ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে একদিন রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
Nagad desktop

ভোটে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চাই

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০৫ পিএম
ভোটে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চাই
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

ড. জাহিদ হোসেন একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। তিনি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র সহসম্পাদক শেহনাজ পূর্ণা। 

খবরের কাগজ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন? 
ড. জাহিদ হোসেন: বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে; যেখানে আমরা মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে পারব। এখানে বাকস্বাধীনতা থাকবে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এমন একটা নির্ভীক অধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে। পরবর্তী সময়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা হাল ছেড়ে দিইনি। আমরা এখনো স্বপ্ন দেখছি। 

আমাদের নতুন প্রজন্ম যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পড়বে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তাদের কাছে অবশ্যই অর্থবহ হয়ে থাকবে। জাতির রাজনৈতিক উত্তরণের একটা মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল ১৯৭১। ১৯৯১ ছিল জাতির রাজনৈতিক উত্তরণের আরেকটি মাহেন্দ্রক্ষণ। একইভাবে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম আরেকটি মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে। পুনরায় দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এনিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হতে পারে। ১৯৭১, ১৯৯১-এর মতো ২০২৪-এর পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্তরণের পাশাপাশি গণতত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনি জার্নিটা সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আশাপ্রদ বিষয়।

খবরের কাগজ: নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না? 
ড. জাহিদ হোসেন: নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আছে। বিশেষ করে হাদির মৃত্যুর ঘটনা আমাদের জন্য একটি মেসেজ বহন করে। জনমনে এনিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার মতো নানারকম ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। এগুলো একেকটা ভূমিকম্পের মতো। আমি বলব এগুলো রাজনৈতিক ভূমিকম্প। এগুলো নির্বাচনকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায়। এসবের পেছনে নানারকম রাজনৈতিক কারণও আছে বোঝা যায়। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে কোনো কিছুই নির্বাচনি যাত্রাকে থামাতে পারবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন তার নিজ গতিপথে এগিয়ে যাচ্ছে, দেখতে পাচ্ছি। 

খবরের কাগজ: গণভোটের চার প্রশ্ন- একটি উত্তর, জনগণের কতটা সাড়া মিলবে? 
ড. জাহিদ হোসেন: একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে গণভোট হবে। এটা ভালো দিক। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। এটা গণভোটের বিষয় নয়। এখন দেশটাকে কীভাবে শাসন করা হবে, নতুন একটা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা হতে পারে। আমি মনে করি, জনগণের রায় নিয়ে সমন্বয়ের মধ্যদিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুই একটা সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে অবশ্যই নির্বাচিত সরকার থাকবে। একটা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট হবে। বিএনপি-জামায়াতসহ সব দল এতে অংশগ্রহণ করবে। দেশে একটা নির্বাচিত সরকার থাকবে এবং একটা নির্বাচিত পার্লামেন্ট থাকবে, সে বিষয়ে সবাই একমত।

খবরের কাগজ: নির্বাচনে ইসলামিক দলগুলোর সরব উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? 
ড. জাহিদ হোসেন: অন্যান্য দলের মতো ইসলামি দলগুলোও রাজনীতির মাঠে প্রতিযোগিতা করছে। তাদের একটা ইসলামিক আদর্শ আছে। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তারা হয়তো খুব বেশি সংকুচিত ছিল বা একপেশে রাজনীতির মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমানে তারা ভোটের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখি। সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের ইচ্ছাকে অর্থাৎ জনতার রায়কে আমাদের মানতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা কী ভাবছেন? ভোটাররা কী চাচ্ছেন? এবং কোন দল কী আদর্শ ও মূল্যবোধ দিয়ে তাদের কর্মসূচি সাজাচ্ছেন, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। 

খবরের কাগজ: এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে, রাজনীতির এই নতুন ধারাকে কীভাবে দেখছেন?
ড. জাহিদ হোসেন: নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকতে পারছে না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করলে এটার কোনো প্রভাব পড়বে কি না বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে কি না এগুলো আপেক্ষিক বিষয়। মূলকথা হচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে নতুন একটি ধারা বহমান আছে। এটা সবাইকে মানতে হবে। অর্থাৎ নতুন প্রজন্ম বা তরুণদের ভাষাটা আমাদের বুঝতে হবে।  

