ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

কেমন হবে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য, পানীয় ও পোশাক?

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১২ এএম
কেমন হবে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য, পানীয় ও পোশাক?
প্রতীকী ছবি

খাদ্য: আল্লাহতায়ালা জাহান্নামিদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাদের খাবার হবে জাক্কুম ও কাঁটাদার ফল। পানীয় হবে অত্যুষ্ণ পানি ও দুর্গন্ধ পুঁজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের খাবার হবে কাঁটাযুক্ত লতাপাতা। এ খাবার তাদের পুষ্ট করবে না; এমনকি ক্ষুধাও নিবারণ করবে না।’ (সুরা গাশিয়া, আয়াত: ৬-৭) 

 

কাতাদা (রহ.) বলেন, ‘কণ্টক গুল্ম অতি নিকৃষ্ট একটি খাবার।’ (আত-তাখওয়িফ মিনান্নার, ইবনে রজব, পৃষ্ঠা : ১১৫)

 

এই খাবার জাহান্নামিদের কোনো কাজেই আসবে না, তারা না এর স্বাদ পাবে; আর না এর দ্বারা ক্ষুধা নিবারিত হবে; বরং তাদের এই খাবার দেওয়া হবে শাস্তি হিসেবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় জাক্কুম বৃক্ষ হবে পাপীর খাদ্য। গলিত তামার মতো তা তাদের পেটের ভেতর ফুটতে থাকবে, যেভাবে গরম পানি ফুটতে থাকে।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ৪৩-৪৭)

 

অন্যত্র জাক্কুম বৃক্ষের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপ্যায়নের জন্য উত্তম কি এগুলো না জাক্কুম গাছ? নিশ্চয় আমি তা সৃষ্টি করেছি জালিমদের পরীক্ষাস্বরূপ। এই গাছ উদ্গত হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে। এর মোচা যেন শয়তানের মাথা। তারা এই গাছ থেকে আহার করবে এবং এর দ্বারা তাদের উদর পূর্ণ করবে। এরপর তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। এরপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ৬২-৬৮) 

 

উপরোক্ত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, জাক্কুম নিকৃষ্ট প্রজাতির একটি গাছ। এর শিকড় জাহান্নামের গভীরে প্রোথিত। শাখা-প্রশাখা চারপাশে বিস্তৃত। ফল দেখতে খুবই বিশ্রী ও কদর্য। এ কারণেই জাক্কুম ফলকে শয়তানের মাথার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। 

 

জাহান্নামিদেরকে এতটাই ক্ষুধার্ত প্রাণীতে পরিণত করা হবে যে, তারা বাধ্য হয়ে এই নিকৃষ্ট গাছ ও তার ফলমূল ভক্ষণ করতে শুরু করবে। বহুদিন ধরে ক্ষুধার্ত থাকা উটের মতো পেটভর্তি করে খাবে। কিন্তু খাওয়া শেষ হতে-না-হতেই এগুলো তাদের পেটে গাদযুক্ত গরম তেলের মতো ফুটতে থাকবে। কঠিন যন্ত্রণায় তারা আর্তনাদ করতে থাকবে। এক মুহূর্তের জন্যও তাদের শাস্তি বন্ধ করা হবে না; বরং ফুটন্ত গরম পানির দিকে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে এবং তারা এতটাই তৃষ্ণার্ত থাকবে যে, ওই পানি তারা তৃষ্ণার্ত উটের মতো রুদ্ধশ্বাসে পান করবে। কিন্তু এতে তাদের সমস্যার সমাধান হবে না। উপরন্তু গরম পানি তাদের নাড়িভুঁড়ি সব ঝলসে দেবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, যা তাদের নাড়িভুড়ি ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫) 

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) জাক্কুমের কদর্যতা ও নিকৃষ্টতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জাক্কুম ফলের এক ফোঁটা রস দুনিয়ায় পড়লে, দুনিয়াবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠত! তাহলে ওই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যার খাবার হবে আস্ত জাক্কুম।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৫৮৫) 

 

জাহান্নামবাসীদের আরেকটি খাবার হলো পুঁজ। কোরআনের ভাষায়, ‘আজ তাদের কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই। পুঁজ ছাড়া অন্য কোনো খাবার নেই। এটা শুধু অপরাধীরাই খাবে।’ (সুরা হাক্কাহ, আয়াত: ৩৫-৩৭) 

 

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এটা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ। আর আছে এমন বিভিন্ন ধরনের শাস্তি।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৫৭-৫৮) 

 

জাহান্নামিদের বিশেষ আরেকটি খাবার হলো আগুন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ করে, তারা তো নিজেদের উদর আগুন দ্বারা পূর্ণ করে নেয়। তারা অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০) 

 

পানীয়: পানির অপর নামজীবনকারণ জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য একটি উপাদান। শুধু পানি নয়, পৃথিবীতে আল্লাহ বিভিন্ন প্রকার পানীয় নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। তবে, জাহান্নামের পানীয় হবে একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির। সেই পানীয়ের দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ হবে না মোটেও। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫) 

 

