ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

পাহাড়কোলে কাশ্মীর দোপাটি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
পাহাড়কোলে কাশ্মীর দোপাটি
ছবি: লেখক

চলছে আষাঢ় মাস, নামছে বাদল ধারা। সিলেটের খাদিমনগর উপশহরে টিলার ওপরে শুকতারার একটি ঘরে বসে পয়লা আষাঢ়ের রাতটা কাটল অঝোর ধারার বৃষ্টির সঙ্গে। ভোর সাড়ে চারটে, বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই। রাতে ভেবে রেখেছিলাম, সকালে হাঁটতে হাঁটতে যাব খামিদনগর ইকোপার্কে, কিছু গাছপালার সঙ্গে মিতালি করতে। কিন্তু বৃষ্টি সে ইচ্ছেয় বাদ সাধল। 

ভোরের আলো ফুটতেই জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি টিলার নিচে নিচু জায়গাগুলো জলে ভরে আছে, তবে বৃষ্টিটা থেমেছে। তাই হাঁটতে বেরিয়ে পড়লাম। উপশহরের রাস্তা আর টিলার প্রান্তে কিছু ঝোপের ভেতর যেন টুকরো টুকরো গোলাপি-সাদা চুনি-পান্না জ্বলছে। সাদা ফুলগুলো বুনো টগর, কিন্তু গোলাপি ফুলগুলো কী?

টিলার প্রান্তে নর্দমার ধারে জলসিক্ত গাছগুলোতে ফুটে আছে অজস্র ফুল। ফুল দেখে প্রথম দোপাটি মনে করে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে যখন একটা ঝোপের কাছে এসে পড়লাম, তখন সে ভুল ভাঙল- ওগুলো দোপাটি ফুল, তবে আমরা বাগানে যে দোপাটি ফুলের গাছ লাগাই, সে দোপাটি না। বাগানের দোপাটি গাছের কাণ্ড গিঁটযুক্ত, পাতা ছোট ও সরু, কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা এবং ফুল লাল, গোলাপি, সাদা। কিন্তু এই দোপাটি গাছের পাতা বেশ বড়, চওড়া ও আয়ত-ডিম্বাকার, অগ্রভাগ সুচালো, কিনারা সূক্ষ্মভাবে খাঁজকাটা। 

গাছের মাথার দিকে পাতার কোল থেকে সরু লম্বা বোঁটায় কয়েকটা করে ফুল ফুটেছে। পাপড়িগুলো বোয়াল মাছের মতো হাঁ করে আছে। ওপরের পাপড়িটি প্রায় সাদা, নিচের পাপড়ি দুটো গোলাপি। হাঁ করা ফানেলের মতো পাপড়ির গহ্বরের ভেতরে শোভা পাচ্ছে ফুলের হলদে জননাঙ্গগুলো। ফুলের পরাগায়ন ঘটে পোকাদের মাধ্যমে। ফুল ফোটে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। দেখলাম, ডালের নিচের দিকের ফুলগুলো ঝরে গেছে, সেখানে সরষে ফলের মতো সবুজ ফল গঠিত হয়েছে। সচরাচর দোপাটি ফুলের ফলগুলো হয় ডাম্বেল বা মাকুর মতো উপবৃত্তাকার, আর ফল সরু কাঠির মতো। এ রকম বনে ও পাহাড়ের কোলে রাস্তার ধারে কারও এসব গাছ লাগানোর কথা না। আশপাশে তাকাতেই আরও গাছ চোখে পড়ল। একেবারে আগাছার মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই টিলার বন-পাহাড়ে।  

