সরকারের সঠিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই করতে হলে বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে সংযুক্ত করা। প্রাথমিক ফ্লাইং প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈমানিক এবং প্রকৌশলগত সম্পদ কাজে রূপান্তরিত করতে পারলে তা হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।...

বাংলাদেশ বিমান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতাধীন বাংলাদেশ বিমান বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে। এটা বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ চুক্তির মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিম লাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ স্যাক্স জেট। এ বিমানগুলোর ডেলিভারি আরম্ভ হবে অক্টোবর ২০৩১ সালে এবং সম্পন্ন হবে ২০৩৫ সালে। এই ১৪টি বিমান ক্রয়ের মোট মূল্য হলো ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি অর্থে যা ৪৫ হাজার কোটি টাকার সমান। এই চুক্তির ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিমানের সংরক্ষণে মোট বোয়িংয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩টি।
এই বোয়িংগুলো কেনা হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাণিজ্যিক ঘাটতি কমাতে এবং বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তৈরি পোশাকের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য। অতএব, এই ব্যবসায়িক চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের একটি পদক্ষেপ। তবে এও সত্য যে, যুক্তরাষ্ট্র হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
বাংলাদেশের সঙ্গে যে তিনটি বৃহৎ রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক লেনদেন হয় তারা হলো চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও ভারত উভয়ের সঙ্গে যে ব্যবসা হয় তাতে বাণিজ্যিক ঘাটতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ চীন থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনে। এর বিপরীতে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য চীনের কাছে রপ্তানি করতে সমর্থ হয়।
ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের বিরাট বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ভারত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের আমদানির বিপরীতে ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।
ভারত এবং চীনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, মূলত তৈরি পোশাক আমদানি করে এবং বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য কিনে থাকে। অতএব, ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাণিজ্যিক ঘাটতি দূরীকরণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে বোয়িং বিমানগুলো কেনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হার প্রারম্ভিক ৩৫ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক এবং যুক্তরাষ্ট্র-প্রসূত তুলা ও ফেব্রিক দ্বারা তৈরি পোশাকের ওপর শূন্য কর আরোপের ব্যবস্থারও প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রেতা। অতএব, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ সূচনার পথকে বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার যৌক্তিকতায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত বাণিজ্যিক চাপ এড়ানো অসম্ভব ছিল। কারণ, এ চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অস্তিত্বের একটা সম্পর্ক রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ এই বিমান ক্রয়ের পরিকল্পনাকে বাস্তবে কীভাবে একটি কার্যকর অপারেশনাল দক্ষতায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে। কাজটি কেবলমাত্র জটিল নয়, অত্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এখন দেখা যেতে পারে, বোয়িং বিমানগুলোর অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার (ICAO) লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের বিমান চলাচলের মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। আগামী দিনের বিমান পেশাজীবী বলতে একটি সম্পূর্ণ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনশীল কাঠামোকে বোঝায়, যার মধ্যে রয়েছে, পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, অ্যারোস্পেস ও মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাউন্ড সাপোর্ট স্টাফ, কেবিন ক্রু, রেগুলেটরি কর্মী এবং অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মানবগোষ্ঠী। ভবিষ্যতে অ্যাভিয়েশনকে একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। এর কারণ হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত আকাশ পরিবহন এবং পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করবে। অতএব, বাংলাদেশে ১৪টি বোয়িংয়ের সংযোজনের আগে থেকেই বাংলাদেশকে এসব অ্যাভিয়েশন-সংক্রান্ত আবশ্যিক চাহিদার বিষয়গুলোর ওপর রাষ্ট্রীয়ভাবে জোর দিয়ে কর্মপত্র প্রণয়ন করে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ বিমান চলাচলের পরিধিকে একটি দক্ষ সম্পদে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে না। বর্তমান সময় থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যখন ১৪টি বোয়িংয়ের হস্তান্তর সম্পন্ন হবে, এ সময়সীমা অত্যন্ত অল্প। অতএব, সরকারকে এখন থেকেই সচেষ্ট না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় বিমানশিল্প দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় বিমান সম্পদ প্রবৃত্তির জন্য কতগুলো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়। প্রথমে পাইলট-সংকট মোকাবিলা করতে হবে। আগামী দশকে প্রায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হবে। এ জনসংখ্যার অধিকাংশ প্রয়োজন এশিয়া-পেসিফিক অঞ্চলে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে আন্তর্জাতিক বাজারে পাইলট সরবরাহের দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপরে সহজাতভাবেই নিপতিত হয়। প্রশ্ন হলো নতুন বোয়িংয়ের জন্য পাইলট প্রস্তুতির কার্যক্রম এখন থেকে আরম্ভ না করলে, এসব বিমানের জন্য হয়তো বিদেশ থেকে পাইলট সংগ্রহ করতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ বিমানকে পাইলট সরবরাহ করার জন্য কোনো টেকসই ফ্লাইং অ্যাকাডেমি গড়ে ওঠেনি। তাই সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বগুড়ায় বেসামরিক ফ্লাইং অ্যাকাডেমি তৈরির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োচিত এবং অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি রাখে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ হবে এ দায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি টেকসই করতে হলে বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে সংযুক্ত করা। প্রাথমিক ফ্লাইং প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈমানিক এবং প্রকৌশলগত সম্পদ কাজে রূপান্তরিত করতে পারলে তা হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এখানে বলা জরুরি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের আওতাধীন প্রতি বছর গড়ে ৬০ জন অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়োনিক্স ছাত্র গ্রেজুয়েশন প্রাপ্ত হচ্ছে। এদের অনেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যাচ্ছে। আবার অনেকেই দেশে অবস্থান করে বিভিন্ন এয়ারলাইনস সংস্থায় যোগদান করছে। অ্যাভিয়েশন সেক্টরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের দিকটি বিবেচনা করে দেশের অভ্যন্তরে তাদের কর্মদক্ষতা বিনিয়োগ করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এখন থেকেই চিন্তা করতে হবে।
আগামী ১০ বছরে বৈশ্বিক বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য চাহিদা হলো প্রায় ৭ লাখ অ্যারোস্পেস এবং মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের। ১৪টি বোয়িং বিমানের জন্য যে পরিমাণ ইঞ্জিনিয়ার এবং টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন তা বাংলাদেশ বিমানের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমানের করণীয় হলো বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার প্রোগ্রামকে ফলপ্রসূ করে বাজারে বিমান প্রকৌশলী সরবরাহের সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।
এখন ধরা যাক, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথা। বেসামরিক বিমান চলাচলের অঙ্গনে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের প্রয়োজন অদ্বিতীয়। বাংলাদেশে এই পেশাজীবীদের অতুলনীয় ঘাটতি রয়েছে। এখন সরকার যদি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে থাকে, তাহলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের বিষয়টি এখন থেকেই চিন্তা করতে হবে। কারণ দক্ষ এবং নিরাপদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হলো আকাশে নিরাপদ বিমান চলাচলের প্রতিভূ।
বোয়িং বিমান ক্রয়ের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এখনো Federal Aviation Administration (FAA)-এর Status-2 ক্যাটাগরির আওতাভুক্ত। এর অর্থ হলো যে, বাংলাদেশ যতক্ষণ পর্যন্ত FAA-এর Category-I এ উন্নীত হতে পারবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত বোয়িং হতে আমদানি উড়োজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জন্য বিষয়টি হবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। অতএব, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো বিমান ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রটিকে সুসংগঠিত করার জন্য বোয়িং এবং FAA-এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতার বিষয়টিকে আবশ্যিকভাবে সংযুক্ত করা।
অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে হয় যে, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা, এয়ার এস্ট্রা এবং হেলিকপ্টার কোম্পানিগুলো অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার কারণে এসব বিমান সংস্থা বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে। সত্যি কথা হলো, এর জন্য দায়ী আমরা নিজেই।
যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বোয়িং বিমান বিক্রয়ের ব্যাপারটিকে তাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক ভারসাম্যকে রক্ষার স্বার্থে ব্যবহার করেছে। রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কীভাবে বিমান কেনার দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে আমরা জাতীয় স্বার্থে কার্যকর সম্পদে রূপান্তরিত করতে পারব। আমরা দেখেছি যে, এর জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার বাস্তবায়নে থাকবে শিক্ষাঙ্গন, বিমান পরিবহনশিল্প এবং বিমান কর্তৃপক্ষের একত্রয়িক (Trinity) সম্পর্ক। আগামী বোয়িং উড়োজাহাজের বাংলাদেশের ফ্লিটের সংযোজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে প্রায়োগিক কৌশল বাস্তবায়ন ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বিমান চলাচলের সেক্টরকে বিশ্বমানের পর্যায়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়।
লেখক: ডিস্টিংগুইস্ড এক্সপার্ট, অ্যাভিয়েশন
অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত
