ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

আজানের জবাব ও দোয়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৪ এএম
আজানের জবাব ও দোয়া
মসজিদে নববির বর্তমানের একজন মুয়াজ্জিন। ছবি : হারামাইন

আজান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের অন্যতম বিধান নামাজ। আজান আরবি শব্দ। ইসলামের ফরজ বিধান নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ আহ্বানকে আজান বলা হয়। দিনে পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন। 

আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত। আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপ বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবে। (মুসলিম, হাদিস: ৩৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, এর জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে। আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। যেমন মুয়াজ্জিন যখন বলবে ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’ শ্রোতাও এটাই বলবে, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’। এভাবে মুয়াজ্জিন যা যা বলবে শ্রোতাও তাই বলবে। (মুসলিম, হাদিস: ৩৮৫)
 
আজানের দোয়ার বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াব আসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়া আত্তাহ।’

আজানের দোয়ার বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের তুমিই প্রভু। মুহাম্মদ (সা.)-কে দান করুন ওয়াসিলা ও সুমহান মর্যাদা এবং তাঁকে ওই প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৮৭)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

জোহরের নামাজ কয় রাকাত, শুরু ও শেষ সময় কখন?

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৩১ এএম
জোহরের নামাজ কয় রাকাত, শুরু ও শেষ সময় কখন?
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত নামাজরত ব্যক্তির ছবি।

আল্লাহতায়ালা মানুষের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যথা—

  • আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা।
  • নামাজ কায়েম করা।
  • জাকাত আদায় করা।
  • রমজানের রোজা পালন করা।
  • হজ করা।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘সব নামাজের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সঙ্গে দাঁড়াও। তোমরা যদি (শত্রুর) ভয় করো, তবে দাঁড়িয়ে বা আরোহী অবস্থায় (নামাজ পড়ে নাও)। এরপর তোমরা যখন নিরাপদ অবস্থা লাভ করো, তখন আল্লাহর জিকির সেভাবে করো, যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, যা সম্পর্কে তোমরা অনবগত ছিলে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮-২৩৯)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে জোহরের নামাজ অন্যতম। আল্লাহর রাসুল মিরাজ থেকে ফিরে এসে প্রথম জোহরের নামাজ আদায় করেছেন। জোহরের নামাজ মোট ১০ রাকাত। প্রথমে চার রাকাত সুন্নত। তারপর চার রাকাত ফরজ। তারপরে দুই রাকাত সুন্নত। এ ছাড়া আরও সুন্নত নামাজও পড়া যায়।  

জোহরের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ
দ্বিপ্রহর থেকে সূর্য যখন একটু পশ্চিম দিকে হেলে যায় তখন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। প্রতিটি জিনিসের আসল ছায়া ছাড়া তার ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের সময় থাকে। জুমা আর জোহরের নামাজের ওয়াক্তও এক। (বাহরুর রায়েক, ১/৪২৩)

শীতকালে জোহরের নামাজ তাড়াতাড়ি পড়া ভালো। গরমের দিন একটু দেরি করে পড়া ভালো। তবে জুমার নামাজ সব মৌসুমে শুরুর সময়ে পড়া উত্তম। (বাহরুর রায়েক, ১/৪২৯)

আবু বারজা আসলামি (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জোহরের নামাজ সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন।’ (বুখারি, ৫৪৭)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

দেনমোহর সর্বনিম্ন কত টাকা?

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৪ এএম
দেনমোহর সর্বনিম্ন কত টাকা?
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

নারী-পুরুষের পারস্পরিক ভালোবাসা, প্রশান্তির জীবনযাপন এবং পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আল্লাহতায়ালা বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিয়ে করো তোমাদের পছন্দের নারীদের থেকে, দুজন অথবা তিনজন অথবা চারজন; কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না, তা হলে মাত্র একজন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩) 

বিয়ে নবিজি (সা.)-এর সুন্নত
বিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত, যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কেননা আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘চারটি জিনিস নবিদের চিরাচরিত সুন্নাত— ১. লজ্জা-শরম ২. সুগন্ধি ব্যবহার ৩. মেসওয়াক করা ও ৪. বিবাহ করা।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১০১৮) ‍

