কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মানবতাবোধ নিয়ে এক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট (কলকাতা) ও কৃষ্ণনগর কথাশিল্প।
আগামী রবিবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ৩টায় নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
কবি নজরুল ১৯২৬ সালের ৩ জানুয়ারি বন্ধু হেমন্ত সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে কৃষ্ণনগরের গোলাপট্টিতে যান। ওই বছরেই তিনি থাকতে শুরু করেন চাঁদ সড়ক এলাকায় গ্রেস কটেজে। ছিলেন ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখানেই কবির সৃষ্টিশীল জীবনের অন্যতম গৌরবময় সময় কাটে। রচিত হয় ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস, সূচনা হয় বাংলা সংগীতে ‘গজল’ গানের।
কাজী নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত এই গ্রেস কটেজ ২০১২ সালে হেরিটেজ বিল্ডিং হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সেখানে ‘সুজন বাসর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে নজরুল পাঠাগার। নিয়মিতভাবে সেখানে নজরুলবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান হয়। কাজী নজরুল সারা জীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। মানুষের হয়েই কলম ধরেছেন। তিনি বারেবারে লিখেছেন ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান...’।
কাজী নজরুলের অনুজ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর কবিতায় সমকালীন মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, অভাব, অনটনের কথাই তুলে ধরেছেন। মানুষের দুঃখে তাঁর প্রাণ কেঁদেছে প্রতিনিয়ত। সে কারণেই হয়তো নজরুলের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল হয়েছেন তাঁর কবিতায়। মনীন্দ্র রায় লেখেন, ‘বীরেন্দ্রর সব কবিতাই মানুষের জন্য, মানুষের যন্ত্রণার জ্বালা তীব্র হয়ে বাজে তার কবিতায়...’।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে দুই কবিকে নিয়ে আলোচনা, গান, আবৃত্তি পরিবেশিত হবে। অনুষ্ঠানটির আয়োজক সংস্থা ছায়ানটের (কলকাতা) পক্ষে সোমঋতা মল্লিক প্রথমে এই দুই কবিকে নিয়ে কেন এই আয়োজন সে বিষয়ে আলোকপাত করবেন।
অনুষ্ঠানে ‘মানুষের কবি নজরুল’ বিষয়ে বলবেন দীপাঞ্জন দে, ‘মানুষের কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ বিষয়ে আলোকপাত করবেন পীতম ভট্টাচার্য। এ ছাড়া আমন্ত্রিত শিল্পীরা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশন করবেন।
সালমান/