খবরের কাগজ: আসন্ন নির্বাচনে কী কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন? 
ড. জাহিদ হোসেন: নির্বাচনের এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তাটুকু যেন পায়, সেটা প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনে সঠিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা আছে। সর্বোপরি, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে অর্থাৎ জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবারই দায়বদ্ধতা আছে। সে দায়বদ্ধতা পূরণের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনায় আসার ক্ষেত্রে সবাইকে সহাবস্থানে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকতে হবে। 

সবশেষে এটুকু বলব, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। সে অবস্থান থেকে আমরা বহু দূরে। আজকে আমরা দাঁড়িয়ে আছি আরেকটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে। আবার সবকিছু নতুন করে সাজানো হচ্ছে। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও এখনো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হইনি। অতীতে যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে আগামীতে একটা গণতান্ত্রিক এবং সবার জন্য সমৃদ্ধিশালী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে সবাই এগোচ্ছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ দেখতে চাই।

খবরের কাগজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. জাহিদ হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির

দেশের পোলট্রি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার (DOC) দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির। তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার উৎপাদন খরচ কত?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের খরচ সাধারণত ৩০ টাকার বেশি। লেয়ার বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩৫ টাকার ওপরে। তবে ফিডের দাম, প্যারেন্ট স্টকের মান এবং হ্যাচারির ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

খবরের কাগজ: খামারিদের অভিযোগ, দেশের পোলট্রি শিল্পের নিয়ন্ত্রণ বড় কোম্পানির হাতে চলে গেছে। এর বাস্তবতা কতটুকু?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: খামারিদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে, ভ্যাকসিনের খরচও রয়েছে। অন্যদিকে ডিম উৎপাদনের গড় খরচ এখন প্রায় ১০–১২ টাকার মধ্যে হলেও অনেক ক্ষেত্রে খামারিদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা প্রায়ই উৎপাদন খরচের নিচে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এই খাত এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বাড়ায় ভুট্টা, সয়াবিনসহ খাদ্য উপাদান আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে মাঝে মাঝে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিপণনব্যবস্থা থাকায় তারা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু ছোট খামারিরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারেন না। এটিই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: দেশের অর্থনীতিতে পোলট্রিশিল্পের ভূমিকা কীভাবে দেখেন?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: ঈদুল আজহার আগে-পরে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ডিম ও মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকে, তবে বাকি সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকে। পোলট্রি খাত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় মুরগির মাংস অনেক সস্তা, ফলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামাঞ্চলে পোলট্রি খামার স্থাপন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খবরের কাগজ: এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্যসীমা নির্ধারণ করা গেলে বাজারে অস্থিরতা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী এককভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এতে ছোট খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাবেন।

খবরের কাগজ: অনেকেই বলেন, বায়োসিকিউরিটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারিরা লোকসানে পড়েন–এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: বিদেশি জাতের মুরগি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। তাই খামার শুরু করার আগে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের পর খামার পরিচালনা করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বড় কোম্পানি, সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং খামারিদের সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে পুরো খাতই উপকৃত হবে।

খবরের কাগজ: মুরগির খাদ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে কী করা যেতে পারে?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টা। দেশে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এর উৎপাদন খরচ আমদানির তুলনায় কম। তবে বাজার নিশ্চয়তা দিলে আরও বেশি কৃষক এই খাতে আসবেন। এতে করে আমদানি-নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাক্ষাৎকারে সুমন হাওলাদার সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ এএম
সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার

ঈদ, আশুরা, রমজান মাসসহ বিভিন্ন ইভেন্টকে লক্ষ্য রেখে কোম্পানিগুলো রুটিন করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজ চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতে খামারিদের অবস্থা কী?
সুমন হাওলাদার: এককথায় বলতে গেলে ভালো নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্য কর্মে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের ২০০৭ সালে খামারির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫ হাজার। ২০১২ সালে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার খামারি কোনোভাবে টিকে আছেন। 

খবরের কাগজ: কারণ কী?
সুমন হাওলাদার: খামারিরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও যখন কোনো লাভ পাচ্ছেন না, তাই তারা অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যখন সাধারণ মানুষ আর মুরগি কিনে খেতে পারবেন না। গরু-ছাগলের মাংসের মতো মুরগির মাংসও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ২০২৩ সালে একবার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা হয়েছিল ব্রয়লার মুরগির দাম। এখন যেভাবে চলছে সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেরি নেই।