দেনমোহর নারীর অধিকার
বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা অপরিহার্য। দেনমোহর নারীর অধিকার ও সম্মান। কোনোভাবেই নারীকে মোহর থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো। যদি তোমরা তাদের দেনমোহর প্রদান করো বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৫)

দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ
দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারিত নেই। স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে দেনমোহর দিতে হবে। তবে এমন মোহর নির্ধারণ করা যাবে না, যা স্বামীর পক্ষে আদায় করতে কষ্টকর হয় বা স্ত্রীর জন্য লজ্জাজনক হয়। ইসলামি শরিয়তে নারীর প্রকৃত অধিকার হলো ‘মোহরে মিছাল’। ওই নারীর বংশে তার মতো অন্য নারীদের সাধারণত যে মোহর নির্ধারণ করা হয়, সেটা তার মোহরে মিছাল। তার বংশে এমন নারী না থাকলে অন্য বংশে তার সমপর্যায়ের নারীদেরটা দেখতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘বিত্তবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবন-জীবিকা সীমিত, আল্লাহ যা দান করেছেন সে তা থেকে ব্যয় করবে...।’ (সুরা তালাক, আয়াত: ৭)

দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ 
মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১০ দিরহাম। এর কমে মোহর দেওয়া যাবে না। ১০ দিরহামের পরিমাণ বর্তমান হিসাবে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপা।  পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপার বাজারমূল্য ধরে মোহর দিতে হবে। সর্বনিম্ন মোহর দিতে গিয়ে নারীকে ঠকানো যাবে না। সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর দিতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারীদের মোহর দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৪)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

কোরআন পাঠের গুরুত্ব ও উপকারিতা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
কোরআন পাঠের গুরুত্ব ও উপকারিতা
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত কোরআনের ডিজাইন করা ছবি

কোরআন আল্লাহর কালাম (কথা)। আল্লাহর সঙ্গে একান্তে নিভৃতে কথোপকথনের মাধ্যম। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত না করলে তা হৃদয় থেকে হারিয়ে যায়। হৃদয়ে কোরআন সংরক্ষণের উপায় হলো, নিয়মিত পাঠ ও তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। হাদিসে কোরআন পাঠের ব্যাপারে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কোরআনের প্রতি যত্নবান
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এই কোরআনের প্রতি যত্ন নাও (নিয়মিত পড়ো ও চর্চা করো), সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, উট যেমন তার রশি থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কোরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে যায়।’ (রিয়াজুস সালেহিন, ১০০৯)

কোরআনশূন্য অন্তরের উপমা
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআনের কোনো অংশই যে ব্যক্তির পেটে নেই, সে পেট বিরান ঘরের মতো।’ (রিয়াজুস সালেহিন, ১০০৭)

কোরআন পাঠের উপকারিতা
১. কোরআন পাঠে ঈমান বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ২)
২. কিয়ামতের দিনে পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, তোমরা কোরআন পাঠ করো। কেননা কিয়ামত দিবসে কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আগমন করবে।’ (রিয়াজুস সালেহিন, ৯৯৮)
৩. কোরআন মর্যাদাপূর্ণ। যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়, সেও সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়। উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে কোরআন শিখে ও অপরকে শেখায়।’ (রিয়াজুস সালেহিন, ১০০০)
৪. আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(কিয়ামতের দিন) কোরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাক ও ওপরে আরোহণ করতে থাক এবং দুনিয়াতে যেভাবে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে ঠিক সেভাবে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে থাক। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে, সেখানেই তোমার জায়গায়।’ (তিরমিজি, ২৯১৪)

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া ঈমাম আবু হানিফা (রহ.), ঢাকা

গর্ভবতীদের প্রতি উপদেশ

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
গর্ভবতীদের প্রতি উপদেশ
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত গর্ভবতী নারীর ছবি

