ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প কাঠ থেকে তৈরি শপিং ব্যাগ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০৪:০৬ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০৪:১১ পিএম
প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প কাঠ থেকে তৈরি শপিং ব্যাগ
লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজের রেনোল উপাদান ব্যবহার করে তৈরি একটি বায়োপ্লাস্টিক ব্যাগ ছবি: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট

কাঠ থেকে তৈরি শপিং ব্যাগ প্লাস্টিকের ব্যাগের টেকসই বিকল্প হিসেবে আশা জাগাচ্ছে। ‘লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের সুইডিশ এক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান কাঠশিল্পের বর্জ্য থেকে বায়োপ্লাস্টিক তৈরির কৌশল আবিষ্কার করেছে। শপিং ব্যাগ থেকে শুরু করে স্মার্টফোন পর্যন্ত তৈরিতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কাঠের প্রধান উপাদান লিগনিন থেকে এই জৈবভিত্তিক উপাদান তৈরি করা হয়েছে। কাগজ ও মণ্ড তৈরির কারখানায় সাধারণত এই উপাদান ফেলে দেওয়া হয় বা পোড়ানো হয়। তবে লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজ এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় লিগনিনের গুঁড়াকে ‘রেনোল’ নামের জৈবভিত্তিক উপাদানে রূপান্তর করা যায়।

                    লিগনিন থেকে তৈরি জৈবভিত্তিক উপাদান রেনোলের সিলিন্ডার ছবি: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট

 

রেনোলের রং দেখতে কাঠের মতোই, গন্ধও একই রকম হয়। তবে এতে প্লাস্টিকের মতো নমনীয়তা ও বৈচিত্র্য থাকায়, বর্তমানে প্লাস্টিক শিল্পে ব্যবহার করা জীবাশ্মভিত্তিক উপাদানের টেকসই বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ক্রিস্টোফার ক্যারিক বলেন, ‘আমরা কাঁচামাল হিসেবে তেলের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করছি।’

সাধারণত জৈবভিত্তিক উপাদানগুলো নির্দিষ্ট একটি পণ্য তৈরির জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়। তবে এই উপাদান বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক তৈরিতে কাজে লাগানো যাবে। শপিং ব্যাগ থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব এর মাধ্যমে।’

লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী ফ্রেডরিক মালমফোর্স বলেন, ‘কাগজের ব্যাগের প্রতি অনেকের অনেক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কাগজ ভালো জিনিস, আমরাও কাগজ পছন্দ করি। তবে আমাদের পণ্যটি কাগজ ও প্লাস্টিকের মাঝামাঝি অবস্থান করে। ফলে এর মাধ্যমে কাগজের মতো পরিবেশবান্ধব ব্যাগ পাওয়া যাবে, আবার প্লাস্টিকের মতো সুবিধাও পাওয়া যাবে।’

বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল লিগনিন গুঁড়াকে থার্মোপ্লাস্টিক রেনোলে রূপান্তর করার রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি পচা ডিমের গন্ধ দূর করা। লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজ পাঁচ বছর গবেষণা করে, লিগনিনের আসল গন্ধ ধরে রাখার সমাধান খুঁজে বের করেছে। বর্তমানে উপাদানটির গন্ধ বন থেকে সংগ্রহ করা কাঠের মতোই।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাদের তৈরি জৈব প্লাস্টিককে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতে কাজ করছে। ইভি চার্জার, হিট পাম্প ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের জন্য প্লাস্টিক তৈরি করে এমন একটি ব্রিটিশ সংস্থার সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে। পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক উৎপাদনকারীদের নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে এই জৈব প্লাস্টিকের সাফল্য এল।

নদী থেকে প্রাপ্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা ছবি: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা প্রতিটি মানুষের অণ্ডকোষে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে চীনা গবেষকরা হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং পায়ের রক্তের জমাটেও এগুলোর উপস্থিতি পেয়েছেন।

এর আগে লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রকল্পে নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব কেমিস্ট্রির ড. সারাহ কি-এর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, উজ্জ্বল রঙের প্লাস্টিক সাধারণ রঙের চেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়। গবেষণাটির প্রধান ‍ড. সারাহ বলেন, ‘লাল ও সবুজের মতো রঙিন প্লাস্টিক খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে। যেসব পণ্য খোলা আকাশের নিচে বা রোদে অনেক বেশি সময় থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রং এড়িয়ে চলা উচিত।’

লিগনিন ইন্ডাস্ট্রিজ দাবি করেছে, তাদের তৈরি খয়েরি রঙের জৈব প্লাস্টিক মাইক্রোপ্লাস্টিক কমাতে ও পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কার্বন নিরপেক্ষ রেনোল উপাদান বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের চাহিদার ৫০ শতাংশেরও বেশি মেটাতে সক্ষম। ফ্রেডরিক মালমফোর্স আরও বলেন, পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে লিগনিন পাওয়া যায়।

প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ কোটি টন লিগনিন উৎপন্ন হয়। আর জৈব পদার্থের সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। আমাদের প্লাস্টিক শিল্পের জীবাশ্ম প্রভাব ভাঙতে হবে।

 

আনারসের ভালো ও মন্দ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম
আনারসের ভালো ও মন্দ

আনারস কম-বেশি সারা বছরই পাওয়া যায়। এই ফল অনেকে খেতে পচ্ছন্দ করলেও, আবার অনেকে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এর বেশ কিছু কারণও রয়েছে। আনারস এমন একটি ফল, এটিকে যে খায় এটিও সেই খাদককে খাওয়ার চেষ্টা করে। যে পদার্থটি আনারসকে এই আচরণ করতে সহায়তা করে, তা হলো ব্রোমেলিন । এটি এক ধরনের এনজাইম। এই এনজাইম আনারসের রসে ও কাঁচা আনারসের কাণ্ডে পাওয়া যায়। এনজাইমটি প্রোটিন ভাঙার কাজ করে, এতে মাংস নরম করতে ও হজমে সহায়তা করে।

আনারসের মধ্যে থাকা ব্রোমেলিন খাওয়ার সময় জিব্বা ও ঠোঁটে একটি ঝাঁজালো ও জ্বালা-পোড়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। কিছু লোকের জন্য যা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে এটি ক্ষতিকর নয়। আনারস খাওয়ার আগে লবণাক্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ব্রোমেলিনের ঝাঁজালো প্রভাব কিছুটা কমে যায়।

ব্রোমেলিনের কিছু উপকারিতা রয়েছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রদাহ কমাতে, এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করে। আনারসে ব্রোমেলিন থাকায় এটি দিয়ে ওষুধ বানানো হয়ে থাকে। তা ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিকনভালসেন্ট  ব্যবহারকালীন সময়ে ডাক্তাররা আনারস খেতে নিষেধ করে থাকেন। কারণ এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আনারস খাওয়ার ফলে অনেকের শরীরে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জির উপসর্গ হিসেবে ঠোঁট ফুলে যাওয়া ও গলায় সুড়সুড়ি বোধ হতে পারে। তাই আনারস খাওয়ার আগে কেটে লবণ পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে করে আর কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

আনারসের কারণে নারীদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় থাকলে নারীদের এটি খেতে বারণ করা হয়।  গর্ভাবস্থার পরে চাইলে আনারস খেতে পারেন। তবে শরীরের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

আনারস খাওয়ার পর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল নালির কাছে পৌঁছানোর পর এটি অ্যালকোহলে পরিণত হয়। এ কারণে মানুষের দেহে বাতের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাই যাদের দেহে বাতের ব্যথা আছে বা বাত হতে পারে মনে হচ্ছে, তাদের আনারস না খাওয়াই ভালো।

অনেকেই কাঁচা আনারস দিয়ে জুস বানিয়ে থাকে। তবে এটি শরীরে বিরূপ প্রভাব তৈরি করতে পারে। মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খাওয়ার কারণে বমির প্রবণতা দেখা দেয়। কাঁচা আনারসে থাকে অনেক বেশি পরিমাণে অ্যাসিডিটি, যা মুখের ভেতর ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে। ফলটি খাওয়ার পর মাঝে মাঝে অনেকের পেটে ব্যথাও হতে পারে।
রক্ত তরল করার জন্য ওষুধ তৈরিতে আনারস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতে বাধা দিয়ে থাকে। আনারস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। যাদের দাঁতে ক্যাভিটিস ও জিংজাইভেটিভসের সমস্যা আছে, তাদের আনারস না খাওয়াই ভালো।

আনারস খেলে শরীরে নানা  ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও এটি পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান মানবদেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শুনতে অবাক লাগলেও, আনারস ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার ও অনেক কম ফ্যাট রয়েছে।

আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আনারস খেলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগপ্রতিরোধ করা সম্ভব।

/আবরার জাহিন

বিশ্বের বৃহত্তম ক্যামেরা স্থাপিত হচ্ছে চিলির মরুভূমিতে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৪ পিএম
বিশ্বের বৃহত্তম ক্যামেরা স্থাপিত হচ্ছে চিলির মরুভূমিতে

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির উত্তরের খোলা আকাশের নিচে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য তৈরি সবচেয়ে বড় ডিজিটাল ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ক্যামেরা, যা এক দশকব্যাপী জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য অনুসন্ধান পরিচালনা করবে। 

চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোর ৫৬৫ কিলোমিটার উত্তরে কোকিম্বো অঞ্চলের আতাকামা মরুভূমির প্রান্তে সেরো পাচোনের (Cerro Pachón) শৃঙ্গে ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি স্থাপনের কাজ চলছে। এই অবজারভেটরিতে থাকবে একটি গ্রাউন্ডভিত্তিক টেলিস্কোপ এবং এক বিশাল ক্যামেরা। এর অংশগুলো ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি যানবাহনে পৌঁছেছে।

নোয়াল্যাব (NoirLab) সেন্টার পরিচালনা করবে এই অবজারভেটরি। নোয়াল্যাবের উপ-পরিচালক ও অরা সংস্থার চিফ সায়েন্স অফিসার স্টুয়ার্ট কর্ডার বলেন, ‘এই অবজারভেটরি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই পৌঁছে গেছে। আশা করা যাচ্ছে, এই বছরের শেষদিকে এটি স্থাপন করা হবে।’

ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি একটি জটিল ও সমন্বিত ব্যবস্থা। এটি একটি আট মিটারের গ্রাউন্ডভিত্তিক টেলিস্কোপ, একটি ক্যামেরা ও একটি সমন্বিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা নিয়ে গঠিত। প্রতি দিন প্রায় ২০ টেরাবাইট ডেটা উৎপন্ন করবে এই অবজারভেটরি। দশ বছর ধরে চলা অনুসন্ধানের ফলে ১৫ পেটাবাইটের একটি ক্যাটালগ ডেটাবেস তৈরি হবে। 

এই অনুসন্ধান অভিযানের লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। বর্তমানে এসব বিষয়ে খুবই কম তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া এই অভিযান পৃথিবীর গ্রহাণু, উল্কা, সূর্যের নিকটবর্তী নক্ষত্র বা গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করবে।

কর্ডার বলেন, ‘এটি একটি সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত। আমরা বলতে পারি- আমরা শুরু করছি। আমরা এখন সীমানার কাছে দাঁড়িয়ে আছি। এমন একটি অভিযান শুরু করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, আশা করি যা দশ বছরের মধ্যে মহাবিশ্ব কখন সৃষ্টি ও গতিশীল হয়েছিল... এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে বিবর্তিত হতে থাকবে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেবে।’

অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি ফর রিসার্চ ইন অ্যাস্ট্রোনমি (অরা) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৩টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। এটি ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও নাসার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণাগার পরিচালনা করে। অরা পরিচালিত করছে এর মধ্যে অন্যতম হলো নোয়াল্যাব সেন্টার। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি আতাকামার পরিষ্কার আকাশের কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় বিশ্বের বেশির ভাগ বিনিয়োগ চিলিতে করা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের এসএলএসি ন্যাশনাল অ্যাক্সিলারেটর ল্যাবরেটরির গবেষক ও প্রকৌশলীরা এই বৃহত্তম ক্যামেরা নির্মাণ করেছেন। দুই দশকের গবেষণার পর এটি তৈরি করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটির মাধ্যমে মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। মূলত জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের জন্য এ ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করা হয়েছে।

লিগ্যাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম (এলএসএসটি) ক্যামেরার রেজ্যুলশন ৩ হাজার ২০০ মেগাপিক্সেল বা ৩ দশমিক ২ গিগাপিক্সেলেরও বেশি। আইফোনের সর্বশেষ মডেলের স্মার্টফোনের রয়েছে মাত্র ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা এলএসএসটি ক্যামেরার তুলনায় মাত্র ০ দশমিক ০১ শতাংশ ডিটেইল ক্যাপচার করতে পারে। 

ক্যামেরাটির ওজন ৩ হাজার কেজি বা ৩ মেট্রিক টন। গড়পড়তা এশিয়ান নারী হাতির ওজনের প্রায় সমান। ক্যামেরাটির লেন্সও বিশাল— ১ দশমিক ৫৭ মিটার বা ৫ দশমিক ১ ফুট। এই ক্যামেরার রেজ্যুলুশন এত উচ্চ যে, এর একটি ছবি পুরোপুরি দেখাতে কয়েক শ হাই-ডেফিনিশন টেলিভিশন প্রয়োজন হবে। এটির ছবি এত বিস্তৃত যে, প্রায় ১৫ মাইল দূর থেকেও একটি গলফ বলের ছবি তোলা যায়। এমনকি এটি দিয়ে চাঁদের চেয়ে ৭ গুণ বড় আকাশের একটি অংশের ছবি তোলা যাবে। এটি ব্যবহার করে আকাশের ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রিজুড়ে ছবি তোলা যাবে।

এলএসএসটির মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে। ডার্ক ম্যাটার সন্ধানের পাশাপাশি এর দ্বিতীয় কাজ মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুর আরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরিতে সাহায্য করা। এর আরেকটি কাজ, নিয়ত পরিবর্তনশীল আকাশের বিভিন্ন বস্তু আবিষ্কার করা। কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো খেয়াল রাখা। সেই সঙ্গে সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চল, কুইপার বেল্টের শত-সহস্র নতুন বস্তুকেও এটি চিহ্নিত করতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের আরও পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরিতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। ছোট, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিভিন্ন বস্তুর যে স্পষ্ট ছবি তোলার ক্ষমতা এলএসএসটির আছে, আগের কোনো টেলিস্কোপেরই তা ছিল।

এ ক্যামেরা তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৪৪২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন প্রকল্পটির জন্য তহবিলের অনুমোদন দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি এ ক্যামেরা নির্মাণে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্যমতে, এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ রেজ্যুলুশন-সমৃদ্ধ ক্যামেরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে এটি ছবি তোলার কাজ শুরু করবে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের দিকে।  সূত্র: রয়টার্স

 

লাখো বছরের বিবর্তনে ধান বন্য থেকে ঘরে

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০৫:৩৫ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০৫:৩৫ পিএম
লাখো বছরের বিবর্তনে ধান বন্য থেকে ঘরে
চাষের ধান ‘ওরিজা স্যাটিভা’-এর জন্মভুমি চীন ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি চীনের একদল বিজ্ঞানী ধানের বিবর্তনের ১ লাখ বছরের অবিশ্বাস্য ইতিহাস উন্মোচন করেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, কীভাবে বন্য উদ্ভিদ থেকে চাষের ফসলে রূপান্তরিত হয়েছে ধান। সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ধানের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে ধান কীভাবে ক্রমাগত বিবর্তিত হয়েছে, যা মানবসমাজের বিকাশ ও কৃষির উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছে।

গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, চাষের ধান ‘ওরিজা স্যাটিভা’-এর জন্মভূমি চীন। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস (আইজিজিএসিএএস) ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জিওলজি ও জিওফিজিক্স ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা দল ঝেজিয়াংয়ের শাংশান সাংস্কৃতিক এলাকায় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