ঢাকায় এসে বইপত্র ঘেঁটে এ গাছের পরিচয় পেলাম কাশ্মীর দোপাটি, ইংরেজিতে বলে হিমালয়ান বালসাম। ফুল দেখতে কিছুটা অর্কিডের মতো, তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো কেউ কেউ একে বলেন গরিবের অর্কিড। কাশ্মীর দোপাটি কখনো কারও বাগানে ঠাঁই পায়নি, সে রয়ে গেছে জঙ্গলের আগাছা হয়েই। এ গাছ হিমালয় অঞ্চলের, কাশ্মীরে বেশি দেখা যায় বলে এর নাম কাশ্মীর দোপাটি। হয়তো হিমালয় থেকে আসাম ঘুরে এই বনফুলের গাছ এসেছে সিলেটের পাহাড়ে-টিলায়। কখন কীভাবে এসেছে জানি না, তবে আগাছা হিসেবে যেভাবে বাড়ছে, তাতে আর সে পাহাড়ের চৌহদ্দিতে আর থাকবে না- একপর্যায়ে দেশের অন্যত্রও দেখা যাবে আশা করি। 

কাশ্মীর দোপাটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Impatiens balfourii ও গোত্র বালসামিনেসী। এ গাছের পাকা ফল কারও হাতের সামান্য ছোঁয়াও সহ্য করতে পারে না, ছুঁলেই ফেটে যায়। বেশি পেকে শুকানো শুরু করলে স্পর্শ না করলেও ফল ফেটে বীজ প্রায় ৬ মিটার দূর পর্যন্ত মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে, সেখানেই চারা গজিয়ে ওঠে। এ জন্যই এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক লাতিন নামের প্রথম অংশ ইমপ্যাটিয়েন্স রাখা হয়েছে, যার অর্থ বিদারী, দ্বিতীয় অংশ বালফোরি রাখা হয়েছে স্কটিশ উদ্ভিদবিদ আইজ্যাক ব্যালে বালফোরের নামানুসারে। কাশ্মীর দোপাটির গাছ বর্ষজীবী বিরুৎ প্রকৃতির, গাছ ১৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, কাণ্ড লালচে ও শাখায়িত। ওপর থেকে দেখলে ছোট-বড় পাতার আলপনার মতো বিন্যাসটা বেশ সুন্দর দেখায়। সাধারণত পাহাড়ের কোলে, রাস্তার ধারে, নর্দমার পাশে, পতিত জমিতে আগাছা হিসেবে এ গাছ জন্মে। কাশ্মীর দোপাটির আদি বাসভূমি হিমালয় অঞ্চল হলেও উনিশ শতকে তা ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ে।

নাম তার সরস্বতী চাঁপা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৬ এএম
নাম তার সরস্বতী চাঁপা
ছবি: লেখক

একেই বলে দশচক্রে ভগবান ভূত! দশজন যদি ভগবানকে ভূত বলে ডাকে, তবে তার সে নামটাই একদিন স্থায়ী হয়ে যায়। লোকমুখের রটনা খুবই মারাত্মক। কখনো কখনো তা বিপর্যয়েরও কারণ হয়। তবে সরস্বতী চাঁপার ক্ষেত্রে কথাটা কতটা সত্য হবে, জানি না। কেননা এ গাছের চারা সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে ভারত থেকে। 

এ গাছের কোনো বাংলা নাম না থাকায় নার্সারির লোকেরা একে ডাকতে শুরু করেন সরস্বতী চাঁপা বলে। এরপর সেসব নার্সারি থেকে যারা চারা কিনে নিয়ে বাগানে লাগান, তখন তার ধবধবে সাদা সুগন্ধি ফুলের রূপে বিমোহিত হয়ে নার্সারির লোকদের দেওয়া সে নামকেই আপন করে নিয়ে তারা ডাকতে শুরু করেন সরস্বতী চাঁপা বলে। আবার কেউ কেউ এ নামটাকে এতটাই পছন্দ করেছেন যে, সে নামের পক্ষে বেশ জোরালো একটা যুক্তিও দাঁড় করিয়েছেন। তারা বলছেন, এ গাছের কাঠ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বীণা তৈরি হয়। বীণা আর বই হলো সরস্বতীর হাতের শোভা, সংগীতকলা ও জ্ঞানের প্রতীক। আবার ফুলের শুভ্রতাও শুভ্রবসনা সরস্বতীর সঙ্গে মানানসই। তাই এ গাছের নাম সরস্বতী চাঁপা তো হতেই পারে। 

