১. পাঞ্জেরি, আর কত দেরি?
কবে ঝগড়া থামাবে টম অ্যান্ড জেরি?
কবে শেষ হবে ডরেমনের জয় ভেরি?
বাংলা গান ছেড়ে ওরা গায় ‘তেরি মেরি’
জাতির ভাগ্যে কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
এই জন্যই কি বাংলায় গ্রন্থ রচিয়াছিলেন উইলিয়াম কেরি?
বলো পাঞ্জেরি!
ওরা হিন্দিতে কী পায়, এ এক বিশাল mystery!
তাই আমি চিন্তিত- very very!
(ফররুখ আহমেদের ‘পাঞ্জেরি’ কবিতা অবলম্বনে)
২. হাজার বছর ধরে আমি করিতেছি ক্লাস এই ক্যাম্পাসে,
ক্লান্তিকর ল্যাব থেকে তিনতলার ওই ক্লাসরুমে,
অনেক পড়েছি আমি, ফেসবুকহীন এই ধূসর জগতে,
সেখানে ছিলাম আমি, আরও দূর অন্ধকারে পরীক্ষার কক্ষে।
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারদিকে জীবনের বিচিত্র প্যারা
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল ক্যান্টিনের গরম শিঙাড়া!
(জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা অবলম্বনে)
৩. ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোট এ মাথা!
অনেক পড়া সেথা হয়েছে গাঁথা!
মোর মস্তিষ্ক ঘিরে, পরীক্ষার ভূত ঘুরেফিরে,
শেষে অসুস্থ হইয়া রহিনু পড়ি
তাহলে এখন আমি কী করি?
দেশ ও জাতি, আই অ্যাম সো স্যরি,
তীরে এসে মোর ডুবিল তরী!
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতা অবলম্বনে)
৪. সুরঞ্জনা
ওই প্রোফাইলে যেও নাকো তুমি,
বন্ধুত্ব করো না ওই যুবকের সঙ্গে,
ফিরে এসো সুরঞ্জনা
টাইমলাইনের জঞ্জালহীন আমার এই প্রোফাইলটাতে...
(জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশলীনা’ কবিতা অবলম্বনে)
৫. বহুদিন ধরে, বই খাতা ছুড়ে
বহু ব্যয় করি, ফেসবুকে ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি কত শত মানুষ,
সেথায় করিয়াছি বসবাস!
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
বিছানা হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি পড়ার টেবিলের ওপরে
একটি সিলেবাস!
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্ফুলিঙ্গ’ কবিতা অবলম্বনে)
৬. আমি বলছি না পরীক্ষায় সাহায্য করতেই হবে,
আমি শুধু চাই কেউ একজন আমার দুরবস্থা বুঝুক।
তার খাতা দেখে লেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য,
নিজে নিজে উঁকি দিতে গিয়ে আমি ক্লান্ত।
আমি বলছি না পরীক্ষায় সাহায্য করতেই হবে।
আমি চাই কেউ আমাকে উত্তর সম্পর্কে টিপস দিক।
আমি খাতা নিয়ে কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই গার্লফ্রেন্ডের যুগ বন্ধুকে মুক্তি দিয়েছে বন্ধুসেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক,
আমার কলম লাগবে কি না, স্কেল লাগবে কি না,
পেনসিল-কম্পাসের সঙ্গে একটা ব্যবহারযোগ্য ইরেজার লাগবে কি না।
মারজিন দিতে, নাম রোল লিখতে আমি নিজেই পারি।
আমি বলছি না, পরীক্ষায় সাহায্য করতেই হবে,
কেউ একজন আমার দৃষ্টিসীমার মাঝে তার খাতাটা রাখুক।
কেউ আমাকে লিখতে বলুক।
পৃষ্ঠা আদান-প্রদানের সঙ্গী না হোক,
কেউ অন্তত আমাকে জিজ্ঞেস করুক, ‘দোস্ত, কিছু পারতেছিস তো?’
(নির্মলেন্দু গুণের ‘তোমার চোখ এতো লাল কেন’ কবিতা অবলম্বনে)
৭. মহা ফাঁকিবাজ পড়া-ক্লান্ত!
আমি সেই দিন হব শান্ত!
যবে শিক্ষকের হুংকার রোল ক্লাস রুমেতে ধ্বনিবে না,
শিক্ষকের রুক্ষ কলম পরীক্ষায় নাম্বার কাটিবে না,
ফাঁকিবাজ পড়া-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত
(কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অবলম্বনে)