ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
Nagad desktop

ধারাবাহিক উপন্যাস মোহিনী

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম
মোহিনী

চতুশ্চত্বারিংশ পর্ব

ওর মোবাইলে ফোন দিলাম। ফোন ধরল না। আচ্ছা শোন, বিমানবন্দরে ওর সঙ্গে কিছু ঝামেলা হয়েছে। তুমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যেও না। আমি কাল সকালে আসব।

জি দাদুভাই।

বৈরম খান ফোন রাখার পর শাহজাদা ফোনের রিসিভার রেখে ড্রাইভার খলিলকে ডেকে পাঠাল। 

ড্রাইভার খলিল দৌড়ে এসে শাহজাদার সামনে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়াল। শাহজাদা তাকে উদ্দেশ করে বলল, তোমার স্যার ফিরে এল কেন? তুমি কিছু জানলে সত্যি সত্যি বলবে। সত্যি না বললে কিন্তু তোমার চাকরি থাকবে না।

খলিল বলল, জানি না ভাইয়া। স্যারের জানি কী হইছে।

কিছু বলেনি?

না ভাইয়া। আমারে কইল আমি ফোন না দেওয়া পর্যন্ত তুই যাবি না। এয়ারপোর্টেই থাকবি। আমি অপেক্ষা করতেছিলাম। ঘণ্টাখানিক পর স্যার ফোন দিয়া কইল, তুই কই? গাড়ি নিয়া আয়। আমি বাসায় যামু।

আচ্ছা তুমি যাও। বাসায় চলে যাও। আর এখানে থাকতে হবে না।

স্যার যদি আবার বাইরে বাইর হয়?

না। তার কোনো সম্ভাবনা নেই। তুমি যাও।

খলিল মাথা চুলকাচ্ছিল। যাবে কি যাবে না তা নিয়ে ভাবছিল। শাহজাদা এবার কিছুটা ধমকের সুরেই বলল, আমি তোমাকে যেতে বলেছি যাও।

খলিল গুটি গুটি পায়ে তার সামনে থেকে বাইরে চলে গেল। অনেকটা পথ যাওয়ার পর সে পেছনের দিকে তাকাল। না। পেছনে কেউ নেই। সে এবার জোর কদমে হাঁটতে শুরু করল।

 

সকালে নাশতার টেবিলে শাহজাদার জন্য অপেক্ষা করছেন শাহবাজ খান। আর শাহজাদা অপেক্ষা করছেন তার দাদু ভাইয়ের জন্য। তিনি তাকে ফোন করে বলেছেন, ও বাসায় আছে তো? ওকে বলো না। আমি এখনই তোমাদের বাসায় আসছি।

শাহজাদা কোনো কথাই বলতে পারেনি। সে কিছু বলার আগেই বৈরম খান ফোন রেখে দিয়েছেন। শাহজাদা ফোন রেখে বাসার সামনে গিয়ে অপেক্ষা করছে। বৈরম খানকে সঙ্গে নিয়ে সে ডাইনিং রুমে ঢুকবে। ব্যাপারটা শাহবাজ খান টেরই পাননি। তিনি বারবার শাহজাদাকে ডাকছেন। কাজের লোকদের কাছে শাহজাদার কথা জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু তারাও খোলাসা করে কিছু বলছে না। আস্তে আস্তে শাহবাজ খানের মেজাজ চড়তে শুরু করে। তিনি কিছুটা কর্কশ স্বরেই শাহজাদাকে ডাকলেন। শাহজাদা! এই শাহজাদা!

ঠিক তখনই বৈরম খান তার সামনে গিয়ে হাজির। তার পেছনে শাহজাদা দাঁড়িয়ে। শাহবাজ খান অবাক বিস্ময়ে বৈরম খানের দিকে তাকিয়ে আছেন। দাঁড়িয়ে সালাম করলেন। তার পর বললেন, আব্বা তুমি?

তোমাদের সঙ্গে নাশতা করব বলে চলে এলাম। দাদুভাই এসো।

শাহজাদা তার দাদুভাই বৈরম খানকে চেয়ার টেনে দিল। তিনি চেয়ারে বসার পর তার সামনে প্লেট দিয়ে সে নিজে তার পাশের চেয়ারে বসল। বৈরম খান শাহজাদার দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে ধন্যবাদ দিলেন। তিনি নিজে রুটি আর এক টুকরো মুরগির ঝোল নিলেন। পরে শাহজাদার প্লেটে তুলে দিলেন। শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করে বললেন, তুমি নিচ্ছ না কেন?

শাহবাজ খানও রুটি, মাংস আর সবজি নিয়ে খাওয়া শুরু করলেন।

বৈরম খান একবার দুবার মুখে খাবার পুড়ে দিয়ে শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করে বললেন, কী হয়েছে বলো তো শাহবাজ? বিমানবন্দর থেকে তোমাকে ফিরিয়ে দিল...

সেটা তো আমারও প্রশ্ন আব্বা। তুমি কথা বলে দিয়েছ। আমি নিজেও কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই তো বাসা থেকে বেরিয়েছি। তাদের ইঙ্গিত না পেলে তো বেরই হতাম না।

সেটা ঠিক আছে। সব সময়ই যে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ হবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই।  তোমার ধরেই নিতে হবে সবাই আমাদের কথা শুনবে না। আমরা সবাইকে কিনতে পারব না। কাজেই এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কিন্তু তোমার একটা কথা মাথায় রাখতে হবে।

শাহজাদা পাশ থেকে উঠে যেতে উদ্যত হলে বৈরম খান তাকে নিবৃত করেন। তিনি হাত দিয়ে টেনে তাকে বসান। শাহাজাদা লজ্জিত ভঙ্গিতে তার বাবার দিকে একবার তাকায়। তার পর খেতে শুরু করে। বৈরম খান চারদিকে তাকিয়ে শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করেন বললেন, আমার আপুটা কই? আপুটাকে দেখছি না!

বাবা ও এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। শাহবাজ খান বললেন।

বৈরম খান শুরু করলেন। তোমাকে বারবার আমি বলেছি, তোমার প্রধান শত্রু তোমার মেজাজ। মেজাজ যদি কন্ট্রোল করতে না পারও তাহলে তোমাকে অনেক ভুগতে হবে। বিমানবন্দরে তোমার অত মেজাজ দেখানো ঠিক হয়নি। তোমার ভাগ্য ভালো যে ওরা তোমাকে আটক করেনি। 

আব্বা তুমি জানো না, ওরা কতটা খারাপ ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছে! আমি নিজেও অবাক।

ওরা তো এ রকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই চেয়েছিল। বলতে পার এটা একটা ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েছ তুমি!

কি বলো আব্বা!

হুম। রকম সাধারণ একটা বিষয়ও তুমি বুঝতে পারলে না! তুমি কবে যে বুদ্ধিমান হবে! আমি খুবই হতাশ হয়েছি।                

চলবে...

 

আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন...

পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩পর্ব-৪পর্ব-৫পর্ব-৬পর্ব-৭পর্ব-৮পর্ব-৯, পর্ব-১০পর্ব-১১পর্ব-১২পর্ব-১৩, পর্ব-১৪পর্ব-১৫পর্ব-১৬পর্ব-১৭পর্ব-১৮পর্ব-১৯পর্ব-২০পর্ব-২১পর্ব-২২পর্ব-২৩পর্ব-২৪, পর্ব-২৫,  পর্ব-২৬,

পর্ব-২৭ পর্ব-২৮ পর্ব-২৯পর্ব-৩০,পর্ব -৩১, পর্ব-৩২, পর্ব-৩৩,পর্ব-৩৪, পর্ব-৩৫, পর্ব-৩৬, পর্ব-৩৭, পর্ব-৩৮, পর্ব-৩৯, পর্ব-৪০পর্ব-৪১পর্ব-৪২, পর্ব-৪৩, পর্ব-৪৪,

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