বিএনপির কান্ডারি হিসেবে তারেক রহমানের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাও রয়েছে অনেক। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন নতুন আশার সঞ্চার করছে। তার এই প্রত্যাবর্তন যখন হলো তখন দেশ কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক সংকটে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের স্থিতিশীলতা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন অনেকেই। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনে থেকে দল পরিচালনা করলেও এখন তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই বিশাল কর্মী বাহিনীকে সামলাবেন, যা হবে তার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাও তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তার ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মী ও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের আস্থা কতটা ফেরাতে পারবেন সেদিকে নজর থাকবে অনেকের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তারেক রহমানকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানোর কাজটি এখনই করতে হবে। আবার নির্বাচনে জয়লাভের পর ক্ষমতায় গেলে তাকে আরেক ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামো মেরামত করাই হবে বড় কাজ। এ ছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্কেও উন্নতি ঘটাতে হবে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটিয়েছে। দেশকে আরও উঁচুতে তুলে ধরার জন্য অপার সুযোগ এসেছে। একটি সফল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই হবে তার নেতৃত্বের আসল সার্থকতা।
বিএনপির একাধিক নীতি-নির্ধারক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাকে বেশ কিছু জাতীয় সংকটের সমাধান করতে হবে। এর অন্যতম হলো দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা। উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে দেশ এখন কঠিন সংকটে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হবে তার বড় পরীক্ষা। এ ছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার এবং একে দলীয়করণমুক্ত করার কাজটিও হাতে নিতে হবে। পেশাদার ও নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলাই হবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটানো এবং পুলিশ বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করার কথা তাকে ভাবতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে তারেক রহমানকে দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগামী দিনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার জন্য ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে বিরোধীদল ও বিরোধী মতের মানুষের বক্তব্য শুনতে হবে। দেশ পরিচালনার জন্য তাদের মতামত নিতে হবে। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে নেই। তাকে দুর্নীতি কঠোর হাতে রোধ করতে হবে। দুর্নীতিবাজ নিজ দলের লোক হলেও তাকে ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।
তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন এখন তাকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী আমরা লক্ষ্য করেছি, চাঁদাবাজি এবং দখল বাণিজ্যের কারণে বিএনপির অনেক সমালোচনা হচ্ছে। দলের কতিপয় সুবিধাবাদী এ ধরনের অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে দলের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা যায়। তারেক রহমান তার যোগ্য নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন। আগামী তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে তার নীতি কৌশল এবং পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন এটাই প্রত্যাশা।