ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
Nagad desktop

প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫৪ এএম
প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান দেশের একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার। এই খাতে তার অভিজ্ঞতা ৪১ বছরেরও বেশি। তিনি ২০১৪ সাল থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে ব্যাংকটির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ২৬ বছর অতিক্রম করেছে ব্যাংকটি। এই দীর্ঘ যাত্রার পথপরিক্রমা, সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ ব্যাংক খাতের নানা দিক নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মৃত্তিকা সাহা। 

খবরের কাগজ: মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গত ২৬ বছরের যাত্রা কেমন ছিল? এ সময়ে ব্যাংকটির বড় অর্জন কী?
মতিউল হাসান: আমাদের ব্যাংক অনেক খাতেই গত ২৬ বছরে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। ১৫২টি শাখা, ৪৭টি উপশাখা, ১৮৮টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, ২০০টি এটিএম বুথ, ৪টি সিআরএমসহ বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ে সারা দেশে গ্রাহকদের পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারছে। এ ছাড়া ৩টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে। ইউকে এক্সচেঞ্জ হাউস সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের ব্যাংকে ইসলামী পরিসেবা চালু আছে। ৪৫টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো আছে। দিলকুশায় ১টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আছে। প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক, ৩৪ হাজার কোটি টাকার ডিপোজিট, ৩০ হাজার কোটি টাকার অ্যাডভান্সসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটের আকার এখন ৪৫ হাজার কোটি টাকা। গত ২৬ বছরে ব্যাংকিং খাতে রক্তক্ষরণের মুহূর্তে গ্রাহকের আমানতের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে আমাদের ব্যাংক। এটাই গত ২৬ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

খবরের কাগজ: দেশের ব্যাংকিং খাতে সংকট চলছে। এ অবস্থায় আপনাদের ব্যাংক কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে?
মতিউল হাসান: ব্যাংকিং খাতে সংকট চলছে, এটা সত্যি। এর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সুদৃঢ় অবস্থানে আছে। আমরা গ্রাহকের আমানতের দাবি পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পেরেছি। প্রায় ২০০ শাখা-উপশাখায় গত দুই যুগে আমানতকারীর কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। 

খবরের কাগজ: কর্পোরেট থেকে বের হয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক গত কয়েক বছর সিএমএসএমই, কৃষিসহ ছোট ঋণে গুরুত্ব দিয়েছে। এক্ষেত্রে অগ্রগতি কতটুকু? 
মতিউল হাসান: গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পণ্য ও সেবা, যেমন- চাকা, নারী উদ্যোক্তা ঋণ- অনন্যা, সমৃদ্ধি, মৌসুমি, সঞ্চালক, উন্মেষ, উদয়ন, কৃষি ঋণ- নবান্ন ইত্যাদি চালু করেছে। এসএমই এবং কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছে ১২১ দশমিক ৫ এবং ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ২৫ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতে বিতরণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে লক্ষ্য দিয়েছিল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক তার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে।

খবরের কাগজ: দেশে বড় আকারের বিনিয়োগে ধীরগতি চলছে। এ অবস্থায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সিএমএসএমই খাতে বাড়তি মনোযোগ ও সহায়তার প্রয়োজন আছে কী? 
মতিউল হাসান: কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় আকারের বিনিয়োগের চেয়ে এমএসএমই খাতের বিনিয়োগ বেশি ভূমিকা পালন করে। এই খাতে দক্ষ, কমদক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিকেরও কর্মসংস্থান সম্ভব। দেশের শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই এমএসএমই খাতে হয়। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়লে আয় বাড়ে, আয় বাড়লে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটা গুণিতক প্রভাব কাজ করে যা প্রবৃদ্ধি বাড়ায়। তবে ফরওয়ার্ড লিংকেজ হিসাবে এসএমই খাতের বিকাশের জন্য বড় আকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের মতো শ্রমঘন দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এমএসএমই খাতকে একটা অপরিহার্য খাত বলা যেতে পারে। তাই এই খাতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশে সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন এখনো ব্যাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত অনুপাত অর্জন করতে পারেনি। এ খাতে আরও অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। 