নারীদের গর্ভের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নারীর সুস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে সন্তানের সুস্বাস্থ্য এবং বেড়ে ওঠা। এই সময় নারীর জন্য রয়েছে বেশ কিছু করণীয়-বর্জনীয়। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো

কৃতজ্ঞতা আদায়: সন্তান আল্লাহর দেওয়া বড় নেয়ামত। এই নেয়ামতের মাধ্যমে নারীজীবন পূর্ণতা পায়। সন্তান গর্ভে আসার সৌভাগ্যে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত। দুই রাকাত নামাজ আদায় করা প্রয়োজন। আবু বকর (রা.) বলেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কোনো খুশির খবর আসত অথবা তাকে কোনো সুসংবাদ দেওয়া হতো, তখনই তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায় করতেন।’ (আবু দাউদ, ২৭৬৫)

ধৈর্য ধারণ করা: গর্ভকালে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। প্রচুর সাহস বুকে রাখতে হবে। কোনো সমস্যার কারণে মোটেও ধৈর্যহারা হওয়া উচিত নয়। এ সময় ঈমানের শক্তিতে কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা চালাতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩) 

অধিক চিন্তা পরিহার করা: নবাগত সন্তান নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা মাথায় রাখা ভালো। বাজে চিন্তা পরিহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মায়ের চিন্তার প্রভাব সন্তানের ওপর প্রতিফলিত হয়। তাই ভালো চিন্তার জন্য কোরআন-হাদিস, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত ও ইসলামি মনীষীদের জীবনী পাঠ করতে হবে। 

গুনাহমুক্ত থাকা: গুনাহমুক্ত জীবন গঠন করা মুমিন নারী-পুরুষের প্রধান করণীয়। অন্তঃসত্ত্বাদের গুনাহমুক্ত থাকাটা বেশি প্রয়োজন। গর্ভকালীন নারীর চাল-চলন ও আমলের প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে। মা যদি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও অশ্লীল কাজকর্ম করে বেড়ায়‌, তাহলে সন্তান তার মতো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মা দ্বীনের পথে চললে সন্তান উত্তম চরিত্রের আদর্শ মানুষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা মাতৃগর্ভের জন্য একজন ফেরেশতা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব, এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব, এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব, এখন গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। এরপর আল্লাহতায়ালা যখন সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞাসা করেন, পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগা? রিজিক ও বয়স কত? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, ৩১২)

সতর্কতা অবলম্বন করা: গর্ভাবস্থায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ সময় যথেষ্ট বিশ্রাম ও আরাম করা দরকার। চলাফেরায় তাড়াহুড়ো এবং ভারী কাজ বিপদের কারণ হতে পারে। কোরআনে নারীদের মাতৃত্বকালের কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়– ‘নিচের দিক থেকে তাকে ডাক দেওয়া হলো, তুমি দুঃখ করো না, তোমার প্রতিপালক তোমার পাদদেশ দিয়ে এক নির্ঝরিণী প্রবাহিত করে দিয়েছেন। খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে তুমি তোমার দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা-পরিপক্ব খেজুর পতিত করবে।’ (সুরা মরিয়ম, আয়াত ২৪-২৫) 

দোয়া করা: গর্ভকালে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। নেক, সুস্থ ও সুন্দর সন্তান কামনা করে দোয়া করা একান্ত কর্তব্য। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করেন আর তোমাদের পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করেন? আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাসক আছে কি? অতি সামান্য উপদেশই তোমরা গ্রহণ কর।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৬২) 
কোরআনের বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া যেতে পারে। যেমন–বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি হাবলি মিন লাদুনকা জুররিয়াতান তাইয়িবাতান ইন্নাকা সামিউদ্দুয়া। বাংলা অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৮) 

লেখক: আলেম ও গবেষক

 