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা সাধারণত যেকোনো উদ্ভিদের নামকরণ করেন তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। বৈশিষ্ট্যের ওপর ভর করে প্রথমে করা হয় তার দ্বিপদী নামকরণ, যাকে আমরা উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম বা প্রজাতিগত নাম বলি। এসব নামের দুটো অংশ থাকে, যাকে বলে এপিথেট বা নামাংশ। এরপর করা হয় তার সাধারণ নাম, যা সাধারণত ইংরেজি নাম হিসেবে পরিচিত হয়। এরপর আসে স্থানীয় নাম। এটা বিভিন্ন ভাষাভাষীর কাছে বিভিন্ন আঞ্চলিক নামে প্রতিষ্ঠা পায়। 

এসব নামকরণ যে বিজ্ঞানীরা করেন তা নয়, স্থানীয় লোকেরাই এসব নাম দেন, তাই এগুলোকে বলা যায় লোকনাম। সরস্বতী চাঁপা নামটিকে যদি বাংলাদেশি লোকেরা দিয়ে থাকেন, তবে সেটা দোষের কিছু না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যে তার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নামটা যেন আমরা না বদলাই, সে অধিকার বিজ্ঞানীরা আমাদের দেননি।

পাঁচ-ছয় বছর আগে ধানমন্ডির ৯ নম্বর রোডের একটা বাড়ি ‘টোনাটুনি’তে সরস্বতী চাঁপাগাছ দেখেছিলাম। খুব ছোট সে গাছে লম্বা ঝুলন্ত ছড়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাদা রঙের ফুল ফুটতে দেখেছিলাম। তেমন আহামরি রূপ না থাকায় বেশি গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু বাগানের মালিক ডা. ফেরদৌস আরা যখন সে ফুলের সুগন্ধ শুঁকে দেখতে বললেন, তখন সে সুগন্ধে বিমোহিত হয়ে গেলাম। ওই ছোট্ট ফুলের এত সৌরভ! তিনি জানিয়েছিলেন, গাছটা তিনি ঢাকার বৃক্ষমেলা থেকে কিনেছিলেন। এর পর থেকেই গাছটার খোঁজখবর নিতে শুরু করি। সংবাদ পেয়েও যাই নানা জনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। তার মানে সরস্বতী চাঁপা বাংলার মাটিতে ঠাঁই করে নিয়েছে। কিন্তু এর বিস্তারিত তথ্য তেমন পেলাম না। বছর দুয়েক আগে আশুলিয়ার চারাবাগের এক নার্সারিতে চারা পেয়ে আমিও তা কিনে নিয়ে টাঙ্গাইলের সখিপুরে যাদবপুর গ্রামে কবি নজরুল পার্কের চাঁপাবাগে লাগাই। 

সেখানে অন্যান্য চাঁপাগাছের সঙ্গে সরস্বতী চাঁপার গাছও বড় হতে থাকে। পরের বছরই তাতে ফুল ফোটে। পাতার কোল থেকে প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা ছড়া বা পুষ্পমঞ্জরিতে অনেকগুলো সাদা রঙের ফুল ফোটে দফায় দফায়। তার কাছে যেতেই সেই সুগন্ধ। পরের বছর দেখলাম, গাছটা আরও বড় হয়েছে, বাড়ছে বেশ দ্রুত। তবে ঢাকায় রমনা পার্কের মধ্যেই যে সরস্বতী চাঁপার একটা বয়স্ক গাছ আছে, তা কোনো দিন চোখে পড়েনি। মহুয়া চত্বরের পাশে সে গাছটায় বর্ষাকালেও ফুল ফুটছে। বড় বৃক্ষের পাতার ফাঁকে ছোট ছোট লম্বা মঞ্জরিতে ছোট ছোট ফুল থাকায় হয়তো তা চোখ এড়িয়ে গেছে। গাছটার বাকলও অদ্ভুত। বাদামি রঙের টিস্যু পেপারের মতো পরতে পরতে সাজানো বাকল, লম্বা চেরা চেরা ফাটলের মতো দাগ, বর্ষার জলে ভিজে জবজবে হয়ে আছে।