খবরের কাগজ: এমএসএমই খাতের অনেক উদ্যোক্তা এখনো ব্যাংকঋণ পাচ্ছেন না। তাদের জন্য ঋণের সুবিধা নিশ্চিত করতে আপনাদের ভাবনা বা উদ্যোগ কেমন?
মতিউল হাসান: পর্যাপ্ত তথ্য এবং সহায়ক জামানতের অভাব এমএসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ সুবিধার বাইরে থাকার অন্যতম কারণ। তথ্য সরবারহের বিষয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারও কিছু ভূমিকা পালন করতে পারে। জামানতের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ছাড়া ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কিছু স্কিম চালু করা যেতে পারে যা জামানতের বিকল্প হিসাবে কাজ করবে। তবে এক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও ভূমিকা রয়েছে। ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের আরও নিষ্ঠাবান হতে হবে, যা তাদেরকে পরবর্তী ঋণ প্রাপ্তিতে সহয়তা করবে।

খবরের কাগজ: এ মুহূর্তে ব্যাংকের কোন দিকগুলোর অগ্রগতিকে বেশি প্রধান্য দিচ্ছেন?
মতিউল হাসান: ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো দেশের আপামর জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে দেশের অর্থনীতির গতিকে বেগবান করা। সে লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করছি। মার্কেন্টাইল ব্যাংককে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের যেসব নতুন পরিকল্পনা রয়েছে তার মধ্যে অগ্রাধিকার খাতগুলো হচ্ছে- শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় জোরদার করা। আর্থিক খাতে বিদ্যমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংক তহবিল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অত্যাধুনিক ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণ করা। ঋণ বিতরণে কৃষি ও এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং প্রান্তিক এলাকায় উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।

খবরের কাগজ: খেলাপি ঋণের উচ্চহার দেশের ব্যাংক খাতের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অবস্থা কেমন? 
মতিউল হাসান: দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ২০২১ সাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকও এ ঝুঁকি থেকে শতভাগ মুক্ত নয়। তবে আমরা এ ঝুঁকি মোকাবিলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে আমরা শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পেরেছি। আমাদের ব্যাংকের কোনো মূলধন ঘাটতি নেই। এতে ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। খেলাপি ঋণকে ভালো ঋণে রূপান্তর করতে আমরা বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছি। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ঋণ আদায়, পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে ঋণের গুণগত মান ভালো রাখার লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করছি। 

খবরের কাগজ: মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলেন।
মতিউল হাসান: মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালের ২৯ জুন, ১০টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে। ‘তাক্বওয়া’ নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে যার স্লোগানটি হচ্ছে, ‘ধর্মীয় আস্থায় ব্যাংকিং’। ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক ইসলামিক ব্যাংকিং’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য দেশের খ্যাতনামা শরীয়াহ্ স্কলারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বতন্ত্র শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করার মাধ্যমে গ্রাহকদের ভালো সাড়া পাওয়ায় আমরা বর্তমানে একটি পূণার্ঙ্গ ‘ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা’ ও ৪৫টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছি। চট্টগ্রামে আরও একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা (খুলশি শাখা) চালু হতে যাচ্ছে যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বর্তমানে এই শাখাটিতে প্রচলিত ব্যাংকিং থেকে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তা ছাড়া ঢাকার দিলকুশায় অবস্থিত আমাদের পূণার্ঙ্গ ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সারা দেশে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সকল শাখা ও উপ-শাখায় ইসলামিক ব্যাংকিং সার্ভিস ডেস্কের মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ করেছি। বর্তমানে ১৫২টি শাখা ও ৪৭টি উপশাখার মাধ্যমে আমরা ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছি। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খবরের কাগজ: মার্কেন্টাইল ব্যাংক ঘিরে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মতিউল হাসান: মার্কেন্টাইল ব্যাংকের স্লোগান হলো ‘বাংলার ব্যাংক’। গত ২৬ বছরে ব্যাংকটি ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছে। দীর্ঘ এ সময়ে ব্যাংকটি গ্রাহকদের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হতে পেরেছে। প্রযুক্তিতে মার্কেন্টাইল ব্যাংক বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। এ প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট চালু করতে পারব। নিরবচ্ছিন্ন আইটি সার্ভিস নিশ্চিত করতে ধানমন্ডিতে নিজস্ব ভবনে এমবিএল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল অ্যাপ ‘রেইনবো’ দিয়ে আমরা গ্রাহকদের ১৬টি সেবা দিতে পারি, যা বাংলাদেশে শীর্ষ ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর সেবার সমকক্ষ। আমাদের পরিকল্পনা হলো সারা দেশের আনাচে-কানাচে তথা সব এলাকার মানুষ যেন ব্যাংকিং সেবা পায় সেই প্রচেষ্টা চালু রাখা। এটি এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্বপ্ন ছিল। আগামীতে তার সফল বাস্তবায়ন হবে। ২০২৫ সালের মধ্যেই আমরা পুরোপুরি সেন্ট্রালাইজেশন মডেলে নিয়ে আসতে চাই।

খবরের কাগজ: মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আমানতকারীসহ গ্রাহকদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কি? 
মতিউল হাসান: ২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা আশাবাদী। আমাদের কর্মকৌশলের মূলে থাকবে সর্বাধুনিক সেবা নিশ্চিত করা, গ্রাহককেন্দ্রিকতা, পরিচালন দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল রূপান্তর। দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সুদৃঢ় অবস্থান আরও সুসংহত করার প্রয়াস চালিয়ে যাব। এ লক্ষ্যে ঋণ ও অগ্রিমের ক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুসরণ অব্যাহত থাকবে। তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক সুষম আমানত কাঠামো মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে রিটেইল আমানত বৃদ্ধির মাধ্যমে করপোরেট আমানতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোয় জোর দেওয়া হবে। আমরা ব্যাংকের যেসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিলাম, তা কমিয়েছি এবং ফি ও কমিশনভিত্তিক ব্যবসার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, শুরু থেকেই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাফল্য ও প্রবৃদ্ধির পেছনে গ্রাহকই অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সামনের দিনগুলোয় তাদের এ সহযোগিতা ও আস্থা অব্যাহত থাকবে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘বাংলার ব্যাংক’। বাংলার আপামর জনসাধারণ, আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই।

সাক্ষাৎকারে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাজেটে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নসহ ১০ বিষয়েগুরুত্ব দেওয়া হবে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
বাজেটে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নসহ ১০ বিষয়েগুরুত্ব দেওয়া হবে
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: খবরের কাগজ

আজ ঘোষিত হবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী  

খবরের কাগজ: নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কোন কোন বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু বিষয়ের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে বিষয়গুলো বলার আগে তিনটি জিনিস উল্লেখ না করলেই নয়। প্রথমত: আমরা কোন পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; দ্বিতীয়ত: ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তৃতীয়ত: বর্তমানে সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন বাস্তবতা। মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে অন্যান্য ব্যবসার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু দশা। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। আমাদের তেল-গ্যাস-সারের বৃহদাংশ আমদানি করতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে পরিস্থিতিটা। যে ডিজেলের দাম ছিল ৮৮ মার্কিন ডলার, যুদ্ধ শুরুর পর সেটা দাঁড়াল ২৬৪ মার্কিন ডলারে। এলএনজির দাম হয়ে গেল দ্বিগুণেরও বেশি। 

একটা ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ও দুর্বল অর্থনীতির মধ্যে বসবাসরত সাধারণ জনগণের ওপর যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অভিঘাত এসে পড়ে, সেটি তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। তবে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যথাসম্ভব চেষ্টা করছে জ্বালানির মূল্য মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে রাখার। এজন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে সবচেয়ে কম।

এবার আসি বাজেটের বিষয়ে: দশটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা বাজেট প্রণয়ন করছি। আমরা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসব। এ বিষয়েও বাজেটে আলোকপাত করা হবে। 

খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে আছে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বাজেটে কী থাকছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আমাদের অর্থনীতির সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, যদিও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নতুন। এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত সমস্যাগুলো অর্থনীতির পুরোনো দুর্বলতাগুলোকে আরও সংকটাপন্ন করেছে। আমরা মনে করি, এসবের সমাধানও করতে হবে, তবে সময় নিয়ে। আমি আগেই বলেছি অর্থনীতির সমস্যা এবং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জনগণের দুর্দশা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণভাবে অবগত। এ কারণে আমরা অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদে পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। বর্তমান চলমান সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আওতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া, জনগণের যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে জ্বালানির মূল্য সামান্য হারে সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদির ওপর কর-শুল্কের বোঝা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হবে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশকিছু পণ্য যেমন–কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর হ্রাস করা হবে। 

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমায় কি পরিবর্তন হবে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে।

খবরের কাগজ: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার বেশি। আগামীতে এত বড় অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কী কৌশল গ্রহণ করেছেন? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: সরকার এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রাজস্ব খাতে গভীর ও বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হবে। শুধু জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে নয় বরং একটি ন্যায্য, পূর্বানুমানযোগ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও সর্বজনীন করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-কর চক্রের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

খবরের কাগজ: আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এ বিষয়ে সরকারের নীতি সোজাসাপ্টা। বিনিয়ন্ত্রণ এবং Ease of doing business বা ব্যবসা পরিচালনার সহজ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এটি করতে ব্যাপক খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষতঃ বিনিয়োগ ও রাজস্ব খাতের বিভিন্ন স্তরে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি দূর করতে এবং ব্যবসার ব্যয় হ্রাস করার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন ছাড়পত্র এবং অনুমতি প্রদানের সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের ভেতর কোনো সরকারি দপ্তর ছাড়পত্র বা অনুমতি দিতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমতি পেয়ে যাবেন; একই দলিল বারবার দিতে হবে না; একই দপ্তর হতে সব অনুমতি বা ছাড়পত্র পাওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। রাজস্ব খাতে ব্যবসায়ীদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা, অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচনে অটোমেশন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হবে।  

খবরের কাগজ: বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারের কতটা আগামী বাজেটে বাস্তবায়ন হবে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বিএনপির যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সেটি স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। আমরা যে অর্থনীতি পেয়েছি, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় দিতে হবে। এটি এত সহজে হবে না। আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং তার থেকে তৈরি পরিকল্পনা যা আমরা বাজেটে প্রতিফলিত করব, তা ব্যাপক এবং গভীর। এর মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কথা বলেছি, সেটি হলো বিনিয়ন্ত্রণ। এটি আপনার এই বাজেটেই দেখতে পাবেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমাদের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নের রূপরেখাও এই বাজেটে পাওয়া যাবে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমির একটি বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও এই বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং, আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারের স্বল্পমেয়াদি বিষয়গুলো, যা এক বছরে বাস্তবায়নের কথা, সেগুলো ইতোমধ্যেই বেশকিছু আমরা করে ফেলেছি, যেমন: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি। আমাদের ট্র্যাকরেকর্ড বলে বাকিগুলোও আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ করে ফেলব।

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে কতটা গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এই বাজেটে শিক্ষা হবে সর্বাধিক গুরুত্বপ্রাপ্ত খাত। শিক্ষা হবে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, উদ্ভাবনী ও আনন্দময়। এর মানোন্নয়নে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হবে জিডিপির ২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ১.৩৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সরকার কতটা গুরুত্ব বাড়িয়েছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আগামী পাঁচ বছরে আমরা স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করব। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জিডিপির ১.০১ শতাংশ। আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ধারা থেকে বেরিয়ে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ধারায় যেতে চাই। আমরা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকে ব্যয় না বলে বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বিনিয়োগ হিসেবে দেখছি।

খবরের কাগজ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে সরকারের নীতি কী? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে? বাজেটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: সাধারণ মানুষের জন্য ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তার আওতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া জনগণের যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে জ্বালানির মূল্য সামান্য হারে সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ নিম্ন-মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যাদির ওপর কর-শুল্কের বোঝা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হবে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশকিছু পণ্য যেমন–কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর হ্রাস করা হবে।

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির

দেশের পোলট্রি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার (DOC) দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির। তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার উৎপাদন খরচ কত?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের খরচ সাধারণত ৩০ টাকার বেশি। লেয়ার বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩৫ টাকার ওপরে। তবে ফিডের দাম, প্যারেন্ট স্টকের মান এবং হ্যাচারির ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

খবরের কাগজ: খামারিদের অভিযোগ, দেশের পোলট্রি শিল্পের নিয়ন্ত্রণ বড় কোম্পানির হাতে চলে গেছে। এর বাস্তবতা কতটুকু?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: খামারিদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে, ভ্যাকসিনের খরচও রয়েছে। অন্যদিকে ডিম উৎপাদনের গড় খরচ এখন প্রায় ১০–১২ টাকার মধ্যে হলেও অনেক ক্ষেত্রে খামারিদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা প্রায়ই উৎপাদন খরচের নিচে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এই খাত এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বাড়ায় ভুট্টা, সয়াবিনসহ খাদ্য উপাদান আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে মাঝে মাঝে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিপণনব্যবস্থা থাকায় তারা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু ছোট খামারিরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারেন না। এটিই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: দেশের অর্থনীতিতে পোলট্রিশিল্পের ভূমিকা কীভাবে দেখেন?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: ঈদুল আজহার আগে-পরে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ডিম ও মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকে, তবে বাকি সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকে। পোলট্রি খাত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় মুরগির মাংস অনেক সস্তা, ফলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামাঞ্চলে পোলট্রি খামার স্থাপন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খবরের কাগজ: এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্যসীমা নির্ধারণ করা গেলে বাজারে অস্থিরতা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী এককভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এতে ছোট খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাবেন।

খবরের কাগজ: অনেকেই বলেন, বায়োসিকিউরিটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারিরা লোকসানে পড়েন–এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: বিদেশি জাতের মুরগি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। তাই খামার শুরু করার আগে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের পর খামার পরিচালনা করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বড় কোম্পানি, সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং খামারিদের সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে পুরো খাতই উপকৃত হবে।

খবরের কাগজ: মুরগির খাদ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে কী করা যেতে পারে?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টা। দেশে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এর উৎপাদন খরচ আমদানির তুলনায় কম। তবে বাজার নিশ্চয়তা দিলে আরও বেশি কৃষক এই খাতে আসবেন। এতে করে আমদানি-নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাক্ষাৎকারে সুমন হাওলাদার সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ এএম
সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার

ঈদ, আশুরা, রমজান মাসসহ বিভিন্ন ইভেন্টকে লক্ষ্য রেখে কোম্পানিগুলো রুটিন করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজ চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতে খামারিদের অবস্থা কী?
সুমন হাওলাদার: এককথায় বলতে গেলে ভালো নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্য কর্মে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের ২০০৭ সালে খামারির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫ হাজার। ২০১২ সালে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার খামারি কোনোভাবে টিকে আছেন। 

খবরের কাগজ: কারণ কী?
সুমন হাওলাদার: খামারিরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও যখন কোনো লাভ পাচ্ছেন না, তাই তারা অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যখন সাধারণ মানুষ আর মুরগি কিনে খেতে পারবেন না। গরু-ছাগলের মাংসের মতো মুরগির মাংসও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ২০২৩ সালে একবার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা হয়েছিল ব্রয়লার মুরগির দাম। এখন যেভাবে চলছে সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেরি নেই।

খবরের কাগজ: এই সংকট কীভাবে তৈরি হচ্ছে?
সুমন হাওলাদার: কোম্পানিগুলো ঈদ, রমজান মাস, শবেবরাত, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রুটিন তৈরি করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এবারের ঈদে ভোক্তারা যে মুরগি কেজি ২০০ টাকার বেশি দামে কিনে খেয়েছেন সেই বাচ্চা দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিদের কিনতে হয়েছে প্রতিটি ৮৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। কোম্পানিগুলো লাভ আগে নিয়ে নেয়। যখন চাহিদা বাড়বে তার আগেই তারা বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ফেলে। 

