প্রবন্ধ: মানবকল্যাণ
মূলভাব লিখন
প্রশ্ন: ‘মানবকল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলভাব লেখ।
উত্তর: মূলভাব: মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবকল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত হয়। লেখক বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখতে পান দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আবার রিলিফ, রিহ্যাবিলিটেশন প্রভৃতি শব্দের ব্যবহারও বাড়ছে। তিনি আরও প্রত্যক্ষ করেন রেডক্রসের মতো সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলোকে তিনি এক ধরনের মানব-অপমান বলে মনে করেন। কারণ এসবের মাধ্যমে কখনোই প্রকৃত মানবকল্যাণ সাধিত হয় না। এগুলো মানুষকে ছোট করে রাখার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবকল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত হয়। মানবকল্যাণের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি না করার ফলে আমরা একে সস্তা ও মামুলি বানিয়ে ফেলেছি। বর্তমান সমাজে মানুষ মানবকল্যাণ কথাটিকে ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহার করে থাকে। একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও তারা মানবকল্যাণ বলে মনে করে থাকে। অথচ এতে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ সাধিত হয় না, বরং মানব-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়। ‘মানবকল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক মানবকল্যাণের প্রকৃত তাৎপর্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন অনেকে দুস্থ মানুষকে করুণাবশত দান-খয়রাত করাকে মানবকল্যাণ বলে মনে করেন। কিন্তু লেখকের মতে, এমন কাজ সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। এভাবে কখনোই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব নয়। তার মতে,
আরো পড়ুন : প্রতিদান কবিতার ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর, ৩য় পর্ব
মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াসই হলো মানবকল্যাণ। অর্থাৎ অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানোই ‘মানবকল্যাণ’। তাই প্রাবন্ধিকের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী গড়া সম্ভব। ‘মানবকল্যাণ’ আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কল্যাণমূলক কাজের একটি নাম। এ শব্দের সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক দিক জুড়ে রয়েছে। কিন্তু ‘মানবকল্যাণ’ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে প্রাবন্ধিক সহমত পোষণ করেননি। প্রাবন্ধিকের মতে মানবকল্যাণ হলো সেই কাজ, যা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী ও কল্যাণকর চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রে তার ভাবনা উন্নীত করে। প্রাবন্ধিকের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আর্থিক সহযোগিতা করে কিংবা ক্ষুধা মিটিয়ে মানবকল্যাণের ঢেঁকুর তোলা প্রকৃত মানবকল্যাণ নয়। যে কল্যাণে মানুষের চিন্তা ও মননের উন্নয়ন হয়, ব্যক্তির চেতনাগত উন্নয়ন হয়, মর্যাদাগত সমৃদ্ধি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে তা-ই প্রকৃত ‘মানবকল্যাণ’। তিনি মনে করেন, মানুষের অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবকল্যাণ মূলত মানব-অপমান ছাড়া আর কিছু নয়। প্রকৃত মানবকল্যাণ করার জন্য মানুষকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করা প্রয়োজন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর