ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

গাজীপুরে ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর রুটিন চেকআপ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম
গাজীপুরে ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর রুটিন চেকআপ
ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (১৪ জুন) গাজীপুরের কাশিমপুরের তেতুইবাড়িতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন।

হাসপাতালে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক।

প্রধানমন্ত্রী রেজিস্ট্রেশনের জন্য নিজে হাসপাতালের কাউন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও চেকআপ ফি পরিশোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও নার্সদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

যুগপতের বড় কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামছে বিএনপি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ এএম
যুগপতের বড় কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামছে বিএনপি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিএনপির হাইকমান্ড দলটির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসেই যুগপৎ আন্দোলনের বড় কর্মসূচি নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে চায় বিএনপি। কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে শরিক দল ও জোটের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করছে দলটি। এই বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। 

শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রথম দফায় বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। এর বাইরে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 

দলীয় সূত্রমতে, বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতিবিরোধী প্রচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি ও সমঝোতা ইস্যু, সীমান্ত হত্যা, গ্যাস এবং পানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদসহ জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ইস্যুতে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে শরিক দল ও জোটের সঙ্গে হওয়া বৈঠকগুলোতে আলোচনা করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। তবে পরে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

নয়াপল্টনে প্রথম দফার বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফায় যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজেরা সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। 

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণে শনিবার বিকেলে গণ অধিকার পরিষদের (নূর) সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। এর আগে গত ১১ জুলাই গণফোরাম ও পিপলস পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, এনডিএম এবং ১২ জুলাই এলডিপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার বিকেল ৫টায় ১২-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

শফিক/এমএ/

কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আমীর খসরু নির্বাচিত সরকার না থাকলে কোটা সংস্কার করেও চাকরি পাওয়া যাবে না

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৭ পিএম
নির্বাচিত সরকার না থাকলে কোটা সংস্কার করেও চাকরি পাওয়া যাবে না
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পুরো চাকরিব্যবস্থাকে তাদের দখলে রেখেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোটাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দলীয় বিবেচনায় তারা চাকরিব্যবস্থাকে দখলে রেখেছে। ফলে কোটাব্যবস্থার সংস্কার হলেও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা চাকরি পাবে না।’

শনিবার (১৩ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে যখন দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকবে, তখন সবকিছু নিয়মমাফিক চলবে। গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার না আনতে পারলে বর্তমান ধারাই অব্যাহত থাকবে।’ কোটা বাতিলের আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধা আছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘সবকিছু লুটপাট করেছে ক্ষমতাসীনরা। আজিজ ও বেনজীর সাহেবদের মতো কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।’ 

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, ‘কোটা আন্দোলন নিয়ে আগেও অপপ্রচার ছিল। ২০১৮ সালে বলা হয়েছিল, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আন্দোলন করছে। আন্দোলনকে আবার রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে পেশিশক্তি দিয়ে সরকার কিছুই করতে পারবে না।’

সবুজ/এমএ/

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা চালু করেছে আ.লীগ: মেজর হাফিজ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ পিএম
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা চালু করেছে আ.লীগ: মেজর হাফিজ
ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া মক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু করেছে আওয়ামী লীগ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৮০ হাজার। তারা তো কোনো কোটা চায়নি। আওয়ামী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের নামও তালিকায় নেই। আমরা খুব বড় জোর ৫ ভাগ কোটা রাখার পক্ষে। বিশ্বাস করছি- সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাই। যেখানে ৯৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাবে। 

শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি, দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারের দাবিতে’ এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সংগঠনের সহসভাপতি প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ খান এবং মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন রেজার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

মেজর হাফিজ বলেন, ১৯৭১ সালে ‘সাম্য, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম। মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সে গণতন্ত্র দেশে নেই। আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি চাই না। মেধার ভিত্তিতে চাকরি চাই। আজ যাদের মুক্তিযোদ্ধা রাখা হয়েছে তারা কারা? সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন হয়নি।

বিএনপির দুর্দিনের যোগ্য নেতৃবৃন্দকে আরও মূল্যায়ন করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা ও গুলির সামনে দাঁড়াতে হলে সেরকম নেতৃত্ব দরকার। কিন্তু বিএনপিতে ধীরে ধীরে অনেক যোগ্য নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমি বলব- মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। আবারও মুক্তিযোদ্ধাদের আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হবে। সে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

মেজর হাফিজ আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। সম্প্রতি কুরবানির ঈদের সময় দেখলাম তিনি কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে ওঠেন। কিন্তু এ দুর্বৃত্তের সরকার তাকে সুচিকিৎসা দেয়নি, এটা অত্যন্ত দু:জনক। তিনি কখনো নির্বাচনে ফেল করেননি। এমনকি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচন করলেও পাস করবেন। 

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আসলে এ সরকার কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দেয় না। তার সর্বশেষ উদাহরণ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে কীভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ৬ তলা সিঁড়ি বেয়ে আদালতে উঠতে হয়। এমনকি তাকে পদ্মা নদীতে চুবানোর কথা বলা হয়েছে। এটা কী তার প্রাপ্য ছিল? অন্যদিকে উন্নত বিশ্ব ড. ইউনসূকে তাদের দেশে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, সম্মান দেন। সম্মানী ব্যক্তিদের আর কত অসম্মান করবে এ সরকার। আজকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেয়। তারা সরকারের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে হাজার হাজার তরুণ ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায় নেমেছে। ৫৬ শতাংশ কোটা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। কোটা ব্যবস্থা অসভ্যতার পরিচায়ক। এ কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে আমরা অকুণ্ঠ সমর্থন জানাই। ছাত্রসমাজকে বলব- মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আশা করি কোটা আন্দোলন সফল হলে তোমাদের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে রাজপথে লড়াই করতে হবে। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব ইনশাআল্লাহ।

শফিক/এমএ/

কোটা আন্দোলনের ফাঁকে সরকারের ষড়যন্ত্র সন্দেহ করছেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৮ পিএম
কোটা আন্দোলনের ফাঁকে সরকারের ষড়যন্ত্র সন্দেহ করছেন মির্জা আব্বাস
ছবি: খবরের কাগজ

কোটা আন্দোলনের ফাঁক দিয়ে সরকার কোনো অপকর্ম বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কিনা, এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলন যৌক্তিক ও ন্যায্য। বিএনপি সমর্থন দিয়েছে বলেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চায় সরকার। এটা তাদের অপকৌশল। আমরা আশঙ্কা করছি, এই আন্দোলনের ফাঁক দিয়ে সরকার কোনো অপকর্ম বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন সংশয় প্রকাশ করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন মির্জা আব্বাস।
 
এ সময় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার আন্দোলন সফলে শপথবাক্য পাঠ করান।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই সরকারের পতন ঘটানো। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিছুই থাকবে না। এই হায়েনার হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ নবগঠিত কমিটির সবাইকে নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে এসেছি। আমাদের নবগঠিত কমিটির সূর্য সন্তানরা শপথ গ্রহণ করল। এদেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা মুক্ত করবে। দেশনেত্রী যখন অসুস্থ থাকে সারা দেশ তখন অসুস্থ থাকে। এই জাতিকে এবং দেশকে অসুস্থতা থেকে মুক্ত করতে হবে এই প্রত্যয় আজকে আমাদের এই মাজার জিয়ারত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি। বরং সরকার আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করেছে। অনেক নেতা-কর্মী দলে দলে কারাগারে গেছেন। বের হচ্ছেন আবার জেলে যাচ্ছেন। মিথ্যা মামলায় জর্জরিত। অনেকেই গুলি খেয়েছেন। সুতরাং আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি। বরং সরকারই নানা কলাকৌশল, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে, এখনো করছে।’

কমিটি গঠনে ‘বাণিজ্যের’ অভিযোগ নাকচ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অলীক কথাবার্তা। আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটি ছাড়া কাউন্সিল হয় না। আহ্বায়ক কমিটি করার পর পরবর্তীতে কাউন্সিল করে পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর সরাফত আলী সপু, তাবিথ আউয়াল, যুব দলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীসহ মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী জমায়েত হন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গত ৭ জুলাই বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগরের নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।

মিজানুর রহমান সবুজ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বাংলাদেশ অনিশ্চয়তার দিকে ছুটে চলছে: সেলিমা রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৩:২৪ পিএম
বাংলাদেশ অনিশ্চয়তার দিকে ছুটে চলছে: সেলিমা রহমান
আলোচনা সভায় কথা বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ এক অনিশ্চয়তার দিকে ছুটে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে। দেশে আজ ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজকে দেশের মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে।’

শনিবার (১৩ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের উদ্যোগে ‘ভারতের সাথে অসম চুক্তি-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। ছাত্র-শ্রমিক, নারী-পুরুষ সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। সমস্ত দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, শুধু কিছু রাজাকার ছাড়া। দেশ স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও আমাদের যে চাওয়া ছিল, আমাদের যে পাওয়া ছিল তা আমরা পাইনি। বাংলাদেশের ন্যায়ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, কথা বলার অধিকার, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার, এই মুহূর্তে ভোট চোর সরকার তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘আজ নানা দিক থেকে আওয়াজ উঠছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলন হচ্ছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলন করতে বলেনি। তাদের বিবেক থেকে আন্দোলন করছে। কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীরা বলছে এই সরকারের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। চারিদিক থেকে আওয়াজ উঠেছে। শিক্ষাব্যবস্থা সম্পুর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। মেধার কোনো দাম নেই। দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে, লবিংয়ের মধ্য দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে শিক্ষার্থীদের জীবন অনিশ্চিত করে ফেলছে।’ 

বিএনপির সিনিয়র এই নেত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের কথা বলে, বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করিয়েছে সরকার। এক-এগারো থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। তখন বলেছিল মাইনাস টু। কিন্তু না, সেই সময় তারা প্লান করেছিল মাইনাস ওয়ানের। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা নিয়ে, গণতন্ত্র নিয়ে মাথা উঁচু করে থাকত।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ টেনে সেলিমা রহমান বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম সিটি করপোরেশন কাজ না করে ৭০০ কোটি টাকা লুট করেছে। গতকাল (শুক্রবার) ঢাকা শহর ডুবে গেল। কেন ডুববে না, আজকে খাল-নদী জলাশয় সবকিছু দখল করে নিয়ে রিসোর্ট, ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি বা তাদের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা। এমপি হলেই ৫-৬টা বাড়ি করতে হবে, কোটি কোটি টাকা আয় করতে হবে। এই হলো বাংলাদেশের অবস্থা।’ 

প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘ভারতে তিস্তার পানি দিচ্ছে না, পানির অভাবে উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়। অভিন্ন নদীর পানির ইচ্ছা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদ করতে পারছি না। অথচ প্রধানমন্ত্রী তিস্তা প্রকল্পে সাক্ষর করেছেন। ভারতের সঙ্গে চুক্তির ফলে বাংলাদেশ গোলামি রাজ্যে পরিণত হবে। এই চুক্তি দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’ 

ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে অসম চুক্তি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্তা করতে হবে।’

রাষ্ট্রচিন্তক ও বাংলাদেশ ইউথ ফোরামের উপদেষ্টা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের হেলাল উদ্দিন, ইউসুফ আলী প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/