রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট হচ্ছে কৃষিপণ্যের মধ্যে চালের মোকাম। এই বাজারে ৩০০-এর বেশি দোকানদার পাইকারি পর্যায়ে চাল বিক্রি করেন। এর মধ্যে জননী অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ অন্যতম। তারা অন্যদের মতো সীমিত লাভ করে পাইকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানির চাল বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, আমদানি করা চালও বিক্রি করছে পাইকারি পর্যায়ে। বোরো ধান ওঠার পর আমদানি করার পরও চালের দাম তেমন করছে না কেন। সমস্যা কোথায়। কারা বেশি লাভ করছে। এসব জানতে খবরের কাগজ থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
খবরের কাগজ: বর্তমানে চালের দাম কেমন?
মো. আব্দুর রশিদ: বিভিন্ন কোম্পানির নির্ধারিত দরে চাল বিক্রি করি। বিনিময়ে সামান্য কমিশন পাই। আবার কারও কাছ থেকে চাল কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করি। খরচ বাদে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভ থাকলেই অনেক। বর্তমানে সিটি গ্রুপের তীর ব্র্যান্ডের সরু বা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭২ টাকা কেজি। পাটোয়ারির মিনিকেট চাল ৭০ টাকা কেজি। অন্য কোম্পানির মিনিকেটও এসব দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মোজাম্মেল কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বেশি হওয়ায় রাখি না। নাজিরশাইল চাল ৬৯ টাকা, দেশি আটাশ চাল সাড়ে ৫৪ টাকা, ভারতের আটাশ ৫৪ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চাল সাড়ে ৫১ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
খবরের কাগজ: চালের দাম বেশি হওয়ার কারণ কী?
মো. আব্দুর রশিদ: রশিদ, সাগর, মোজাম্মেল কোম্পানিসহ অনেক বড় বড় অটো রাইস মিল চালের ব্যবসা করছে। কয়েক বছর থেকে মেঘনা কোম্পানির ফ্রেশ, আকিজ, এসিআই, রুপচাঁদার মতো করপোরেট কোম্পানি বা বিভিন্ন গ্রুপ চালের ব্যবসায় নেমেছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। তারা বেশি করে ধান কিনে গোডাউনে রাখছে। তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ জন্য দাম কমছে না।
খবরের কাগজ: পাইকারি বিক্রেতারা বেশি লাভ করার কারণেই কি চালের দাম কমছে না।
মো. আব্দুর রশিদ: আমরা রাইস মিল থেকে চাল কিনে কেজিতে ৫০ পয়সা বা সর্বোচ্চ ১ টাকা লাভ করলেই অনেক। আবার তাদের নির্ধারিত দরেই চাল বিক্রি করা হয়। শুধু আমরা বস্তাপ্রতি কমিশন পাই। কাজেই আমরা বেশি লাভ করি না। এক দিকে বেশি লাভ করে মিলমালিকরা, অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা। কারণ আমরা বেশি লাভ করলে ক্রেতারা আসবে না।
খবরের কাগজ: সরকার চাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। তারপরও তেমন কমছে না দাম। কারণ কী?
মো. আব্দুর রশিদ: সরকার বলছে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার পরও চালের দাম
কমেনি। বাধ্য হয়েই সরকার চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। আমদানিও হচ্ছে। আমিও ভারতের আটাশ ও মোটা চাল বিক্রি করছি। এর ফলে কিছুটা দাম কমেছে। কারণ বোরো ধান ওঠার পরও মিনিকেট চাল পাইকারিতে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে কিছুটা কমেছে। ৮০ টাকার মধ্যেই কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে মোজ্জামেল, ডায়মন্ড, হরিণ ও দাদা ভাইয়ের চালের দাম আরও বেশি, ৮০ টাকা কেজি। বেশি দাম হওয়ায় এ জন্য এসব চাল বিক্রি করি না।
খবরের কাগজ: সরকার কী করলে চালের দাম কমবে?
মো. আব্দুর রশিদ: মিলমালিকরাই চালের দাম বাড়ায়-কমায়। তাই চালের দাম বেশি মনে হলে মিলে অভিযান চালাতে হবে। কারণ তারা ধান ওঠামাত্র হাজার হাজার বস্তা কিনে গোডাউনে রাখে। কৃষকের ধান শেষ হলেও বেশি দরে এই চাল বিক্রি করে। কাজেই মিলে অভিযান না করলে চালের দাম কমবে না।