খবরের কাগজ: এই সংকট কীভাবে তৈরি হচ্ছে?
সুমন হাওলাদার: কোম্পানিগুলো ঈদ, রমজান মাস, শবেবরাত, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রুটিন তৈরি করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এবারের ঈদে ভোক্তারা যে মুরগি কেজি ২০০ টাকার বেশি দামে কিনে খেয়েছেন সেই বাচ্চা দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিদের কিনতে হয়েছে প্রতিটি ৮৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। কোম্পানিগুলো লাভ আগে নিয়ে নেয়। যখন চাহিদা বাড়বে তার আগেই তারা বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ফেলে। 

খবরের কাগজ: এই খাতের ওপর কোম্পানিগুলোর এত শক্ত নিয়ন্ত্রণ কীভাবে প্রতিষ্ঠা পেল?
সুমন হাওলাদার: যারা বাচ্চা উৎপাদন করে তারাই ফিড উৎপাদন করে। এ ছাড়া ওষুধ, ভ্যাকসিন সবকিছুই তারা করে। তারা চুক্তিভিত্তিক ফার্ম করে। বাজার নিয়ন্ত্রণও তারা করে। 

খবরের কাগজ: পোলট্রি শিল্পের নীতিমালা নেই? 
সুমন হাওলাদার: নীতিমালা হয়েছে। তবে তা দুর্বল নীতিমালা। সরকারের আমলারা করপোরেট গ্রুপের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। করপোরেট গ্রুপের হাতে পুরো খাতটা তুলে দিচ্ছে। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্ধকোটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বেকার করে দিচ্ছে। 

খবরের কাগজ: কোম্পানিগুলোর অভিযোগ হলো অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বাচ্চা বিক্রি করতে হয়।
সুমন হাওলাদার: এটা তাদের লোকদেখানো বক্তব্য। যেকোনো ব্যবসার নিয়ম হলো যখন চাহিদা বাড়ে কিংবা বিক্রি বাড়ে, তখন কম লাভে পণ্য বিক্রি করা। কিন্তু পোলট্রি খাতে তার উল্টো চিত্র। বিক্রি বাড়লে তারা দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করে। খামারিরা যখন লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দেন, তখন তারা কম দামে বাচ্চা বিক্রি করেন। ১০ থেকে ১২টা কোম্পানি সিন্ডিকেট করে এই জটিলতা তৈরি করেছে। দেশে প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার চাহিদা প্রায় ২ কোটি। বাচ্চার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। 

খবরের কাগজ: অভিযোগ আছে, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে না পারার কারণে অনেক সময় মুরগি মারা যায়।
সুমন হাওলাদার: এই রোগের জন্যও কোম্পানিগুলো দায়ী। তারা কম দামে প্যারেন্ট স্টক কেনার জন্য বার্ড ফ্লু হয়েছে এমন দেশ থেকে বাচ্চা কিনে আনে। তাহলে খামারে রোগ তো আসবেই। তারা শুধু নিজেদের লাভের জন্য সেই কাজটি কেন করে।

সাক্ষাৎকারে নাছির উদ্দিন ১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ এএম
১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত
প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন

একজন ক্ষুদ্র খামারি তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না। ভালোভাবে চলতে পারেন না। সরকারের উচিত অন্তত ১৫ দিন অন্তর মুরগি এবং মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে কেউ রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: খামার করতে এসে অনেকেই টিকতে পারছেন না কেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: খামার করতে এসে টিকতে না পারার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারা। খামার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যার অভাব। খামার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। এখানে বাজারজাত করার একটি ব্যাপারও রয়েছে। বাজারে মূল্য পেতে হলে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে হবে।

খবরের কাগজ: খাবারের দাম বেশি, বাচ্চার দাম বেশি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বর্তমানে মুরগির পাইকারি দাম কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তবে খাবারের দাম আর একটু কম থাকলে ভালো হতো। পর্যাপ্ত খাবার, টিকা ওষুধ দিয়ে উৎপাদনের দেখা গেল বাজারে মূল্য কম। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে ১৫ দিন অন্তর বাচ্চা এবং মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে তাহলে সবাই উপকৃত হতো। 