তাদের আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী কৃষির উৎপত্তিতে শাংশান সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। মানুষের জীবনযাপন শিকার ও সংগ্রহ থেকে কৃষিক্ষেত্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। কারণ বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য ধান, যা চীনা সভ্যতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কখন ও কীভাবে মানুষ বন্য ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছে, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ধানের উৎপত্তির বিষয়টি গত শতাব্দীতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল। ১৯৭০ এর দশকে চীনের ইয়াংসি নদী অঞ্চলের হেমুডু ও শাংশানের মতো স্থানে আবিষ্কারের মাধ্যমে, বিজ্ঞানীরা অঞ্চলটিকে ধানের উৎপত্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

প্রাচীন নমুনায় বন্য ও চাষাবাদের ধানের মধ্যে পার্থক্য করা, এই গবেষণার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। আইজিজিএসিএএসের ড. লু হুয়ুয়ান ও তার দল বছরের পর বছর ধরে ধানের ‘ফাইটোলিথ’ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ফাইটোলিথগুলো গাছপালায় পাওয়া ক্ষুদ্র সিলিকা কণিকা।

তারা এ গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন, ধানের ‘বুলিফর্ম’ কোষ মাছের আঁশের মতো বিভিন্ন ফাইটোলিথের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ধান আবাদি হয়েছে। এই তথ্যের সাহায্যে গবেষকরা বন্য ও চাষের ধানের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ধানের ফাইটোলিথ বিশ্লেষণের সঙ্গে তারা আরও কিছু কৌশল যেমন- পরাগ ও কাঠকয়লার বিশ্লেষণ, মাটি পরীক্ষা, শস্যের দানার আকার পরীক্ষা ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সম্মিলিত পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে চীনের পুজিয়াং প্রদেশের শাংশান সাইট ও লংইউ প্রদেশের হেহুয়াশান সাইট পরীক্ষা করেছেন।

এই স্থানগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা প্রায় ১ লাখ বছরের একটি ধারাবাহিক সময়রেখা তৈরি করেছেন। গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, প্রায় ১ লাখ বছর আগে ইয়াংসি অঞ্চলে বন্য ধানের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। প্রায় ২৪ হাজার বছর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্ভবত মানুষ বন্য ধান সংগ্রহ শুরু করে। প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে মানুষ বন্য ধানের প্রাক-চাষাবাদ শুরু করে। ১১ হাজার বছর পর চাষের আরও বেশি সাধারণ হয়ে ওঠে, যা পূর্ব এশিয়ায় ধান চাষের শুরুকে চিহ্নিত করে।

এই গবেষণায় আরও উঠে আসে, কৃষিতে পূর্ব এশিয়ায় ধান ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় একই সময়ে গড়ে উঠেছিল। এই গবেষণা বিশ্বব্যাপী কৃষি কীভাবে শুরু হয়েছিল সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং ধান, জলবায়ু, মানুষের কার্যকলাপ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরেছে।

 

সদয় হওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
সদয় হওয়ার আহ্বান
কার্লা সোফিয়া গ্যাসকন

দীর্ঘ দিনের চেপে রাখা কান্না কান সৈকতের পাড়ে গিয়ে কাঁদলেন কার্লা সোফিয়া গ্যাসকন। রূপান্তরকামী একজন নারী হিসেবে নিজের দেশেও অপমানিত হতে হয়েছে তাকে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। সেখান থেকেই রূপান্তরকামীদের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনয়শিল্পী। 

’ইমিলিয়া পেরেস’ সিনেমার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন চারজন। তাদের অন্যতম কার্লা। জ্যাক অদিয়াঁর নির্মিত ছবিটায় পুরস্কার পাওয়ার পর বক্তৃতায় তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। জানান, রূপান্তরকামী হওয়ায় পদে পদে কীভাবে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। বক্তৃতায় রূপান্তরকামিতা নিয়ে কুসংস্কার ও তার সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হয়, হত্যার হুমকির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেসব তিক্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কার্লা। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দেশ মেক্সিকোতে মানুষ আমাদের বিশ্রি ভাষায় সম্বোধন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা, আমাদের সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত। শরীর আমাদের, এটা বদলে ফেলার অধিকারও আমার আছে।’ তার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, ট্রান্সজেন্ডাররা স্বাভাবিক মানুষ, তাদের সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।

রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের সংগ্রাম শুধু সামাজিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও তাদের সংগ্রাম করতে হয় প্রতিনিয়ত। রূপান্তরকামিতা কোনো মানসিক রোগ নয়, এটি এখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত নয়। এ কারণে এই সম্প্রদায়ের মানুষকে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। ‘এমিলিয়া পেরেস’ সিনেমায় শুরুতে কার্লার ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তিনি কি একজন পুরুষ মাদকমাফিয়া হবেন, নাকি নারী! যদিও ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয় অতিথিদের চোখে পড়েছিল। টানা ১১ মিনিটের অভিবাদনই সে কথা বলে দেয়।

কলি

মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি চীনা একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বিরল মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কার করেছেন। দেশটির সাংহাই অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির অধ্যাপক জি জিয়ানের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল মহাবিশ্বের দুর্লভ সংকেতগুলো শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করেছে।

গবেষণা দলটি কোয়াসার বর্ণালী থেকে নির্গত বিভিন্ন দুর্বল আলোর সংকেত খুঁজতে নজর দিয়েছিল। এটি মূলত দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলোর উৎস। এ গবেষণায় ‘ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষকরা বিভিন্ন ‘নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার’ চিহ্নিত করেছেন, যা ছায়াপথের গঠন ও বিবর্তন গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধূলিকণাযুক্ত ঠাণ্ডা গ্যাসের সঙ্গে পাওয়া যায় নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার। তবে এই সংকেত দুর্বল ও শনাক্ত করা কঠিন। প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের ডেটাসেট থেকে সংকেত খুঁজে পেতে লড়াই করতে হয়েছে। অধ্যাপক জি জিয়ান এটিকে ‘খড়ের গাদায় সুই খোঁজার সঙ্গে তুলনা করেছেন।’ এর আগে ২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা জোতির্বিদ্যাবিষয়ক জরিপ ‘স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে (এসডিএসএস)’-এর ডেটা থেকে ৬৬টি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছিলেন।

তবে অধ্যাপক জি জিয়ানের গবেষক দলটি নিজস্ব এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন আরও ১০৭টি বিরল অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছেন। এটি ২০১৫ সালে পাওয়া সংখ্যার দ্বিগুণ ও আরও ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করেছে। প্রকৃত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নমুনা দিয়ে ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দলটির এই সাফল্য পেয়েছে। এসডিএসএসের ডেটা এই নেটওয়ার্কগুলোয় প্রয়োগ করার পর, সেগুলো আরও বেশি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার চিহ্নিত করেছে। তাদের এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বারযুক্ত প্রাথমিক ছায়াপথগুলো বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩০০ কোটি বছর পর দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হয়েছে।

‘লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড’ নামের ছোট গ্যালাক্সি মতো অবস্থা থেকে মিল্কিওয়ের মতো অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার সময়, এই ছায়াপথগুলো প্রচুর পরিমাণে ধাতব উপাদান তৈরি করেছে। এর কিছু অংশ ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ‘ডাস্ট রেডেনিং ইফেক্ট’ নামের ঘটনাটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কারে সঙ্গে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের মিল রয়েছে। যেটি প্রাচীনতম বিভিন্ন তারায় কার্বনের ধূলিকণা শনাক্ত করেছে। এই দুই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, আগের ধারণার চেয়ে কিছু ছায়াপথ অনেক দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ছায়াপথ গঠনের বিদ্যমান মডেলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে গবেষক দল ছায়াপথের নিঃসরিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করলেও, জি জিয়ানের দল কোয়াসার শোষিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করছেন। নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার প্রথম দিকের ছায়াপথের বিবর্তন গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অধ্যাপক জি জিয়ান মহাকাশীয় তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে দুর্লভ সংকেতগুলো আবিষ্কার করতে অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগোরিদম উন্নয়নের আরও জোর দিয়েছেন। দলটি তাদের পদ্ধতিটিকে ছবি শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা দুর্বল সংকেত শনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণের উন্নতির জন্য কৃত্রিম মাল্টি-স্ট্রাকচার চিত্র তৈরি করছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়েছে, দলটির এই গবেষণা মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। সূত্র: নোরিজ।