রোগ নির্ণয়
রক্ত পরীক্ষা করে ও বর্তমান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো দেখে চিকিৎসক ফসফরাসের ঘাটতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ফসফরাসের অভাব কাটিয়ে উঠতে, চিকিৎসক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। স্বাভাবিকভাবে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ফসফরাস অভাব নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে, প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসক মাল্টিভিটামিন সম্পূরক গ্রহণের পরামর্শও দিতে পারেন।

দৈনিক ফসফরাস গ্রহণের পরিমাণ
শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সে ১০০ মিলিগ্রাম।
৭ থেকে ১২ মাস বয়সে ২৭৫ মিলিগ্রাম।
এক থেকে তিন বছর বয়সে ৪৬০ মিলিগ্রাম।
চার থেকে আট বছর বয়সে ৫০০ মিলিগ্রাম।
৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১২৫০ মিলিগ্রাম।
১৯ বছরের পর থেকে ৭০০ মিলিগ্রাম।

ফসফরাস রয়েছে যেসব খাবারে  
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকা মানে আপনি ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার ঠিকঠাক মতোই গ্রহণ করছেন। সাধারণত যেসব খাবারে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, সেগুলো ফসফরাসের ভালো উৎস। যেমন মাছ, মাংস, মুরগির মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার, ডিম, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার। প্রোটিন ছাড়া ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবারগুলো হলো ভূসি ও ভূসিসমেত খাদ্য, আলু, শুকনো ফল এবং রসুন।

কলি

সাইনোসাইটিস কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:২৮ পিএম
সাইনোসাইটিস কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

সাইনাস হলো আমাদের করোটির বা মাথার খুলির অন্তরস্থ চার জোড়া ফাঁকা প্রকোষ্ঠ। এই প্রকোষ্ঠগুলির স্থান আমাদের কপাল, চোখ, নাক ও গালের নিচে। এরা নাসারন্ধ্রের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সাধারণত বাতাসে পূর্ণ থাকে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ভাইরাস সংক্রমণ, ছত্রাক (ফাঙ্গাল) সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির কারণে প্রকোষ্ঠগুলোর ভেতরের আস্তরণকারী টিস্যুতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সাইনোসাইটিস বলে। সিকে বিড়লা হাসপাতালের ওয়েবসাইট অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

সাইনোসাইটিসের কারণে সাইনাসের প্রকোষ্ঠগুলোয় তরল (মিউকাস) পদার্থ জমে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে মুখে চাপ এবং ব্যথা অনুভূতি হতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাক দিয়ে পানি ঝরে। এ ছাড়া অন্যান্য উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও সাইনাসের প্রদাহ হতে পারে। সাইনোসাইটিসকে অনেক সময় রাইনো সাইনোসাইটিসও বলা হয়।

সাইনোসাইটিসের প্রকারভেদ
কতক্ষণ প্রদাহ স্থায়ী হচ্ছে (তীব্র, সাব-একিউট, দীর্ঘস্থায়ী বা পুনরাবৃত্ত-তীব্র) এবং কীসের কারণে (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক সংক্রমণ) প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে সেই অনুসারে সাইনোসাইটিসকে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়। তীব্র সাইনোসাইটিস হলে নাক বন্ধ হওয়া, নাক থেকে পানি ঝরা, মুখের ব্যথা/চাপ এবং গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া। চার সপ্তাহেরও কম সময় ধরে থাকে। এটি সাধারণত সর্দি-কাশির মতো ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়।

সাব-অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে ঘটে। পুনরাবৃত্তি-তীব্র সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো এক বছরে চার বা তার বেশি বার ফিরে আসে।

সাইনাস সংক্রমণের লক্ষণ
দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে নাকের প্রদাহ। এ ছাড়া নাক থেকে ঘন, বিবর্ণ স্রাব (নাক দিয়ে পানি পড়া)। গলায় শ্লেষ্মা জমা হওয়া, কাশি, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা। এ ছাড়া চোখ, গাল, নাক বা কপালের চারপাশে ব্যথা এবং ফোলা ভাব। গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া।

অন্যান্য লক্ষণ এবং উপসর্গের মধ্যে আছে কানে ব্যথা, মাথাব্যথা, উপরের চোয়াল এবং দাঁতে ব্যথা, গলা ব্যথা। এ ছাড়া নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ও শরীরে ক্লান্তি থাকতে পারে।

সাইনাস সংক্রমণের কারণ
সাইনাসের সংক্রমণের কারণগুলো হলো ভাইরাস সংক্রমণ, ছত্রাক সংক্রমণ, সাইনাস প্রকোষ্ঠে অ্যালার্জি, সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা। এ ছাড়া স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, মরাক্সেলা ক্যাটারেলিস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
কিছু মানুষের সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তার কারণ হলো এসব রোগীর আগে থেকে থাকা নাকের অ্যালার্জি, হাঁপানি, নাকের পলিপ, নাকের সেপ্টাম টিস্যুতে চ্যুতি থাকে। এ ছাড়া যাদের নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস, দুর্বল ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এইচআইভি বা ক্যানসারের কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার করলেও সাইনোসাইটিসের ঝুঁকি থাকে।

কীভাবে সাইনাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়?
ডক্টর অথবা স্বাস্থ্যসেবাকর্মী রোগীর বর্তমান এবং অতীত লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সাইনোসাইটিস শনাক্ত করেন। নাকের ভেতরে দেখতে এন্ডোস্কোপ যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়।

সাইনোসাইটিস নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা আছে। যেমন- নাকের এন্ডোসকপি। এ ছাড়া নাসিকা রন্ধ্র থেকে নমুনা (নাসাল সোয়াব) সংগ্রহ এবং জীবাণুর অস্তিত্বের জন্য পরীক্ষা। নাসাল স্ক্যান (কম্পিউটেড টমোগ্রাফি / CT) বা ইমেজিং। অ্যালার্জির পরীক্ষা। বায়োপসি বা নাক থেকে টিস্যুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা।

সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা 
সাইনোসাইটিসের প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে একাধিক চিকিৎসার বিকল্প রয়েছে। সাধারণ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হিসেবে নাসাল ডিকনজেসটেন্ট (জমে যাওয়া নাক পরিষ্কার)-এর ব্যবহার। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার ঠাণ্ডা এবং অ্যালার্জির ওষুধ। নাসাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার। এ ছাড়া রোগীকে প্রচুর পানি পান করতে হয়। যদি সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো ১০ দিন পরও না কমে, তাহলে অতি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কলি