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি আগুন, যার বেষ্টনী তাদের পরিবেষ্টন করে রাখবে। তারা পানীয় চাইলে, তাদের দেওয়া হবে গলিত ধাতুর মতো পানীয়, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট পানীয়। আর জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ২৯)

 

কোরআন-হাদিসে জাহান্নামিদের চার ধরনের পানীয়ের উল্লেখ রয়েছে—

 

ক. হামিম: হামিম হচ্ছে প্রচণ্ড গরম পানি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছোটাছুটি করবে।’ (সুরা রহমান, আয়াত: ৪৪) 

 

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘তাকে পান করানো হবে অতি ফুটন্ত ঝরনা থেকে।’ (সুরা গাশিয়া, আয়াত: ৫) 

 

খ. গাসসাক: গাসসাক বলা হয় দুর্গন্ধ পানি বা পুঁজকে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এটা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৫৭) 

 

গ. সাদিদ: সাদিদ বলা হয় কাফেরদের গোশত ও চামড়া গলিত চর্বি ও পুঁজকে। জাবের (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যারা মাদক গ্রহণ করবে, তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর অঙ্গীকার হলো, তিনি তাদেরতিনাতুল খাবাল' পান করিয়ে ছাড়বেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসুল, ‘তিনাতুল খাবালকী? উত্তরে তিনি বললেন, জাহান্নামিদের ঘাম বা গলিত চর্বি।’ (মুসলিম, হাদিস: ২০০২) 

 

ঘ.মুহল: মুহল হচ্ছে তেলের গাদ, গাদযুক্ত তেল ও ধাতব বস্তু। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামিদের পানীয় হবে গলিত ধাতব বস্তুর ন্যায়। যখনই এই পানীয় তাদের মুখের কাছে নেওয়া হবে, অমনি তাতে তাদের মুখের চামড়া খসে পড়বে।’ ইবনে আব্বাস (রা.) মুহল শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত মুহল দ্বারা তেলের গাদের মতো ঘন ও আঠালো পানীয় বোঝানো হয়েছে।’ (তাবারি, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা : ৪)

 

পোশাক: পোশাক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জা নিবারণ ও পরিবেশের ক্ষতিকর উপাদান থেকে বাঁচতে পোশাকের বিকল্প নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, পোশাকের মাধ্যমে আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন। মানুষ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টিজীবের পোশাকের প্রয়োজন হয় না।

 

জান্নাতেও আল্লাহ জান্নাতিদের অতুলনীয় পোশাকের মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সম্মানিত করবেন। আল্লাহ জাহান্নামিদেরও পোশাক থেকে বঞ্চিত করবেন না। তবে, জাহান্নামিদের পোশাকও হবে শাস্তিস্বরূপ। তাদের পোশাক তাদের যন্ত্রণা আরবহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। জাহান্নামিদের পোশাক হবে আগুনের। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ১৯) 

 

অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেদিন আপনি অপরাধীদের দেখবেন, শৃঙ্খলিত অবস্থায়। তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে তাদের মুখমণ্ডল।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪৯-৫০) 

 

রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিলাপকারিণী যদি মৃত্যুর আগে তওবা না করে, তবে তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে, তার গায়ে থাকবে আলকাতরার জামা ও খোস-পাঁচড়াযুক্ত বর্ম।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৩৪)

 

লেখক: আলেম, সাংবাদিক ও গবেষক

 

কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহতায়ালা সেই দোয়ার উত্তর দিয়েছেন, যা সুরা ফতিহার শেষ অংশে প্রার্থনা করা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে: এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতের শুরুতে জালিকা (সেটি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দূরবর্তী বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অথচ কোরআন আমাদের সামনেই রয়েছে। এখানে দূরবর্তী ইশারা ব্যবহারের রহস্য হলো–এই কিতাবটি আমাদের সেই প্রার্থিত ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, তোমরা যে হেদায়েত চেয়েছিলে, এই সেই উজ্জ্বল সূর্যসম কিতাব; যার জ্ঞান ও গাম্ভীর্য সাধারণের নাগালের অনেক ঊর্ধ্বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই–এই ঘোষণাটি এক অকাট্য সত্য। কারও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে মনে সংশয় জাগতে পারে, কিন্তু কিতাবের সত্যতায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই।

পবিত্র কোরআন যদিও গোটা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, তবুও আয়াতে বলা হয়েছে এটি ‘মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত’। এর কারণ হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এক স্তর সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু পরকালীন মুক্তি ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের যে উচ্চতর স্তর, তা কেবল তারাই পায় যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। হেদায়েত কেবল তথ্যের নাম নয়, বরং তা আমলের বিষয়। তাই যারা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে (মুত্তাকি), কোরআন তাদের জীবনকেই আমূল বদলে দেয়।

আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের বিশেষ তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের মূল ভিত্তি:

আল্লাহ, ফেরেশতা, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম–যা আমরা চর্মচক্ষে দেখি না, কিন্তু আল্লাহর বাণীর ওপর ভিত্তি করে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এটিই ঈমানের আসল পরীক্ষা।

কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের নিয়মকানুন ও একাগ্রতা বজায় রেখে তা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।

আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। এটি মানুষের মনে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