কিন্তু এ দেশের বইপত্র ঘেঁটে ও গাছের কোনো উল্লেখ কোথাও পেলাম না। অবশ্য ঘাঁটতে ঘাঁটতে বিদেশি একটি বইয়ে ওর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম পেলাম Citharexylum spinosum ও গোত্র ভার্বেনেসি, ইংরেজি নাম ফ্লোরিডা ফিডলউড। তার মানে এ গাছটার জন্মভূমি আমেরিকার ফ্লোরিডা। ক্যারিবীয় দেশগুলোতে এ গাছ বেশ দেখা যায়। গাছ আছে ভেনেজুয়েলা, গায়ানা ও সুরিনামে, ভারতেও আছে। মনে হয়, সেখান থেকেই আমাদের দেশে এ গাছের অনুপ্রবেশ। প্রতিবছর বৃক্ষমেলার সুবাদে এ দেশে চারা ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে নতুন নতুন গাছ এনে বাংলার উদ্ভিদসম্পদকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন। এটিও তেমনিভাবে এসেছে। এ গাছের প্রতিষ্ঠিত কোনো বাংলা নাম নেই। সরস্বতী চাঁপা নামটি আমরা গ্রহণ করতে পারি। 

সরস্বতী চাঁপা ছোট বৃক্ষপ্রকৃতির বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ গাছ। গাছ ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা উপবৃত্তাকার, পাতার বোঁটার রং কমলা আভাযুক্ত। পাতা ও ডালের সংযোগস্থল বা কক্ষ থেকে লম্বা ছড়ার মতো পুষ্পমঞ্জরিতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে, ফুলগুলো অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত। পুষ্পমঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার, পাপড়ি ৫টি। হিজল ফুলের মতো ছড়ায় পুষ্পমঞ্জরি ঝুলতে থাকে। ফুল শেষে গোলাকার ফল হয়। পাকলে ফলের রং হয় লাল থেকে কালো। বন্য প্রাণী ও পাখিদের খুব প্রিয় এই ফল। সুগন্ধি ফুল প্রজাপতিদেরও আকৃষ্ট করে। বীজ থেকে চারা হয়। তাই সহজে বাগানে এ গাছের বংশ বৃদ্ধি নিজেরাই করা যায়। এই গাছ আধো ছায়া ও রোদে ভালো হয়। বাগানের শোভাময়ী গাছ হিসেবে লাগানো যায়। গাছ মাঝারি লবণাক্ততা সইতে পারে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের বাগানেও এ গাছ লাগানো যায়।

আবারও হালদায় ভেসে উঠল ১২ কেজি ওজনের কাতলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৮ পিএম
আবারও হালদায় ভেসে উঠল ১২ কেজি ওজনের কাতলা
ছবি : খবরের কাগজ

এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় আবারও ১২ কেজি ওজনের মৃত মা কাতলা মাছ ভেসে উঠে। পরে মাছটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। 

রবিবার (৭ জুলাই) উরকিরচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মাছটি উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরামর্শে মাটিচাপা দেওয়া হয়। 

৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজ্জাদ শাহ বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন। 

এ মাছের ছবি দিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী নামের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘কিছু অমূল্য সম্পদ আছে যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তেমনই একটি অমূল্য সম্পদ এই মা মাছ। এক সময়ে এই হালদার পোনার ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবার বছরে কয়েক মাস সচ্ছলভাবে চলতে। হালদাপাড়ের কিছু মানুষের জীবিকাই ছিল পোনা কেন্দ্রিক। সরকার অনেক উদ্যোগ নেওয়ার পরও কার্যকর কোনো সুফল আসছে না। শিকারি আর কলকারখানার বর্জ্যে হালদা আজ বিপন্ন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও চবির হালদা গবেষণাগারের সমন্বয়ক মনজুরুল কিবরিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ নিয়ে ছয়টি মরা মাছ ও দুটি ডলফিন উদ্ধার হয়েছে। মা মাছের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে। মূলত দূষণের কারণেই হালদায় মা মাছ মারা যাচ্ছে। দূষণ কী জন্য হচ্ছে সেটি বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।’ 

আবদুস সাত্তার/জোবাইদা/অমিয়/

হাটহাজারীতে ১১ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৪, ০২:১৯ পিএম
হাটহাজারীতে ১১ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেছেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা।

শনিবার (৬ জুলাই) রাত ১২টার দিকে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, ওই এলাকার যুবক ফরহাদ এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার পাশে সাপটি দেখতে পান। প্রথমে তিনি ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ তাকে স্থানীয় বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। পরে বন বিভাগকে জানালে তারা বিষয়টি বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমকে জানায়। এরপর তারা অজগরটি উদ্ধার করে। 

বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্য রেজাউল করিম রাকিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে সাপটি উদ্ধার করি। সাপটি লম্বায় ১১ ফুট। ওজন প্রায় ১৩ কেজি। পাহাড়ি ঢল বা খাবারের খোঁজে সাপটি লোকালয়ে এসেছে বলে ধারণা করছি।’

রবিবার (৭ জুলাই) বিকেলে বন বিভাগের সহায়তায় সাপটি গহিন অরণ্যে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

তারেক মাহমুদ/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

শ্রীমঙ্গলে আহত বনবিড়াল উদ্ধার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
শ্রীমঙ্গলে আহত বনবিড়াল উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আহত অবস্থায় একটি বনবিড়াল উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে আহত বনবিড়ালটি উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্যামলী আবাসিক এলাকায় একটি বাসার ছাদে কবুতর খেতে এসে ছাদ থেকে পড়ে বনবিড়ালটি আহত হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকার রুবেল মিয়া বনবিড়ালটিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে আমাদেরকে খবর দিলে আমরা বনবিড়ালটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গলের রেঞ্জার শহিদুল ইসলাম জানান, আহত বনবিড়ালটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার পর প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

হৃদয় শুভ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

শহুরে শিকারি লালমাথা শাহিন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৪ পিএম
শহুরে শিকারি লালমাথা শাহিন
ছবি: লেখক

পুরান ঢাকায় বিদ্যুৎ-পাইলনের গরম ইস্পাতে স্থির বসে রয়েছে একটি শিকারি পাখি। নিচের দিকেই তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও গভীর মনোযোগ। দেখে মনে হলো, পাইলনের নিচে উড়ে চলা চড়ুই পাখি শিকার করার জন্যই সে তাক করে আছে। ঢাকা নগরীর বিরল বাসিন্দা এ পাখির নাম লালমাথা-শাহিন। পাখিটি ‘ফালকন’ পরিবারের সদস্য এবং ঈগল, বাজ ও শিকড়ে পাখির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নজাতের শিকারি।

বিশ্বে ৫৫ প্রজাতির ফালকন আছে এবং ‘শাহিন’, ‘হবি’, ‘কেস্ত্রেল’, ‘কারাকারা’ ইত্যাদি নামে এরা পরিচিতি পেয়েছে। শেরপুরের শালবনে সম্প্রতি ‘কুটিশাহিন’ পাখির সাক্ষাৎ পাওয়ার পর বাংলাদেশে ফালকন পরিবারে প্রজাতি-সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র লালমাথা-শাহিনকেই আমরা সারা বছর ঢাকা নগরীতে দেখতে পাই। তবে সহজে নয়, বিশ্বের তাবৎ পাখি-শিকারিদের মতোই সে লুকিয়ে চলতে অত্যন্ত দক্ষ।

অধিকাংশ ফালকনই দ্রুতবেগে উড়ে চলা পাখিদের পাকড়াও করতে পটু। ঢাকাবাসী এই শাহিন পাখিও উড়ন্ত চড়ুই, বাবুই, বুলবুল ও মুনিয়া শিকার করে জীবনধারণ করে। সারা দেশে ছোট পাখির সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও শহরের পথপাশে চড়ুই তো ভালোই আছে। তাই চড়ুই পাখিই হয়েছে লালমাথা-শাহিনের মেইন ডিশ বা খাবার। তবে মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় এরা চামচিকা শিকারে নামে; সম্ভবত রুচি বদলাবার জন্য। 