খবরের কাগজ: সরকার আর কী করলে খামারিদের উপকার হবে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বেসরকারিভাবে খামার তৈরি হচ্ছে। খামারিরা কীভাবে উৎপাদন করছে, সেটিও দেখাশোনার কেউ নেই। এতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যান। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চা ক্রয় থেকে লালনপালন ও বিক্রি সব ক্ষেত্রে যদি সরকারি নজরদারি রাখে তাহলে সবার জন্য মঙ্গল। কেউ রাতারাতি যা খুশি তা করতে পারবে না। 

খবরের কাগজ: রোগবালাই নিরসনের ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: আমার খামারে যেকোনো রোগবালাই নিজেই চিকিৎসা করি। একজন খামারি হিসেবে খামার সম্পর্কে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা খুবই দরকার। খামারে সমস্যা দেখা গেলে কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এই যে সমস্যা নির্ণয় করা, সেটি একজন খামারি ছাড়া বেশি কেউ বুঝবে না। তাই বলছি, খামারিকে ট্রেনিং নিতে হবে। রোগ বালাইয়ের লক্ষণ বুঝতে হবে। 

খবরের কাগজ: যারা নতুন খামার করতে আসছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন। 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। খামার করতে হলে আধুনিকভাবে করতে হবে। অর্থাৎ কাজ জেনে খামারে নামতে হবে। কিছু জানাশোনা থাকলে বাকি কাজটা করতে গিয়ে শিখতে পারবে। 

খবরের কাগজ: একসময় অনেক খামার ছিল, এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: এই ব্যবসাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। এখানে ঝুঁকি বেশি। অনেকে না বুঝে এসে আটকে যান। সামনেও যেতে পারেন না, পেছনেও যেতে পারেন না। অনেকে ৬ মাস এক বছর খামার করে বন্ধ করে দেন। লাভ করতে না পেরে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে যান। খামার ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি উন্নতি করেন, খামারিরা করতে পারেন না। 

খবরের কাগজ: আপনিতে নিজেই অনেক অভিজ্ঞ, আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: ঠিক বলেছেন, সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি। বিগত ১০ বছর ধরে এ ব্যবসায় রয়েছি। একজন খামারি তার ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না, ভালো কিছু খেতে পারেন না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছেন। আমরা লাভ করতে পারি না।

সাক্ষাৎকারে মাসাদুল আলম মাসুদ নীতি-সহায়তা বাড়ালে রডের বাজার স্থিতিশীল হবে

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
নীতি-সহায়তা বাড়ালে রডের বাজার স্থিতিশীল হবে
শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উন্নয়নকাজে ধাক্কা লাগে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ থমকে যায়। রডের প্রতিটনে দাম কমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে দেশে। বিনিয়োগকারীদের মনে আশা জাগে। কিন্তু কয়দিন না যেতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে টালমাটাল হয়ে যায় নির্মাণসামগ্রীর বাজার। বিশেষ করে রডের টনে বেড়েছে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। এভাবে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই হতভম্ব হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখছেন। এ অবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব। এসব জানতে খবরের কাগজ কথা বলেছে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম

খবরের কাগজ: বর্তমানে রডের বেচা-বিক্রি কেমন হচ্ছে? 
এস কে মাসাদুল আলম: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে উন্নয়নকাজ থমকে যায়। বেচাবিক্রি খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। অনেক ঠিকাদার পালিয়ে যান। আবার বেসরকারি খাতের নতুন করে কেউ বিনিয়োগও করেননি। এ জন্য দেশে রড ও সিমেন্ট বেচাবিক্রি একেবারে কমে যায়। কিন্তু নির্বাচিত সরকার গঠনের পর আমরা আশায় বুক বাঁধি। কিন্তু সরকার গঠনের কয়দিন না যেতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তার ধাক্কা লাগে নির্মাণসামগ্রীতে। বিশেষ করে রডের কাঁচামাল স্ক্যাপের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগের কোনো স্টক ছিল না। তাই দাম বেড়ে গেছে। বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে।

খবরের কাগজ: রডের দাম যাওয়ার কারণ কী? 
এস কে মাসাদুল আলম: গত সরকার ২০২৪ সালে যখন দায়িত্ব নেয় তখন বেচাকেনা কমে যায়। ফলে রডের দামও প্রতিটনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কমে যায়। লোকশান করে ব্যবসা করতে হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর আমাদের মৌসুম শুরু হয়। চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধও শুরু হয়েছে। এ জন্য টনে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।   

