একসময় চিকিৎসক হিসেবে হোজ্জার বেশ সুনাম ছিল। একদিন গ্রামের জমিদার এলেন তার কাছে। বললেন, ‘বড় মুটিয়ে যাচ্ছি হোজ্জা, মেদ কমাতে চাই। একটু ওষুধ দাও।’
হোজ্জা অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘ওষুধ আমি দেব না। দিন আপনার ফুরিয়ে এসেছে। দিন পনেরোর মধ্যেই আপনি মারা যাবেন।’
ভয়ে-ভাবনায় জমিদার টলতে টলতে বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। খাবারে তার রুচি নেই। চা ভালোবাসতেন, সেই চা-ও আর ভালো লাগে না। ঘুম আসে না। চোখে সামান্য একটু তন্দ্রামতো এলেও ক্ষণে ক্ষণে চমকে ওঠেন দুঃস্বপ্নে। মোসাহেব-ইয়ার-বন্ধুপরিবৃত হয়ে আড্ডা মারা, গল্পগুজব করাতেও তার আর ইচ্ছে নেই। তাড়াতাড়ি হারিয়ে গেল সেই উজ্জ্বল দিনগুলো! দেহখানা শুকিয়ে প্রায় কাঠ।
পনেরোটা দিন পর যখন তিনি মরলেন না, তখন এলেন হোজ্জার কাছে। বললেন, ‘এদিকে আয় ব্যাটা হাতুড়ে ডাক্তার, দ্যাখ, বহাল তবিয়তে আমি তোর সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছি। মরিনি। পনেরো দিন পরে আপনি মারা যাবেন- কী আমার গণক ঠাকুর রে!’
হোজ্জা বললেন, ‘রাগ করবেন না, জমিদার হুজুর। নিজের শরীরের দিকে চেয়ে দেখুন। রোগা হতে চেয়েছিলেন, রোগা করে দিয়েছি। এখন চিকিৎসাবাবদ পারিশ্রমিকের টাকাটা দিয়ে দিন।’