ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

গাইবান্ধায় লেবু চাষে বাজিমাত, মাসে আয় ৬০ হাজার টাকা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৪, ০২:৫৯ পিএম
গাইবান্ধায় লেবু চাষে বাজিমাত, মাসে আয় ৬০ হাজার টাকা
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে লেবু চাষে সফল হয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা আবদুর রশিদ (৪২)। ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ধানের বদলে লেবুর বাগান করে বাজিমাত করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আবদুর রশিদ (৪২)। উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামে মাত্র ২৫ শতক জমিতে লেবুর বাগান করে মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সাথি ফসল হিসেবে বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করেছেন।

জানা গেছে, কৃষক আবদুর রশিদ পৈতৃক সূত্রে ৪০ শতক জমি পান। এই জমিতে প্রতিবছর বোরো ধান চাষ করতেন তিনি। ২৫ শতকে বোরো ধানের উৎপাদন খরচ পড়ে ৯ হাজার টাকা। ধান উৎপন্ন হতো ১৪ মণ। প্রতি মণ ৮০০ টাকা হিসাবে ধানের মূল্য দাঁড়ায় মোট ১১ হাজার ২০০ টাকা। উৎপাদন খরচ বাদে আয় হতো ২ হাজার ২০০ টাকা। অথচ একই পরিমাণ জমিতে লেবুর বাগান করে তিনি ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন। 

আবদুল রশিদ মিয়ার লেবুর বাগান ও মৎস্য খামারে গেলে তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন। ঢাকা থেকে ফিরে স্থানীয় বাজারে একটি মুদি দোকান করেন। সেখানে মূলধন হারিয়ে বসেন তিনি। এরপর কাপড়ের দোকান করেন এবং কৃষিকাজ শুরু করেন। কয়েক বছর ধান চাষ করে তেমন আয় করতে পারেননি তিনি। পরে নিজ উদ্যোগে ২৫ শতক জমিতে দেশি জাতের লেবুর গাছ রোপণ করেন। পাশাপাশি মৎস্য খামার ও হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন। নিজ বাড়িতে তিনি কৃষি খামার তৈরি করেন। বর্তমানে এখান থেকে যে আয় হয়, সেটি দিয়েই সংসার ও দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগান তিনি।

উদ্যোক্তা আবদুর রশিদ বলেন, ‘একপর্যায়ে কাপড়ের ব্যবসা বাদ দিয়ে লেবুর বাগান ও বাড়ির কৃষি খামারে মনোনিবেশ করি। জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত লেবু পাওয়া যায়। গত এক মাসে ৩২ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছি। আরও ৩৫ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করতে পারব। অর্থাৎ ২৫ শতকের লেবু উৎপাদন হয় ৭০ হাজার টাকার। উৎপাদন খরচ হয়েছে খুবই কম। উৎপাদন খরচ বাদে পাঁচ মাসে আয় হয় ৬০ হাজার টাকা। অথচ একই জমিতে বোরো চাষে চার মাসে আয় হয় ২ হাজার ২০০ টাকা। ধানের চেয়ে লেবু চাষে লাভ বেশি। সার, তেল ও শ্রমিক খরচ নেই। পাশাপাশি লেবুর ফসল হিসেবে ঢ্যাঁড়স, করলার চাষ করা হয়েছে। লেবুর পর ঢ্যাঁড়স ও করলা থেকেও আয় হবে।’
 
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু হাসান বলেন, ‘লেবু চাষ ছাড়াও অন্য ফসল করতে কৃষক আবদুল রশিদকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে তার লেবু বাগানের পাশেই পারিবারিক পুষ্টি বাগান করা হয়েছে। আবদুর রশিদকে নানাভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের অনেক কৃষক লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।’

মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মেশিনারি মেলায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০৯ পিএম
মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মেশিনারি মেলায় বাংলাদেশ
মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মেশিনারি মেলায় বাংলাদেশের স্টল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৩৫তম মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মেশিনারি মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। ইএস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ১১ থেকে ১৩ জুলাই তিন দিনব্যাপী এই মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৭৮০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এই মেলায় অংশ নেয় বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। খবর ইউএনবির। 

গত বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়া এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর ইউসুফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য (চেরাস) ও প্রধানমন্ত্রীর চীনবিষয়ক সাবেক দূত ওয়াইবি তান কোক ওয়েই এবং ইএস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও মালয়েশিয়া-চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড লিংক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট দাতো চং চং তিক। মেলায় অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলো হলো চীন, জার্মানি, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ইরান, জাপান, ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুর। 

মেলার দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার মেলা ও বাংলাদেশের স্টল পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্টলে আগত ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা করেন।

হাইকমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যায়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্টলে প্লাস্টিক পণ্য, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা প্রদর্শিত হচ্ছে। 

এ ছাড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, প্যাকেজিং শিল্প, বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগসংক্রান্ত নানা ধরনের প্রকাশনা, পর্যটন ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলা উদ্বোধনের দিন থেকেই বাংলাদেশি স্টলে বিদেশি ব্যবসায়ীসহ দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। বাংলাদেশি পণ্য বিশেষত প্লাস্টিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, তৈরি পোশাক ও পাটজাত পণ্য সম্পর্কে আগ্রহ বেশি দর্শনার্থীদের।

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা
ছবি : খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের গহনা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি জেলার দ্বিতীয় পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেল।

এর আগে গোপালগঞ্জের রসগোল্লা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

শুক্রবার (১২ জুলাই) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১২ মার্চ জেলা প্রশাসক জিআই পণ্যের অর্ন্তভূক্তির জন্য বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে যাচাই-বাছাই করে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা নিবন্ধনের জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১২ অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জার্নাল প্রকাশ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অর্জন ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারিগরদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ব্রোঞ্জ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এলাকার আর্থ-সামজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।’

এ অর্জনে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই ভুক্তিকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলা প্রশাসন ও মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা এবং ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (ইডিসি) কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

চলতি বছরের ১২ মার্চ জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি চেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়। 

ব্রোঞ্জ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সুভাষ বৈদ্য খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডেই ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির পল্লী প্রায় ১০০ বছর আগে গড়ে ওঠে। পরে এটি সারা জলিরপাড় ইউনিয়নের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ পল্লীকে কেন্দ্র করে এখানে ব্রোঞ্জ মার্কেট প্রতিষ্ঠত হয়। তখন জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এটি বিদেশের বাজারে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এ শিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। তাই সম্প্রতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্রোঞ্জের গহনা আমাদের বাজারের প্রায় ৫০ ভাগ দখল করে দিয়েছে। তারপরও জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনা তৈরি শিল্প সগৌরবে শতাধিক পরিবার টিকিয়ে রেখেছে। জলিরপাড় ব্রোঞ্জ মার্কেটে এখনো ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে এখনো ব্রোঞ্জের গহনা বিক্রি করা হয়।’

জলিরপাড় গ্রামের গহনা প্রস্তুতকারক জগদীশ শীল বলেন, ‘ব্রোঞ্জ গহনা তৈরির তামা, দস্তা ও পিতলের দাম বেড়েছে। সহজ প্রাপ্যতা কমেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্রোঞ্জ গহনার রং খুব চকচকা। আমাদের গহনার রং তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। দামী সুদৃশ্য, মনোহর ও সৌখিন গহনার বাজার ভারত ও চীনের দখলে চলে গেছে। তাই যেসব গহনার চাহিদা রয়েছে এমন সব গহনা আমরা তৈরি করি। সরকার এ শিল্পকে অধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সব ধরনের সহযোগিতা করলে আমরা ব্রোঞ্জ গহনার শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব। এখানে এখানো মানসম্পন্ন কারিগর রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে তাদের কাজে লাগিয়ে আমরাও দামী গহনা তৈরি করতে পারি। তা হলেই শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীরা অধিক উপার্জন করতে পারবেন। এ শিল্প দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করবে।’