খবরের কাগজ: যুদ্ধের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কেন রডের দাম বাড়ল। উৎপাদন তো সেই এলসি খোলার কাঁচামাল থেকে হয়নি?
এস কে মাসাদুল আলম: এ সময়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনও অনেক কমে যায়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অনেক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মৌসুমে সব পণ্যের দাম বাড়ে। নির্মাণসামগ্রীর মৌসুমও শীতকাল। তাই জানুয়ারি থেকেই একটু একটু দাম বাড়ে। যুদ্ধের কারণে আরও বেড়ে যায়। স্ক্যাপ ও পরিবহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে। তবে এলসি খোলার পর সেই পণ্য দেশে আসতে ২ থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে যুদ্ধের প্রভাবেই রডের দাম বেড়েছে। শুধু রড না এর সঙ্গে তার, কেবল, ইলেকট্রিক, গ্লাস সব কিছুর দাম বাড়ছে।  

খবরের কাগজ: রডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে চাহিদা কেমন? 
এস কে মাসাদুল আলম: চাহিদা মোটামুটি আছে। কারণ এখন নির্মাণ খাতের মৌসুম।  ৯০ থেকে ৯৮ হাজার টাকা টন হয়েছে, যা কমে কিছুদিন আগে ৭৭ থেকে ৮৪ হাজার টাকায় নামে। এভাবে দাম কমে যাওয়ায় অনেককেই লোকশান করে ব্যবসা করতে হয়। তবে যারা বড় কোম্পানি লোকশান থেকে রেহাই পেতে স্টক করে রাখেন। অনেকেই টিকতে না পেরে কারখানা বন্ধ রাখেন। ৪০টির মধ্যে প্রায় ১৫টি অটোমেটিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক ছোট কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।  

খবরের কাগজ: এ অবস্থার কী পরিবর্তন হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: দেশে স্থিতিশীলতা দরকার। ভালো সরকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব না। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর আমরা আশা করলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শঙ্কার মধ্যেই ব্যবসা করতে হয়েছে। কেউ নতুন করে বিনিয়োগ করেননি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যবসা-বাণিজ্যের খারাপ অবস্থা। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। আগে ইউরোপ থেকে কাঁচামাল আসত। বিভিন্ন কারণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা এ শিল্পে বিনিয়োগ করেছি তারা ভুক্তভোগী। তাই নির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এবারের বাজেটে যেন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আসে। তা হলেই এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে। এক সময়ে করোনা গেল। তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তা শেষ না হতেই আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই সরকারকে আমাদের উদারভাবে সমর্থন দিতে হবে। তা না হলে টিকা কঠিন হয়ে যাবে। ব্যাংকের সহায়তা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।

খবরের কাগজ: সরকার কী করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: ডলারের দাম বৃদ্ধি বা টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। কারণ ব্যাংকও আগের তুলনায় খারাপ অবস্থায় থাকায় চাহিদামতো আমাদের সুবিধা দিচ্ছে না। কাঁচামালের ওপর শুল্ক বেশি, তা কমাতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কালাকালুন আইন বন্ধ করতে হবে। সরকার ও ব্যাংকের নীতি-সহায়তা (পলিসি সাপোর্ট) বাড়াতে হবে। তবে দেশের বাজার স্থিতিশীল হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। 

খবরের কাগজ: এই শিল্পে বিনিয়োগ কেমন হবে?
এস কে মাসাদুল আলম: প্রথমে কম থাকলেও বর্তমানে ৪০টির মতো অটো স্টিলমিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি রডের কারখানা আগে ৩০০ মতো ছিল। বর্তমানে ১৫০টির মতো টিকে আছে। সব মিলিয়ে এ শিল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। পরোক্ষভাবে জড়িত ২ কোটি পরিবার। কারণ দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের আনাচে-কানাচে ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে বন্দরের পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সবাই এর সঙ্গে পরোভাবে যুক্ত। রডের যেখানে ব্যবহার হয় সেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট, থাই, গ্লাসেও ব্যবহার হয়। তারাও পরোক্ষভাবে এই শিল্পে জড়িত। কাজেই দেশে ব্যবসা ভালো চললে সবাই ভালো থাকবেন।

সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবদুর রহিম যুদ্ধের প্রভাবে কমেছে সিমেন্ট বিক্রি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
যুদ্ধের প্রভাবে কমেছে সিমেন্ট বিক্রি
ডায়মন্ড সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মোহাম্মদ আবদুর রহিম

সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও কমে গেছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের অন্যতম বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্য। আর যুদ্ধের প্রভাবে সেখানে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। অপর দিকে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। খবরের কাগজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ডায়মন্ড সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মোহাম্মদ আবদুর রহিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: কবে থেকে সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি শুরু।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হয় এর কয়েক দিন পর থেকেই মূলত সিমেন্টের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। 

খবরের কাগজ: যুদ্ধের সঙ্গে সিমেন্টের সম্পর্ক কোথায়?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের সপ্তাহ থেকে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম প্রতিটনে ১০ থেকে ১৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। প্রতিটন মানে ২০ ব্যাগ। অধিকাংশ কাঁচামাল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সৌদি আরবের জেবল আলী বন্দর থেকে এসব কাঁচামাল মূলত জাহাজীকরণ করা হয়। যে কারণে কাঁচামালের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও কিছু সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সিমেন্টের কোন কোন কাঁচামাল আনা হয়?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: লাইমস্টোন, জিপসাম, ক্লিংকারসহ প্রায় সব ধরনের কাঁচামাল আমদানি করা হয়।

খবরের কাগজ: স্থানীয় সংকট কীভাবে সৃষ্টি হলো?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: দেশে জ্বালানিসংকটের কারণে গাড়ির ভাড়া বেড়ে গেছে। সিমেন্ট হচ্ছে ভারী পণ্য। এই পণ্যটি পরিবহন করতে হয় সতর্কভাবে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান কিংবা জলযানে জ্বালানি তেল পেতে কষ্ট হচ্ছে। দূর-দূরান্তে সিমেন্ট পাঠানোর সময় গাড়িচালকরা তাদের গাড়ি কয়েক জায়গায় দাঁড়িয়ে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। যে কারণে তারা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। আমরাও দিতে বাধ্য হচ্ছি। এই বাড়তি ভাড়া সিমেন্টের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।  

খবরের কাগজ: সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বলছে সংকটও নেই।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি ঠিক। কিন্তু নানা কারণে সংকট দূর করতে পারেনি। এখানে সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও জ্বালানি তেলের যে সংকট চলছে তা দূর করতে রাষ্ট্রের যেসব যন্ত্র ভূমিকা রাখার কথা তারা যথাযথভাবে রাখতে পারেনি।  

খবরের কাগজ: সিমেন্টের দাম কী হারে বেড়েছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: প্রতি ব্যাগে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমাদের উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, তা সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি। বাস্তবতা হলো যতটুকু খরচ বেড়েছে ততটুকু বাড়ানো যায়নি। 

খবরের কাগজ: যুদ্ধের আগে যেসব পণ্যের লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা হয়েছে সেসব পণ্য এখনো দেশে পৌঁছায়নি।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: না আসেনি। কাঁচামাল রপ্তানিকারী দেশগুলোতে কাঁচামাল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তাদের ক্লিংকারের কারখানা আছে, যা অতি উচ্চমাত্রায় সেদ্ধ করতে হয়। তাদেরও জ্বালানিসংকট এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। তাই তারা আগের দামে পণ্য রপ্তানি করতে রাজি হচ্ছে না। বাড়তি দাম যোগ করলে পণ্য পাঠাবে। নতুবা পাঠাবে না। এই কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছে।

খবরের কাগজ: দামের কারণে সিমেন্টের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম:  অবশ্যই পড়েছে। তবে শুধু দামের কারণে প্রভাব পড়েছে এ কথা সত্য নয়। যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। যুদ্ধের কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক বাসায় বসে কোনো রকমের দিন কাটাচ্ছেন। প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈধ এবং অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর। মূলত নির্মাণশিল্প পণ্যের বড় গ্রাহক প্রবাসীরা। তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠান। দেশে নিজের বাড়ি করেন। এমনকি তারা দান দক্ষিণাও বেশি করেন। দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা যেখানে নিজে খেয়েপরে বেঁচে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। সেখানে নিজের বাড়িতে টাকা পাঠানো তাদের জন্য কঠিন। আর মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের হাতে টাকা থাকলে তা তারা নিজের কাছে জমা রাখেন না, দেশে পাঠিয়ে দেন। 

খবরের কাগজ: বাজারে কী পরিমাণ চাহিদা কমেছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: গত মার্চ মাসে দেশে সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ টন। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে তার চেয়ে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে।