ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

রকেট উৎক্ষেপণে কেন দরকার ৩০ লাখ লিটার পানি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ০১:২৭ পিএম
রকেট উৎক্ষেপণে কেন দরকার ৩০ লাখ লিটার পানি

রকেট উৎক্ষেপণ একটি আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর ঘটনা। রকেট উৎক্ষেপণের সময় আগুনের শিখা ও ধোঁয়া সবার নজর কাড়ে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রচুর পরিমাণে পানিও ব্যবহার করা হয়, যা অনেকের নজর এড়িয়ে যায়। জেনে হয়তো অবাক হবেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লাখ লিটার পানি ব্যবহৃত হয়।

এমনই একটি ভিডিও শেয়ার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। শুধু নাসায় নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা স্টেশনে রকেট উৎক্ষেপণের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহার করে থাকে।

পানি ব্যবহার করা হয় কেন?
নাসা তার ইউটিউব চ্যানেলে কেনেডি স্পেস সেন্টারের একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। এই ভিডিওতে লঞ্চপ্যাড ওয়াটার ডিলিউজ সিস্টেম পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় প্রায় ৩০ লাখ লিটার পানি ব্যবহার করা হয়েছে।

রকেট উৎক্ষেপণের সময় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দল প্রস্তুত থাকে। উৎক্ষেপণের সময় রকেটের চারপাশে পানির প্রবল ঝরনা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই রকেটের চারপাশে ৩০ লাখ লিটার পানির বিশাল ঝরনা তৈরি হয়। রকেটের সফল উৎক্ষেপণের জন্য এই পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে রকেটটি যখন লঞ্চপ্যাড ছেড়ে যায়, তখন প্রচুর শব্দ হয়। একটি এসএলএস রকেট ১৭৬ ডেসিবেল শব্দ তৈরি করতে পারে। এটি জেটলাইনারের চেয়ে বেশি শব্দ তৈরি করে। একসঙ্গে লক্ষাধিক লিটার পানি ঝরলে রকেটের আওয়াজের সমানই হয়। এভাবে প্রচুর পরিমাণে পানি ঝরিয়ে রকেটের শব্দ অনেকাংশে কমিয়ে দেওয়া হয়।

এই পানি শুধু রকেটের আওয়াজই কমায় না, আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। রকেট ছেড়ে দিলে প্রচুর আগুন ও ধোঁয়া বের হয়, যা মোবাইল লঞ্চারের ক্ষতি করতে পারে। পানি ঝরিয়ে এই আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং মোবাইল লঞ্চারকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হয়। রকেট উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড কম্পন তৈরি হয়। পানি ঝরিয়ে এই কম্পন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

রকেট উৎক্ষেপণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। রকেটের সফল উৎক্ষেপণের জন্য শব্দ, আগুন, ধোঁয়া ও কম্পন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রচুর পরিমাণে পানি।

এ.জে/জাহ্নবী

 

মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি চীনা একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বিরল মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কার করেছেন। দেশটির সাংহাই অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির অধ্যাপক জি জিয়ানের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল মহাবিশ্বের দুর্লভ সংকেতগুলো শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করেছে।

গবেষণা দলটি কোয়াসার বর্ণালী থেকে নির্গত বিভিন্ন দুর্বল আলোর সংকেত খুঁজতে নজর দিয়েছিল। এটি মূলত দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলোর উৎস। এ গবেষণায় ‘ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষকরা বিভিন্ন ‘নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার’ চিহ্নিত করেছেন, যা ছায়াপথের গঠন ও বিবর্তন গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধূলিকণাযুক্ত ঠাণ্ডা গ্যাসের সঙ্গে পাওয়া যায় নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার। তবে এই সংকেত দুর্বল ও শনাক্ত করা কঠিন। প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের ডেটাসেট থেকে সংকেত খুঁজে পেতে লড়াই করতে হয়েছে। অধ্যাপক জি জিয়ান এটিকে ‘খড়ের গাদায় সুই খোঁজার সঙ্গে তুলনা করেছেন।’ এর আগে ২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা জোতির্বিদ্যাবিষয়ক জরিপ ‘স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে (এসডিএসএস)’-এর ডেটা থেকে ৬৬টি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছিলেন।

তবে অধ্যাপক জি জিয়ানের গবেষক দলটি নিজস্ব এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন আরও ১০৭টি বিরল অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছেন। এটি ২০১৫ সালে পাওয়া সংখ্যার দ্বিগুণ ও আরও ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করেছে। প্রকৃত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নমুনা দিয়ে ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দলটির এই সাফল্য পেয়েছে। এসডিএসএসের ডেটা এই নেটওয়ার্কগুলোয় প্রয়োগ করার পর, সেগুলো আরও বেশি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার চিহ্নিত করেছে। তাদের এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বারযুক্ত প্রাথমিক ছায়াপথগুলো বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩০০ কোটি বছর পর দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হয়েছে।

‘লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড’ নামের ছোট গ্যালাক্সি মতো অবস্থা থেকে মিল্কিওয়ের মতো অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার সময়, এই ছায়াপথগুলো প্রচুর পরিমাণে ধাতব উপাদান তৈরি করেছে। এর কিছু অংশ ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ‘ডাস্ট রেডেনিং ইফেক্ট’ নামের ঘটনাটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কারে সঙ্গে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের মিল রয়েছে। যেটি প্রাচীনতম বিভিন্ন তারায় কার্বনের ধূলিকণা শনাক্ত করেছে। এই দুই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, আগের ধারণার চেয়ে কিছু ছায়াপথ অনেক দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ছায়াপথ গঠনের বিদ্যমান মডেলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে গবেষক দল ছায়াপথের নিঃসরিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করলেও, জি জিয়ানের দল কোয়াসার শোষিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করছেন। নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার প্রথম দিকের ছায়াপথের বিবর্তন গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অধ্যাপক জি জিয়ান মহাকাশীয় তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে দুর্লভ সংকেতগুলো আবিষ্কার করতে অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগোরিদম উন্নয়নের আরও জোর দিয়েছেন। দলটি তাদের পদ্ধতিটিকে ছবি শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা দুর্বল সংকেত শনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণের উন্নতির জন্য কৃত্রিম মাল্টি-স্ট্রাকচার চিত্র তৈরি করছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়েছে, দলটির এই গবেষণা মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। সূত্র: নোরিজ।

গত ৫০ বছরের সবচেয়ে বড় সৌরঝড়

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
গত ৫০ বছরের সবচেয়ে বড় সৌরঝড়
প্রবল ঝড়ে সৌরশিখা ছিটকে বেরিয়েছে সূর্যের বাইরে মহাকাশেও। ছবি: নাসা

সম্প্রতি শক্তিশালী সৌরঝড় সংঘটিত হয়েছে। এই সৌরঝড়কে গত ৫০ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রবল ঝড়ে সৌরশিখা ছিটকে বেরিয়েছে সূর্যের বাইরে মহাকাশেও। সৌরঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। এবার শক্তিশালী সৌরঝড়ের ফলে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে উত্তর মেরুতে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের আকাশ। ইউএস ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সৌরঝড়ের কারণে বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক পাওয়ার গ্রিড, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও সংযোগ ও গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সৌরঝড়ের ছবি তুলেছে। সংস্থাটির একাধিক ক্যামেরায় সৌরঝড়ের মুহূর্ত ধরা পড়েছে। নাসা জানিয়েছে, ১৪ মে সূর্য থেকে শক্তিশালী সৌরশিখা নির্গত হয়েছে। এ সময় বিস্ফোরণের ঘনত্ব ছিল এক্স৮.৭। এর আগে চলতি মাসের ১১ ও ১৩ তারিখে  সূর্যে একই জায়গায় দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে। ১৪ তারিখ ওই একই জায়গা তৃতীয় বিস্ফোরণ হয়। সেই কারণেই তৃতীয় বিস্ফোরণের অভিঘাত তীব্র ছিল।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর ‘আদিত্য-এল১’ সৌরযানও তীব্র সৌরঝড়ের ছবি তুলেছে। ইসরো গত মঙ্গলবার আদিত্য-এল১ এর তোলা সৌরঝড়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করেছে। সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টে (এল ১ পয়েন্ট) রয়েছে আদিত্য-এল১। সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তে সে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করছে। চাঁদ থেকেও এই ঝড়ের ছবি তোলা হয়েছে। চাঁদের চারদিকে ঘুরছে চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার। সেই ক্যামেরাতেও সৌরঝড় ধরা পড়েছে।