খবরের কাগজ: এই খাতের ওপর কোম্পানিগুলোর এত শক্ত নিয়ন্ত্রণ কীভাবে প্রতিষ্ঠা পেল?
সুমন হাওলাদার: যারা বাচ্চা উৎপাদন করে তারাই ফিড উৎপাদন করে। এ ছাড়া ওষুধ, ভ্যাকসিন সবকিছুই তারা করে। তারা চুক্তিভিত্তিক ফার্ম করে। বাজার নিয়ন্ত্রণও তারা করে। 

খবরের কাগজ: পোলট্রি শিল্পের নীতিমালা নেই? 
সুমন হাওলাদার: নীতিমালা হয়েছে। তবে তা দুর্বল নীতিমালা। সরকারের আমলারা করপোরেট গ্রুপের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। করপোরেট গ্রুপের হাতে পুরো খাতটা তুলে দিচ্ছে। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্ধকোটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বেকার করে দিচ্ছে। 

খবরের কাগজ: কোম্পানিগুলোর অভিযোগ হলো অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বাচ্চা বিক্রি করতে হয়।
সুমন হাওলাদার: এটা তাদের লোকদেখানো বক্তব্য। যেকোনো ব্যবসার নিয়ম হলো যখন চাহিদা বাড়ে কিংবা বিক্রি বাড়ে, তখন কম লাভে পণ্য বিক্রি করা। কিন্তু পোলট্রি খাতে তার উল্টো চিত্র। বিক্রি বাড়লে তারা দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করে। খামারিরা যখন লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দেন, তখন তারা কম দামে বাচ্চা বিক্রি করেন। ১০ থেকে ১২টা কোম্পানি সিন্ডিকেট করে এই জটিলতা তৈরি করেছে। দেশে প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার চাহিদা প্রায় ২ কোটি। বাচ্চার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। 

খবরের কাগজ: অভিযোগ আছে, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে না পারার কারণে অনেক সময় মুরগি মারা যায়।
সুমন হাওলাদার: এই রোগের জন্যও কোম্পানিগুলো দায়ী। তারা কম দামে প্যারেন্ট স্টক কেনার জন্য বার্ড ফ্লু হয়েছে এমন দেশ থেকে বাচ্চা কিনে আনে। তাহলে খামারে রোগ তো আসবেই। তারা শুধু নিজেদের লাভের জন্য সেই কাজটি কেন করে।

সাক্ষাৎকারে নাছির উদ্দিন ১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ এএম
১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত
প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন

একজন ক্ষুদ্র খামারি তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না। ভালোভাবে চলতে পারেন না। সরকারের উচিত অন্তত ১৫ দিন অন্তর মুরগি এবং মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে কেউ রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: খামার করতে এসে অনেকেই টিকতে পারছেন না কেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: খামার করতে এসে টিকতে না পারার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারা। খামার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যার অভাব। খামার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। এখানে বাজারজাত করার একটি ব্যাপারও রয়েছে। বাজারে মূল্য পেতে হলে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে হবে।

খবরের কাগজ: খাবারের দাম বেশি, বাচ্চার দাম বেশি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বর্তমানে মুরগির পাইকারি দাম কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তবে খাবারের দাম আর একটু কম থাকলে ভালো হতো। পর্যাপ্ত খাবার, টিকা ওষুধ দিয়ে উৎপাদনের দেখা গেল বাজারে মূল্য কম। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে ১৫ দিন অন্তর বাচ্চা এবং মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে তাহলে সবাই উপকৃত হতো। 

খবরের কাগজ: সরকার আর কী করলে খামারিদের উপকার হবে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বেসরকারিভাবে খামার তৈরি হচ্ছে। খামারিরা কীভাবে উৎপাদন করছে, সেটিও দেখাশোনার কেউ নেই। এতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যান। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চা ক্রয় থেকে লালনপালন ও বিক্রি সব ক্ষেত্রে যদি সরকারি নজরদারি রাখে তাহলে সবার জন্য মঙ্গল। কেউ রাতারাতি যা খুশি তা করতে পারবে না। 

খবরের কাগজ: রোগবালাই নিরসনের ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: আমার খামারে যেকোনো রোগবালাই নিজেই চিকিৎসা করি। একজন খামারি হিসেবে খামার সম্পর্কে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা খুবই দরকার। খামারে সমস্যা দেখা গেলে কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এই যে সমস্যা নির্ণয় করা, সেটি একজন খামারি ছাড়া বেশি কেউ বুঝবে না। তাই বলছি, খামারিকে ট্রেনিং নিতে হবে। রোগ বালাইয়ের লক্ষণ বুঝতে হবে। 

খবরের কাগজ: যারা নতুন খামার করতে আসছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন। 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। খামার করতে হলে আধুনিকভাবে করতে হবে। অর্থাৎ কাজ জেনে খামারে নামতে হবে। কিছু জানাশোনা থাকলে বাকি কাজটা করতে গিয়ে শিখতে পারবে। 

খবরের কাগজ: একসময় অনেক খামার ছিল, এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: এই ব্যবসাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। এখানে ঝুঁকি বেশি। অনেকে না বুঝে এসে আটকে যান। সামনেও যেতে পারেন না, পেছনেও যেতে পারেন না। অনেকে ৬ মাস এক বছর খামার করে বন্ধ করে দেন। লাভ করতে না পেরে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে যান। খামার ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি উন্নতি করেন, খামারিরা করতে পারেন না। 

খবরের কাগজ: আপনিতে নিজেই অনেক অভিজ্ঞ, আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: ঠিক বলেছেন, সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি। বিগত ১০ বছর ধরে এ ব্যবসায় রয়েছি। একজন খামারি তার ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না, ভালো কিছু খেতে পারেন না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছেন। আমরা লাভ করতে পারি না।

সাক্ষাৎকারে মাসাদুল আলম মাসুদ নীতি-সহায়তা বাড়ালে রডের বাজার স্থিতিশীল হবে

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
নীতি-সহায়তা বাড়ালে রডের বাজার স্থিতিশীল হবে
শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উন্নয়নকাজে ধাক্কা লাগে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ থমকে যায়। রডের প্রতিটনে দাম কমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে দেশে। বিনিয়োগকারীদের মনে আশা জাগে। কিন্তু কয়দিন না যেতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে টালমাটাল হয়ে যায় নির্মাণসামগ্রীর বাজার। বিশেষ করে রডের টনে বেড়েছে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। এভাবে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই হতভম্ব হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখছেন। এ অবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব। এসব জানতে খবরের কাগজ কথা বলেছে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম

খবরের কাগজ: বর্তমানে রডের বেচা-বিক্রি কেমন হচ্ছে? 
এস কে মাসাদুল আলম: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে উন্নয়নকাজ থমকে যায়। বেচাবিক্রি খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। অনেক ঠিকাদার পালিয়ে যান। আবার বেসরকারি খাতের নতুন করে কেউ বিনিয়োগও করেননি। এ জন্য দেশে রড ও সিমেন্ট বেচাবিক্রি একেবারে কমে যায়। কিন্তু নির্বাচিত সরকার গঠনের পর আমরা আশায় বুক বাঁধি। কিন্তু সরকার গঠনের কয়দিন না যেতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তার ধাক্কা লাগে নির্মাণসামগ্রীতে। বিশেষ করে রডের কাঁচামাল স্ক্যাপের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগের কোনো স্টক ছিল না। তাই দাম বেড়ে গেছে। বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে।

খবরের কাগজ: রডের দাম যাওয়ার কারণ কী? 
এস কে মাসাদুল আলম: গত সরকার ২০২৪ সালে যখন দায়িত্ব নেয় তখন বেচাকেনা কমে যায়। ফলে রডের দামও প্রতিটনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কমে যায়। লোকশান করে ব্যবসা করতে হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর আমাদের মৌসুম শুরু হয়। চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধও শুরু হয়েছে। এ জন্য টনে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।   

