রাব্বি টিভি দেখতে দেখতে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, এই বেক্কল কবুল বলিস না, কবুল বলিস না, ফেঁসে যাবি কইলাম!
রাব্বির চিৎকার শুনে বউ লাবণী রান্না ফেলে দৌড়ে এসে বলল, কী হয়েছে? টিভিতে কী দেখছো?
রাব্বি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, আমাদের বিয়ের ভিডিও দেখছি। আহা! তখন যদি কবুল না বলতাম, কী যে ভালো হতো!
কথা শুনে লাবণী চোখ গরম করে জামাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
রাব্বি শুনেছে, বউয়ের কথা শুনে যে ব্যক্তি মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে তাকে বলে প্রকৃত পুরুষ। আর কথা বলে যে পুরুষ বউয়ের মাথা গরম করে দিতে পারে, তাকে বলে মহাপুরুষ। আজকে তার মহাপুরুষ হতে মন চাইল, তাই বউকে রাগিয়ে দিল।
লাবণী রাগী গলায় বলল- আচ্ছা, তুমি মানুষ হবা কবে? কোনো ভালো শিক্ষা তো আমি তোমার মধ্যে দেখি না।
রাব্বি আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, এজন্য দায়ী আমার স্কুল-কলেজের শিক্ষক। তারা আমাকে মানুষ বানাতে পারে নাই।
সেটাই তো দেখছি। তারা তোমাকে মানুষ না বানিয়ে গাধা বানিয়েছে।
আর তুমি এতটাই অযোগ্য-অপদার্থ ছিলে যে, তোমার বাবাকে শেষমেশ তোমার জন্য পাত্র হিসেবে একটা গাধাকে বেছে নিতে হলো! তবে আশার কথা এই যে, আমি গাধা হলেও জিনিয়াস গাধা।
কথা শুনে লাবণী রাব্বির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তার পর আফসোসের সুরে বলল, বিয়ের পরপর তুমি আমাকে মিষ্টি ছানা, চমচম, রসগোল্লা কত কত নামে ডাকতে মনে আছে?
মনে থাকবে না কেন?
এখন তো আর ডাকো না।
রাব্বি সোফায় হেলান দিয়ে বসতে বসতে বলল, দুধের জিনিস আর কতদিন টাটকা থাকে বলো! বেশিদিন থাকলে পচে হয়ে যায়।
লাবণী চিৎকার করে বলল, আমি এখন তোমার কাছে পচে গেছি? এতটাই যদি পচা মনে কর নতুন কাউকে আনতে পারো না? কেউ নিষেধ করছে?
বউ যদি বলে, তুমি যা খুশি করতে পারো। এর মানে হচ্ছে, ব্যাটা তুই খালি একবার করে দেখ, তার পর বুঝবি মজা।
রাব্বি কৃত্রিম আফসোসের সুরে বলল, এখন কী আর বয়স আছে? আশা ছিল প্রেম করে পরির মতো একটা মেয়ে বিয়ে করব...।
লাবণী মুখ বাঁকা করে বলল, সব ব্যাটাই পরির মতো বউ চায়। কোনো নারীকে দেখেছো জিনের মতো জামাই চাইতে? আর প্রেম কি সরকারি চাকরি যে বয়স হিসাব করতে হবে? প্রেম হচ্ছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যখন খুশি করা যায়। হেডম থাকলে করে দেখাও।
রাব্বি বুঝল ডোজ বেশি হয়ে গেছে। ঝড় আসছে, থামাতে হবে। সে একদৃষ্টিতে বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। লাবণী এবার কঠিন গলায় বলল, আমার দিকে এমন ভ্যাবলার মতো তাকায়ে আছো কেন? আমি পচে গেছি, না?
রাব্বি বউয়ের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল, সুন্দর মেয়ে বিয়ে করে কী যে বিপদে পড়েছি! খালি তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।
বলেই ধপাস করে সোফায় বসে পড়ল। লাবণী বিরক্ত গলায় বলল, আবার কী হইছে?
সে কোঁকাতে কোঁকাতে বলল, হঠাৎ প্রচণ্ড মাথা ধরেছে। পাশের বাসার ভাবির কাছ থেকে একটু মাথাব্যথার মলম এনে দিতে পারবা?
ওই ভাবি অনেক কিপ্টা, দেবে না।
মানুষ যে এত কিপ্টা কীভাবে হয় বুঝি না। বাদ দাও, আলমারি থেকে নতুন আনা মাথাব্যথার মলমটা বের করে আমার মাথায় লাগিয়ে দাও। তোমার হাতের ছোঁয়া পেলেই আমার অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যাবে।
এমন সময় রাব্বির ফোনে একটা কল এলো, হ্যালো আমি আসলাম...!
রাব্বি বিরক্ত গলায় বলল, এই ব্যাটা তুই আসবি না যাবি তাতে আমার কী? আমি তোকে আসতে নিষেধ করেছি? এমনিতেই বউয়ের প্যারায় মাথা নষ্ট।
হ্যালো, হ্যালো, আমি তোমার শ্বশুর আসলাম বলছি...হ্যালো...
শ্বশুরের কণ্ঠ চিনতে পেরে রাব্বি সঙ্গে সঙ্গে জিভ কেটে মোবাইলের সুইচ অফ করে দিল।