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ক্ষতি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ক্ষতি
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ছবি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শে আমাদের জন্য রয়েছে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ। নবিজি (সা.) ছোট-বড় সব বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা যাপিত জীবন আমরা কীভাবে কাটাব তা সবিস্তারে বলে দিয়েছেন। সালমান ফারসি (রা.) বলেন, ‘একবার তাকে বলা হলো, তোমাদের নবি (সা.) তোমাদের সব কাজই শিক্ষা দেন; এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার পদ্ধতিও! তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় কিবলামুখী হয়ে বসতে, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে, তিনটি ঢিলার কম দিয়ে শৌচকার্য করতে এবং গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে।’ (মুসলিম, ৪৯৯)

বসে প্রস্রাব করা 
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবীয় প্রয়োজন পূরণে শরীর ও স্বাস্থ্যের আরামের প্রতি লক্ষ রেখেছেন। তাঁর অন্যতম একটি সুন্নাহ হচ্ছে, বসে প্রস্রাব করা। আমাদের সমাজের অনেকের মাঝে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার প্রবণতা রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘কেউ যদি তোমাদের বলে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তবে তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করো না। তিনি বসা ছাড়া প্রস্রাব করতেন না।’ (তিরমিজি, ১২)

বসে প্রস্রাব করাই স্বাস্থ্যসম্মত  
অনেকেই মনে করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাই সভ্যতা ও ভদ্রতা। কিন্তু আমাদের নবি (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন বসে প্রস্রাব করার জন্য। তাহলে আমি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা সভ্যতা বা ভদ্রতা কীভাবে মনে করি। আর বর্তমান বিজ্ঞানও এ কথা স্বীকার করে যে, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ডাক্তাররাও বলেন, বসে প্রস্রাব করাই স্বাস্থ্যসম্মত।

চিকিৎসকরা বলছেন, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ফলে প্রস্রাবের থলি সরু ও লম্বা হয়ে ঝুলতে থাকে। এর কারণে প্রস্রাবের দূষিত পদার্থগুলো সেই থলির নিচে জমা হয়ে যায়। কিন্তু কেউ যদি বসে প্রস্রাব করে তাহলে বসার কারণে সেই থলিতে চাপ লাগে, ফলে সহজেই সেই দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।

জটিল রোগে আক্রান্ত
যারা নিয়মিত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে তারা বার্ধক্যে নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হন। কারণ, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার কারণে পেটের ওপর কোনো ধরনের চাপ পড়ে না। আর এই চাপ না পড়ার কারণে পেটের ভেতরে যদি কোনো দূষিত বায়ু থাকে তা ওপরের দিকে উঠে যায় এবং এটি রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। এভাবে সবসময় যদি চলতে থাকে, শেষ বয়সে জটিল রোগে আক্রান্ত হতে হয়। 
তাছাড়া প্রস্রাব হলো রোগ-জীবাণু দ্বারা পরিপূর্ণ একটি পদার্থ। কখনো এর মধ্যে রোগের কারণে মূত্রদ্বারে জ্বালাপোড়া, পুঁজ, রক্ত নির্গত হওয়া ও কিডনিতে ইনফেকশন ইত্যাদি বিদ্যমান থাকার কারণে তা প্রস্রাবের সঙ্গে বিদ্যমান থাকে। অতএব দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে এর ছিটা শরীর ও কাপড়ে লেগে যায়।

কখন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা যাবে
অসুস্থতার দরুন কিংবা বসার মতো সুন্দর জায়গা না থাকলে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি রয়েছে। তবে এটি অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না। শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরুহ; আর এটাই হানাফি মাজহাবের মত। (ফতোয়ায়ে শামি, ১/৩৪৪; ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ১/৫০)। হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘নবি (সা.) একবার গোত্রের আবর্জনা ফেলার স্থানে এলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। তারপর পানি চাইলেন। আমি তাঁকে পানি নিয়ে দিলাম। তিনি অজু করলেন।’ (বুখারি, ২২৪)
বসে প্রস্রাব করাই ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অভ্যাস। এই একটি মাত্র স্থানেই তাঁর অভ্যাসের ব্যতিক্রম পাওয়া যায়। এর কারণ সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোমর ব্যথার কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। (বায়হাকি, হাকেম) সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত সচেতনভাবে যেকোনো পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকা। 

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক