আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন অজুহাতে ফ্ল্যাট বা প্লটের দাম বাড়িয়ে থাকেন। এতে করে মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার অন্যতম আবাসন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে বাণিজ্যিকভাবে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ উঠে এসেছে, ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে যা ব্যয় হয়, বেচা হচ্ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে। এতে বেশি দাম দিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফ্ল্যাট কেনা রীতিমতো স্বপ্নের মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকার আবাসন খাতে নতুন ফ্ল্যাটের দাম সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ নতুন অ্যাপার্টমেন্টের দাম ১ কোটি টাকার ওপরে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এককালীন কেনা সম্ভব নয়। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা অভিযোগ করে বলেছেন, আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের অনেকে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন অজুহাতে ফ্ল্যাটের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আমাদের দেশের আবাসন খাতেও বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ফ্ল্যাট ও প্লটের দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছেন। যা প্রকৃত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এভাবে আবাসন ব্যবসায়ীদের পকেট ভারী হলেও সাধারণ মানুষ একটি ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরাও একই মত জানিয়ে ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে সরকারকে কঠোর নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্যমতে, ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম অন্য এলাকার তুলনায় বেশি। প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম গুলশান-১-এ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, গুলশান-২ এ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা, উত্তরায় ৮ হাজার ৮০০ টাকা, ধানমন্ডিতে ১০ হাজার ৫০০ টাকা, সেগুনবাগিচায় ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত, মিরপুর-১৩-তে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। বসুন্ধরা এলাকায় ৯ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, প্রকৃত দামের চেয়ে কিছু লাভ রেখে এলাকাভেদে ফ্ল্যাট ও প্লটের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের লাভ করার সুযোগ দিতে হবে। সাধারণ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফ্ল্যাট ও প্লটের দাম নিশ্চিত করতে হবে। বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না তা কঠোর নজরদারি করতে হবে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবাসন খাতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা ফ্ল্যাট বা প্লট বেচাকেনা করবেন। আবাসন খাতে এ ধরনের নীতিমালা না থাকায় বৈষম্য বাড়ছে। যেসব ব্যবসায়ী নীতিমালা অগ্রাহ্য করবেন তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সরকার আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধে পদক্ষেপ নিলে এ খাতে নতুন গতি ফিরে আসবে।