এই পাখি শুধু ভারতবর্ষ ও আফ্রিকার দক্ষিণে কয়েকটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এর ইংরেজি নাম ‘রেড-নেকড ফালকন’ এবং প্রমিত বাংলা নাম ‘লালঘাড়-শাহিন’ ছিল। সম্প্রতি দুই এলাকার পাখিকে দুটি পৃথক প্রজাতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজাতি ভিন্ন হলে তো নামও ভিন্ন হতে হয়। তাই এখন আফ্রিকার পাখির ইংরেজি নাম ‘রেড-নেকড ফালকন’ আর ভারতবর্ষের ‘রেড-হেডেড ফালকন’ হয়েছে।

চেহারা দেখে এ দুই প্রজাতির পাখির পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন। দুটিরই ঘাড় ও মাথা লালচে খয়েরি এবং চঞ্চু, পা-ও চশমা হলদে। ভারতবর্ষের পাখিটির বাংলা নাম ‘লালঘাড়-শাহিন’ বহাল রাখলে আফ্রিকার পাখিটিকে আমরা কী বলব, যদি ভবিষ্যতে কোনো দিন আফ্রিকার পাখির বাংলা নাম দিতে চাই! তাই আমাদের দেশের পাখিটির নাম বদলে ইতোমধ্যে আমরা ‘লালমাথা-শাহিন’ বলতে শুরু করেছি। 

গত শতাব্দীতে বাংলায় লেখা পাখির বইতে কোনো কোনো লেখক এ পাখিকে ‘তুরমতি বাজ’ নাম দিয়েছিলেন। ওই নামের দুটি বড় সমস্যা ছিল। প্রথমত, পাখিটি ‘বাজ’ নয় এবং অন্য একটি পরিবারে অনেক ‘বাজ’ ও ‘তিশাবাজ’ আছে এ দেশে। দ্বিতীয়ত হিন্দি, মারাঠি ও গুজরাটি ভাষায় একে ‘তুরমতি’ অর্থাৎ দ্রুতগামী বলা হয়, বাংলায় নয়। অন্য ভাষা থেকে যদি নিতেই হয়, তো এর সংকেত নাম ‘ভেগি’ই তো ভালো। ভেগি মানেও দ্রুতগামী। 

দেখলাম, পাইলনের প্রায় শীর্ষে লালমাথা-শাহিনের দুটি বাড়ন্ত ছানা বসে রয়েছে। অদূরে বসে আছে আকারে অনেকটা বড় আরেকটি শাহিন। নিশ্চিত বলা যায়, এই বড় পাখিটিই ছানাদের মা। অধিকাংশ শিকারি পাখির মতো এই পাখির মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেকটা বড় হয়। লালমাথা-শাহিনের সংসারে বাবার কাজ হলো পাখি শিকার করে এনে মাকে দেওয়া। আর মায়ের কাজ হলো মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছানাদের খাওয়ানো। ছানারা বাসা ছেড়ে যাওয়ার পরও দু-সপ্তাহ ধরে বাবা-মা এটা করতে থাকে। 

পুরুষ পাখিটি পাইলনের ওপর থেকে এখনো চড়ুই পাখির ওড়াউড়ি দেখছে। মাটির কাছে কিংবা কার্নিশের আড়ালে থাকলে চড়ুই পাখিরা মোটামুটি নিরাপদ। শিকার ধরার জন্য তিরবেগে ছুটে গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে মরতে চায় না কোনো শাহিন পাখি। কিন্তু চড়ুই পাখিদের জীবনেও নানা চাহিদা, ছোটাছুটি ও কলহবিবাদ আছে। সবাই সব সময় সাবধান থাকে না। পাইলনের ওপর তাই এই শিকারি সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছে। 

আমরা চাই, রোদ চড়া হওয়ার আগেই ধৈর্যশীল এই পাখি একটি চড়ুই শিকার করুক। আমাদের এ আকাঙ্ক্ষাটি শাহিন-ছানার জন্য শুভ হলেও চড়ুই পাখির জন্য নির্মম। যে চড়ুই পাখিটি নিহত হবে, তার বাসাতেও হয়তো অভুক্ত ছানা অপেক্ষারত। ওসব নৈতিক সংকট এড়ানোর জন্য তখনই আমরা এলাকাটি ছেড়ে চলে এলাম।