খবরের কাগজ: যুদ্ধের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কেন রডের দাম বাড়ল। উৎপাদন তো সেই এলসি খোলার কাঁচামাল থেকে হয়নি?
এস কে মাসাদুল আলম: এ সময়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনও অনেক কমে যায়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অনেক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মৌসুমে সব পণ্যের দাম বাড়ে। নির্মাণসামগ্রীর মৌসুমও শীতকাল। তাই জানুয়ারি থেকেই একটু একটু দাম বাড়ে। যুদ্ধের কারণে আরও বেড়ে যায়। স্ক্যাপ ও পরিবহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে। তবে এলসি খোলার পর সেই পণ্য দেশে আসতে ২ থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে যুদ্ধের প্রভাবেই রডের দাম বেড়েছে। শুধু রড না এর সঙ্গে তার, কেবল, ইলেকট্রিক, গ্লাস সব কিছুর দাম বাড়ছে।  

খবরের কাগজ: রডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে চাহিদা কেমন? 
এস কে মাসাদুল আলম: চাহিদা মোটামুটি আছে। কারণ এখন নির্মাণ খাতের মৌসুম।  ৯০ থেকে ৯৮ হাজার টাকা টন হয়েছে, যা কমে কিছুদিন আগে ৭৭ থেকে ৮৪ হাজার টাকায় নামে। এভাবে দাম কমে যাওয়ায় অনেককেই লোকশান করে ব্যবসা করতে হয়। তবে যারা বড় কোম্পানি লোকশান থেকে রেহাই পেতে স্টক করে রাখেন। অনেকেই টিকতে না পেরে কারখানা বন্ধ রাখেন। ৪০টির মধ্যে প্রায় ১৫টি অটোমেটিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক ছোট কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।  

খবরের কাগজ: এ অবস্থার কী পরিবর্তন হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: দেশে স্থিতিশীলতা দরকার। ভালো সরকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব না। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর আমরা আশা করলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শঙ্কার মধ্যেই ব্যবসা করতে হয়েছে। কেউ নতুন করে বিনিয়োগ করেননি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যবসা-বাণিজ্যের খারাপ অবস্থা। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। আগে ইউরোপ থেকে কাঁচামাল আসত। বিভিন্ন কারণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা এ শিল্পে বিনিয়োগ করেছি তারা ভুক্তভোগী। তাই নির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এবারের বাজেটে যেন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আসে। তা হলেই এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে। এক সময়ে করোনা গেল। তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তা শেষ না হতেই আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই সরকারকে আমাদের উদারভাবে সমর্থন দিতে হবে। তা না হলে টিকা কঠিন হয়ে যাবে। ব্যাংকের সহায়তা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।

খবরের কাগজ: সরকার কী করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: ডলারের দাম বৃদ্ধি বা টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। কারণ ব্যাংকও আগের তুলনায় খারাপ অবস্থায় থাকায় চাহিদামতো আমাদের সুবিধা দিচ্ছে না। কাঁচামালের ওপর শুল্ক বেশি, তা কমাতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কালাকালুন আইন বন্ধ করতে হবে। সরকার ও ব্যাংকের নীতি-সহায়তা (পলিসি সাপোর্ট) বাড়াতে হবে। তবে দেশের বাজার স্থিতিশীল হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। 

খবরের কাগজ: এই শিল্পে বিনিয়োগ কেমন হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: প্রথমে কম থাকলেও বর্তমানে ৪০টির মতো অটো স্টিলমিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি রডের কারখানা আগে ৩০০ মতো ছিল। বর্তমানে ১৫০টির মতো টিকে আছে। সব মিলিয়ে এ শিল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। পরোক্ষভাবে জড়িত ২ কোটি পরিবার। কারণ দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের আনাচে-কানাচে ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে বন্দরের পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সবাই এর সঙ্গে পরোভাবে যুক্ত। রডের যেখানে ব্যবহার হয় সেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট, থাই, গ্লাসেও ব্যবহার হয়। তারাও পরোক্ষভাবে এই শিল্পে জড়িত। কাজেই দেশে ব্যবসা ভালো চললে সবাই ভালো থাকবেন।