বাদল/ইসরাত চৈতী/

পেঁয়াজ-বেগুনে আগুন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
পেঁয়াজ-বেগুনে আগুন
ছবি : সংগৃহীত

যতই দিন যাচ্ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ঠেকানো যাচ্ছে না এর দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। বেগুনসহ প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। আদার দামও কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, আগুন লেগে গেছে বাজারে। শাকের দামও বাড়ছে। ২০ টাকায় কোনো শাকের আঁটি পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকা ভেসে গেছে। সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম চড়া। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) মোহাম্মদপুরের কৃষিমার্কেট, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা

রাজধানীতে বিভিন্ন দোকানে পেঁয়াজের মজুত বাড়লেও দাম কমেনি খুচরা বাজারে। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর কৃষিমার্কেটের সবজি বিক্রেতা সবুর খবরের কাগজকে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আড়তে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আড়তেই পাবনার ভালো পেঁয়াজ ১১০ টাকায় কেনা হয়েছে। বাছাই করতে কিছু কম দামে বিক্রি করতে হয়। গত সপ্তাহে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য বাজারেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। 

কারওয়ান বাজারের মাতৃভাণ্ডারের শেখ শহিদুল বলেন, গতকাল পেঁয়াজ ১০৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল সর্বোচ্চ ৯৭ টাকা। তবে ফরিদপুরের পেঁয়াজ পাইকারিতে কিছুটা কমে ৯৪ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ জন্য খুচরা বাজারেও কম দামে ১০০-১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা জানান।

কমেনি আলুর দাম

ব্যাপক উৎপাদনের পরও আলুর দাম কমছে না। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক এলাকা ডুবে গেছে। তাই আলুর ওপর চাপ পড়েছে। দাম বাড়ছে এ জন্য।

বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, পাইকারিতে মুন্সীগঞ্জের আলু ৫৫-৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একটু দূরেই খুচরা বাজারে তা ৬৫ টাকা। তবে বগুড়া ও দিনাজপুরের আলু একটু কম দামে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

পেঁয়াজের মতো এ সপ্তাহে আদার দামও কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২০০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল তা ২৮০-৩০০ টাকায় চড়েছে। তবে রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগের মতো ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

২০ টাকার নিচে মেলে না শাকের আঁটি

বর্ষার অজুহাতে কমছে না কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহের মতোই ২৫০ গ্রাম ৭০-৮০ টাকা বা কেজি ২৮০-৩০০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগের সপ্তাহের মতো বৃষ্টির কারণে প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বেগুন ৯০-১৩০ টাকা, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল ৫০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৭০-১০০ টাকা। কচুরলতির কেজি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি। সবজির মতো শাকের দামও চড়ে গেছে আঁটিতে ৫-১০ টাকা। গত সপ্তাহের ৩০ টাকার লাউয়ের ডগা ও পুঁই শাকের আঁটি ৪০ টাকা হয়ে গেছে। লাল শাক, পাট ও কচু শাকের আঁটিও ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

চাল আগের মতোই চড়া 

বর্ষার অজুহাতে গত সপ্তাহে আটাশ ও মোটা চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এ সপ্তাহেও চড়া রয়ে গেছে। আগের মতোই মিনিকেট ৬৮-৭২ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডায়মন্ড, মোজাম্মেলসহ অন্য কোম্পানির চালের দাম ৭০-৭২ টাকা। আগের সপ্তাহের মতো আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

কমেনি মসলার দাম

গত সপ্তাহে ঈদের পর জিরার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ সপ্তাহে তা কমেনি। আগের মতোই ৮০০-৯০০ টাকা কেজি জিরা, এলাচি ৩৪০০-৪০০০ হাজার টাকা, গোলমরিচ ১১০০, লবঙ্গ ১৬০০-১৮০০ টাকা কেজি। আগের মতোই ছোলা ১১০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা, পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১০ টাকা, খোলা আটার কেজি ৪০ টাকা, ২ কেজি আটা ১০০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১৩০, প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা, দেশি প্যাকেটজাত চিনি ১৭০ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজার, কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে আগের মতো ১৫০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন পাড়ার দোকানে এখনো ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করে জানান। 

স্থিতিশীল মুরগি, কমেছে গরু-খাসির দাম 

আগের সপ্তাহের মতো গতকাল পোলট্রি মুরগি ১৬৫-১৭৫ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি বলে কৃষিমার্কেটের পদ্মা পোলট্রি হাউস ও কারওয়ান বাজারের আদর্শ পোলট্রি হাউসের বিক্রয়কর্মীরা জানান। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও জানান, গত সপ্তাহ থেকে বাড়েনি মুরগির দাম। কোরবানির ঈদের পর গরু খাসির মাংসের দামও কিছুটা কমেছে। কেজিতে ২০-৫০ টাকা কমেছে। গতকাল কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১০০০-১০৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

মাছের দাম বাড়তি

মুরগির দাম কমলেও মাছের দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, আগে কম দামে বিক্রি করা হলেও বর্তমানে বন্যার ফলে নদীর মাছ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। তারা জানান, রুই, কাতলা ৩৫০-৭০০ টাকা কেজি, চাষের চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, নদীর চিংড়ি ১২০০-১৬০০ টাকা কেজি। পাবদা ৫০০-৭০০ টাকা, শিং, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। চাষের ট্যাংরা ৬০০-৭০০, দেশি ট্যাংরা ১০০০-১২০০ টাকা, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, বাতাসি ৭০০ টাকা-১২০০ টাকা কেজি। পাঙাশ ও তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা কেজি। পানি না কমলে মাছের দামও কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান।

সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও ৪ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:২২ পিএম
সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও ৪ প্রতিষ্ঠান
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশের চারটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ পেয়েছে, যা দেশের টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধিতে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এতে বাংলাদেশে পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ২২৪টি। এর মধ্যে ৮৮টি প্লাটিনাম, ১২২ গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার। খবর বাসসের। 

নতুন সনদ পাওয়া কারখানাগুলো হলো- বিগ বস করপোরেশন লিমিটেড, অনন্ত জিন্সওয়্যার লিমিটেড, বেসিক শার্ট লিমিটেড ও অ্যাপটেক ক্যাশওয়ার।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ১০০টি সর্বোচ্চ রেটপ্রাপ্ত শীর্ষ এলইডি সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৯টি এখন বাংলাদেশে।

সবুজ কারখানার স্বীকৃতির বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই মাইলফলক সবুজ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরবে। এটা পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং টেক্সটাইল ও গার্মেন্টশিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ বা লিড সনদ দেয়। সংস্থাটি বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িসহ অন্য স্থাপনার ক্ষেত্রেও সনদ দেয়। তবে শিল্প কারখানার ভবন নির্মাণ থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত সব পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ মানের কারখানাকে এ সনদ দেয় তারা।

কুষ্টিয়ার মোকামে আবারও বেড়েছে চালের দাম

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৩১ পিএম
কুষ্টিয়ার মোকামে আবারও বেড়েছে চালের দাম
কুষ্টিয়া চালের মোকামে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ায় আবারও বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। গত এক সপ্তাহে মিলগেট থেকে প্রায় সব রকম চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মোকাম থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের, তাই বিক্রিও বেশি দামে না করে কোনো উপায় নেই। আর চালকলের মালিকরা বলছেন, প্রতিদিন বাড়ছে ধানের দাম। সে কারণে বাড়াতে হচ্ছে চালের দাম। তাই মিলগেটে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত চালের দাম বেড়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ওপরও নজরদারির দাবি তুলেছেন বিক্রেতারা। 

বাজার সূত্রে জানা গেছে, নানা অজুহাতে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের দাম কেজিতে বেড়েছিল ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আমন মৌসুম শেষে খুচরা বাজারে আবারও সব ধরনের চাল কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আবারও ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। তবে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বাসমতি চালের দাম। এ নিয়ে চার দফায় কুষ্টিয়ায় চালের দাম বাড়ল।

কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬৪ টাকার মিনিকেট চাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬৭-৬৮ টাকায়। কয়েক দিন আগেও ৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়া কাজল লতা চাল এখন ৬১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাসমতি চাল বছর ধরেই বিক্রি হচ্ছে ৮৬ টাকা।

পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী তাইজাল হোসেন জানান, ‘বেশি দামে মোকাম থেকে চাল কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে। বাসমতি চালের ২৫ কেজি বস্তার বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা। সর্বশেষ যা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৭৫ টাকা বস্তা, সপ্তাহ আগেও যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। কাজল লতা প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৩০ টাকা, যা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৮০ টাকায়। মোটা চাল বর্তমানে পাওয়া যায় না। মোটা চালগুলোই অটো মেশিনে আবার চিকন হয়ে বাজারে আসে। খুচরা বাজারে গেল এক সপ্তাহে প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে গড়ে ৫০ টাকা।’ এই ব্যবসায়ী জানান, মোকাম থেকে প্রতি বস্তা চাল বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। 

বাজার সূত্রে জানা গেছে, ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে অক্টোবর মাসের শেষের দিকে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। তার এক মাস আগেও সব ধরনের চাল কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছিল। অন্য সব নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে চালের বর্ধিত দাম নাভিশ্বাস তুলেছে ভোক্তাদের। তাদের দাবি, এর আগেও প্রশাসন যখন তৎপর হয়েছে, তখনই চালের দাম কমেছে কিংবা বৃদ্ধি বন্ধ হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পৌরবাজারের আরেক খুচরা ব্যবসায়ী নিশান আলী বলেন, ‘এই সময় চালের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। তারপরও মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যেভাবে কিনি তার থেকে কেজিতে ২ টাকা লাভে চাল বিক্রি করি। তা ছাড়া খুচরা বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকে না। আবার কর্মকর্তাদের নজরও এখানেই থাকে। তাই খুচরা ব্যাবসায়ীদের কোনো কারসাজি করার সুযোগ থাকে না। মিলাররা বাড়ালে চালের দাম বাড়ে আর মিলাররা কমালে চালের দাম কমে যায়।’

এদিকে চাল কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ব্যবসায়ী ও মিলমালিকরা বরাবরের মতো আবার সিন্ডিকেট করে চাল মজুত রেখে দাম বাড়াচ্ছে। এতে তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাজারে সবকিছুরই দাম বেশি, তার ওপরে যদি চালের দাম বেড়ে যায় তা হলে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো রাইসমিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি ওমর ফারুক জানান, সরু চালের জন্য প্রসিদ্ধ কুষ্টিয়ার মোকামে ধানের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে মিলগেটে চালের দাম কেজিতে কমপক্ষে ৩ টাকা বেড়েছে। প্রায় সব রকম চালই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস থেকে ধানের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ঈদের পর থেকে সব ধরনের ধানের দাম প্রতি মণে ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধান কিন্তু কৃষকের কাছেও নেই, মিলারের কাছেও নেই। অবৈধ মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে ধান মজুত করে রেখেছে। তাদের ইচ্ছেমত দামে বাজারে বিক্রি করছে।’ ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক মন্তব্য করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘১ মণ ধানে ২৬ কেজি চাল হয়। ধানে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বাড়লেও চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে যায়।’ 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর থেকে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মনিটরিং করছি, কোনো ব্যবসায়ী যদি কোনো অনৈতিক কাজ করে বাজারে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’