এক মেয়ে মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়েছে, প্লিজ ভাইয়া, রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেন। প্লিজ, প্লিজ!
আমি মেয়ের ফেসবুক প্রোফাইল চেক করলাম। সেই লেভেলের সুন্দরী। চেহারা দেখে মনে হলো, একেবারে বোম্বের নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। এমন একজন সুন্দরী মেয়ের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পেয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম।
পাড়ার জ্ঞানী এক ছোট ভাই একদিন বলেছিল, বড় ভাই, আপনারে একটা ফ্রি উপদেশ দিই। মেয়েদের কথা যত বেশি শুনবেন, ততই বেশি বিপদে পড়বেন। অতএব সাবধান। মেয়েদের কাছ থেকে সব সময় ১৫ হাত দূরে থাকবেন। সুন্দরী হলে ২০ হাত।
বলাবাহুল্য, আমার সেই ছোট ভাই নবম প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে এখন দশম মেয়ের পেছনে দৌড়াচ্ছে!
তো এক সপ্তাহ পর আবার সেই মেয়ের মেসেজ, ভাইয়া, আমাকে অ্যাকসেপ্ট করলেন না! মনে খুবই কষ্ট পাইলাম। আমি কিন্তু আপনার ড্রাই হার্ড ফ্যান।
মনে মনে খুশি হলেও অনেক ভেবেচিন্তে মাথা চুলকেও বের করতে পারলাম না, ড্রাই হার্ড ফ্যান কারে কয়।
আমার চেহারা ছবি সুন্দর না, কলসির মতো ভুঁড়ি, কাইল্যা ভূত, এই কথাটা আমার বউ সকাল-বিকেল মনে করিয়ে দেয়। মা ছাড়া জীবনেও কেউ আমার খোমার প্রশংসা করে নাই, তার আবার ড্রাই হার্ড ফ্যান! কিন্তু এর মানে কী?
অর্থ জানার জন্য গেলাম সেই ছোট ভাইয়ের কাছে। ছোট ভাই সব শুনে বিজ্ঞের মতো করে বলল, এমন বেক্কল মার্কা বুদ্ধি লইয়া লেখক হইতে আসছেন? আপনি তো রিকশাওয়ালা হওয়ারও যোগ্য না। আরে মিয়া! ড্রাই হার্ড ফ্যান মানে হইল গিয়া শক্ত একটা শুকনা ফ্যান। ফ্যান কি শুকনা আর শক্ত থাকে না? মাখনের মতো নরম ফ্যান জীবনে দেখছেন?
খাঁটি কথা। অর্থ জেনে সঙ্গে সঙ্গে সেই মেয়ের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলাম। ও মা! এরপর তার আর কোনো পাত্তা নাই। একেবারে ডুব মেরে গেছে। অথচ, সে আমার ড্রাই হার্ড ফ্যান!
মেয়েটা মাঝে মাঝে চিত হয়ে, উপোত হয়ে, কাত হয়ে, জিভ বের করে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়, আমার লেখার দিকে ফিরেও তাকায় না! আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি। এরপর কয়েকদিন ফেসবুকে না দেখে একদিন মেসেজ দিলাম, আপা, আছেন না গেছেন?
উত্তর এল, কই যামু?
— না মানে, ভাবছিলাম মরে টরে গেলেন কি না। কোনো আওয়াজ নাই!
— ভাইয়া, আপনি খুব রসিক মানুষ। আমি আসলে কিছুদিন ধরে খুবই ইজি...
— আপা রে! শব্দটা ইজি নয়, বিজি।
— সরি, ভাইয়া।
— আপা নিশ্চয় ঢাকা কলেজের ছাত্রী?
— ওমা! আপনি জানলেন কেমনে? আমি তো আসলেই ঢাকা কলেজের ছাত্রী।
— কারও সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেই আমি বুঝতে পারি, কে কোন কলেজে পড়ে। আপনি ঢাকা কলেজের ছাত্রী জেনে খুবই খুশি হলাম। আমি ওই কলেজে চান্স পাই নাই। ফেল্টু মার্কা ছাত্র তো।
— ভাইয়া কি দেশের বাইরে থাকেন?
— বইন রে! ঘরের ভেতর থাকি। দেশের বাইরে বলতে নোয়াখালী আর বরিশাল গেছি। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল। ভালো থাকবেন। আর যদি মরে টরে যান, মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে জানাইয়েন।
মেয়েটা লিখল, অবশ্যই জানাবো ভাইয়া অবশ্যই!