চত্বারিংশ পর্ব
দেখ, তোমার মতো মানুষের প্রজেক্ট ব্যর্থ হলে কিন্তু আর মুখ দেখাতে পারবে না।
ঠিক। আমি সেটা নিয়েই বেশি চিন্তিত। তবে আশা করি চালিয়ে যেতে পারব। তো, আজকে আমি উঠি। অনেক ভালো লাগল।
বসো না! আর কিছুক্ষণ গল্প করি। দুপুরে খেয়ে যেও।
তুমি যে ব্যস্ত মানুষ!
হুম। আমি ব্যস্ত এ কথা ঠিক। কিন্তু বন্ধুদের কাছে ব্যস্ততা দেখাই না। তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ, আমি বন্ধুত্বকে অনেক মূল্য দিই! ঠিক কি না?
হুম। তোমার মতো খুব কম মানুষই আছে। অনেকেই বন্ধুত্বকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। কেউ কাউকে মনে রাখে না। পয়সা হলেই তাদের রূপ পাল্টে যায়। এ এক আজব দেশ!
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। কে কীভাবে শুরু করবেন তা নিয়ে ভাবলেন। কিছুক্ষণ পর আসিফ বললেন, আমি বরং আজ যাই। পরে এক সময় তোমার সঙ্গে লাঞ্চ করব।
কেন? আজ কি বিশেষ কোনো ব্যস্ততা আছে?
আছে একটু। কথা দিচ্ছি আবার আসব।
ঠিক আছে। যাও তাহলে। এসো। এ রকম হুট করে চলে এসো। আমি কিছু মনে করব না।
আসিফ আহমেদ উঠে রওনা করলেন। মোহিনী তাকে বাড়ির গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। আসিফ আহমেদ বাড়ির গেট পার হওয়া পর্যন্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন মোহিনী। তিনি আসিফ আহমেদের চলে যাওয়া দেখলেন।
খবরটা শুনে শাহবাজ খানের মাথায় যেন বাজ পড়ল।
পুলিশ তাকে মামলা থেকে রেহাই দিলেও নিয়তি তাকে রেহাই দিচ্ছে না। পেছন দিক থেকে তাকে খামছে ধরছে। তিনি ভেবেছিলেন, তার বিপদ কেটে গেছে। আপাতত আর কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। কিন্তু না। বস্তায় বস্তায় টাকা বিলিয়েও তিনি বিপদ তাড়াতে পারছেন না। একটা যায়, আরেকটা বিপদ এসে তার ওপর ভর করে। যখন বিপদ আসে, চারদিক থেকে যেন পঙ্গোপালের মতো হানা দিতে থাকে। নতুন বিপদ আসার আগে তিনি ধারণা করেছিলেন, পুলিশ কিনে ফেলতে পারলে আর কোনো সমস্যা হবে না। কেউ তাকে আটকাতে পারবে না। তার পরও তিনি মিডিয়াকে টাকা দিয়ে হাত করেছেন। মিডিয়ার মালিকদের কারও কারও চরিত্র হনন করে; আবার কাউকে হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছেন। কেউ আর রুবিনা ইস্যু নিয়ে রিপোর্ট করছে না। ঘটনার অনুসন্ধান তো দূরের কথা, প্রতিদিন যা ঘটছে তাও কেউ প্রকাশ করছে না। সবার যেন কোমরভাঙা অবস্থা। কারও মেরুদণ্ড তো নাই-ই।
শাহবাজ খান ক্রাইম রিপোর্টারদের নিজের বাসায় ডেকে খাইয়েছেন। নগদ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। আরও দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেককে আই ফোন দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্রাইম রিপোর্টারদের সংগঠনকে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে তারা টুঁ-শব্দটি করছে না। সরকারি পর্যায়ে অর্থ ঢেলে বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষে টেনেছেন। এমনকি নিম্ন আদালতেও টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন। বিপদের সব রাস্তা সিলগালা করে দিয়েছেন। এতকিছুর পরও কেন বিপদ বারবার উঁকি দিচ্ছে!
লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার মানে, এবার ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ! প্রথমে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শাহবাজ খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলা থেকে তাকে রেহাই দেয় পুলিশ। পরে নিবিড় অনুসন্ধানের পর জানা যায়, রুবিনা আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখন মেডিকেল রিপোর্টে আরও বলা হয়, রুবিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ফলে রুবিনা এবং ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে শাহবাজ খানের বিরুদ্ধে। নতুন করে শাহবাজ খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এবার মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের বিশেষ ইউনিট পিবিআইকে।
শাহবাজ খানের ধারণা, এর পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে। তা না হলে সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে কেন মামলা হলো! এর পেছনে সরকারের কোনো পক্ষের ইন্ধন নেই তো!
শাহবাজ খান মনে মনে ভাবেন, এই মামলা থেকে আমি কীভাবে বাঁচব! পিবিআইয়ের প্রধান কে? সে ঘুষ খায় না? কত টাকা খায় না? টাকা দিয়ে পুরো পিবিআইকে কিনে ফেলতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। টাকারে টাকা! টাকা না হলে কি যে হতো! আমার তিন-চারবার ফাঁসি হতো।
শাহবাজ খান চিৎকার দিয়ে বললেন এই কে আছিস!
তিন চারজন পিএস, এপিএস তার সামনে গিয়ে হাজির। সবাই থরথর করে কাঁপছে। তাদের দেখে শাহবাজ খান গালাগাল শুরু করেছেন। শুয়োরের বাচ্চা, কুত্তার বাচ্চা... ইত্যাদি ধরনের খারাপ খারাপ গাল। শুধু পিএস এপিএসকে নয়, তৈল মিলন ও তেলবাজ তুষারের চৌদ্দগুষ্টি তুলে গালাগাল শুরু করছেন।
গালাগালারের পরও শাহবাজ খানের মেজাজ ঠাণ্ডা হয়নি। তিনি তৈল মিলন আর তেলবাজ তুষারের নাম ধরে বললেন, এই শুয়োরের বাচ্চারা হারাম খায়। কোনো কাজ করে না। আজকে আমি বিপদে পড়ছি। আর ওই শুয়োরের বাচ্চারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। মনে চায়, ওদের গালে জুতা মারি! হারামখোর! ওই শুয়োরেরর বাচ্চাদের ডাক! এই মুহূর্তে আমার সামনে হাজির কর।
পিএস-এপিএস সবাই বের হয়ে গেল। তারা পাগলা কুকুরের মতো বাইরে এসে দৌড়াদৌড়ি শুরু করল। আর ফিসফিস করে বলতে শুরু করল, স্যারের মেজাজ বিগড়াইছে। উল্টাপাল্টা আচরণ করতেছে। কেউ স্যারের ধারেকাছেও যাইও না।
চলবে...
আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন...
পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫, পর্ব-৬, পর্ব-৭, পর্ব-৮, পর্ব-৯, পর্ব-১০, পর্ব-১১, পর্ব-১২, পর্ব-১৩, পর্ব-১৪, পর্ব-১৫, পর্ব-১৬, পর্ব-১৭, পর্ব-১৮, পর্ব-১৯, পর্ব-২০, পর্ব-২১, পর্ব-২২, পর্ব-২৩, পর্ব-২৪, পর্ব-২৫, পর্ব-২৬,
পর্ব-২৭ পর্ব-২৮ পর্ব-২৯, পর্ব-৩০,পর্ব -৩১, পর্ব-৩২, পর্ব-৩৩,পর্ব-৩৪, পর্ব-৩৫, পর্ব-৩৬, পর্ব-৩৭, পর্ব-৩৮, পর্ব-৩৯,