যাদের মধ্যে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা হলো: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। অর্থাৎ প্রকৃত সফলতা কেবল জাগতিক অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া পথে অবিচল থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার মধ্যেই নিহিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিধান পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?
ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা গোসল হলো শরীরকে পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র করার একটি মাধ্যম তবে অনেক সময় মুসল্লিদের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে যদি কেউ একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে (যেমন- বাথরুমে) সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে গোসল করেন, তবে কি সেই গোসলের মাধ্যমে ওজু সম্পন্ন হবে? নাকি নামাজের জন্য তাকে পুনরায় নতুন করে ওজু করতে হবে? ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর একটি সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে

ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, সতর বা শরীর উন্মুক্ত থাকা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক নয় অর্থাৎ, নির্জনে বা গোসলখানায় কেউ যদি কাপড় ছাড়া গোসল করেন, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র বলে গণ্য হবেন

বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (/৩৬৩) এবং ফাতাওয়া সিরাজিয়া (পৃষ্ঠা: ৭৩)- উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোসলের স্থানে প্রয়োজনবশত কাপড় সরানো বা বিবস্ত্র হওয়ায় কোনো বাধা নেই সুতরাং কেউ যদি ফরজ বা সাধারণ গোসল সম্পন্ন করেন, তবে সেই গোসলের মাধ্যমেই তার ওজু সম্পন্ন হয়ে যায়

গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে ওজু করা বাধ্যতামূলক নয় কারণ, গোসলের সময় ওজুর অঙ্গগুলো (মুখমণ্ডল, হাত, পা ইত্যাদি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোয়া হয়ে যায় সতর খোলা থাকা ওজুকে বাতিল করে না সুতরাং গোসলের পর ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ (যেমন- বায়ু ত্যাগ বা অন্য কোনো কারণ) না ঘটলে ওই গোসল দিয়েই নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ সহিহ

যদিও বিবস্ত্র হয়ে গোসল করলে পবিত্রতা অর্জিত হয়, তবুও শরিয়তের আদব হলো নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা বা অন্তত একটি লুঙ্গি বা গামছা ব্যবহার করা উত্তম তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে কাপড় ছাড়াই গোসল করেন, তবে তার ইবাদতে কোনো ত্রুটি হবে না

দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত সহজ যুক্তিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি পৌঁছানো কাপড় থাকা বা না থাকা এখানে মুখ্য নয় তাই গোসলের পর নতুন করে ওজু না করলেও আপনার নামাজ অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে যেমন লুকিয়ে থাকে স্বর্ণ বা হীরার খনি, মানুষের ভেতরেও কি তেমন কোনো গোপন খনি রয়েছে যা কেবল সঠিক আলো পেলেই জ্বলে ওঠে?মানবচরিত্রের মনস্তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের এক অনন্য রূপরেখা এঁকেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনি মানুষকে তুলনা করেছেন খনির সাথে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ যেমন পরিশোধন করলে মূল্যবান হয়ে ওঠে, মানুষের সুপ্ত প্রতিভাও তেমনি দ্বীনি জ্ঞান সত্যের ছোঁয়ায় বিকশিত হয় ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে যারা নৈতিকভাবে উত্তম মর্যাদাবান ছিলেন, ইসলামের আলো পেয়ে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পর তারাই সমাজের সবচেয়ে খাঁটি শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন

তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দুটি জায়গায়, নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং  জীবনযাপনের সততায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিভাষায়, শাসনক্ষমতা নেতৃত্বের পদের জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য, যারা ক্ষমতার লোভ রাখে না, বরং এর গুরুদায়িত্বকে ভয় পায় এবং পদকে অপছন্দ করে আর সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলোদু-মুখোবা সুবিধাবাদীরা, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক দলের কাছে একেক রূপ ধারণ করে

চরিত্রের এই খাঁটিত্ব ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলোসত্যবাদিতা সত্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের ভেতরের খনিকে হীরার মতো উজ্জ্বল করার মাধ্যম নিয়মিত সত্য বলার অভ্যাস মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে, আর পুণ্য তাকে পৌঁছে দেয় জান্নাতে এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তিসিদ্দীকতথা সত্যবাদী হিসেবে অমরত্ব পায়

বিপরীতে, মিথ্যার পথটি অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি ছোট মিথ্যা মানুষকে ক্রমান্বয়ে নির্লজ্জতা পাপাচারের অতলে তলিয়ে দেয়, যার অবধারিত পরিণতি হলো জাহান্নাম আর যে ব্যক্তি ক্রমাগত মিথ্যা বলতে থাকে, সে আল্লাহর খাতায়কাজজাবতথা মিথ্যাবাদী হিসেবে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়

এই দুটি হাদিসের মেলবন্ধন আমাদের শেখায় যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বাহ্যিক অলংকার নয় ক্ষমতার লোভ বর্জন, দ্বিমুখী আচরণ পরিহার এবং কথার সততাই মানুষের ভেতরেরখনিজকেখাঁটি সোনায় রূপান্তর করে আল্লাহর দেওয়া খনিকে আমরা সত্য দিয়ে সাজাব নাকি মিথ্যা দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন