চতুশ্চত্বারিংশ পর্ব
ওর মোবাইলে ফোন দিলাম। ফোন ধরল না। আচ্ছা শোন, বিমানবন্দরে ওর সঙ্গে কিছু ঝামেলা হয়েছে। তুমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যেও না। আমি কাল সকালে আসব।
জি দাদুভাই।
বৈরম খান ফোন রাখার পর শাহজাদা ফোনের রিসিভার রেখে ড্রাইভার খলিলকে ডেকে পাঠাল।
ড্রাইভার খলিল দৌড়ে এসে শাহজাদার সামনে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়াল। শাহজাদা তাকে উদ্দেশ করে বলল, তোমার স্যার ফিরে এল কেন? তুমি কিছু জানলে সত্যি সত্যি বলবে। সত্যি না বললে কিন্তু তোমার চাকরি থাকবে না।
খলিল বলল, জানি না ভাইয়া। স্যারের জানি কী হইছে।
কিছু বলেনি?
না ভাইয়া। আমারে কইল আমি ফোন না দেওয়া পর্যন্ত তুই যাবি না। এয়ারপোর্টেই থাকবি। আমি অপেক্ষা করতেছিলাম। ঘণ্টাখানিক পর স্যার ফোন দিয়া কইল, তুই কই? গাড়ি নিয়া আয়। আমি বাসায় যামু।
আচ্ছা তুমি যাও। বাসায় চলে যাও। আর এখানে থাকতে হবে না।
স্যার যদি আবার বাইরে বাইর হয়?
না। তার কোনো সম্ভাবনা নেই। তুমি যাও।
খলিল মাথা চুলকাচ্ছিল। যাবে কি যাবে না তা নিয়ে ভাবছিল। শাহজাদা এবার কিছুটা ধমকের সুরেই বলল, আমি তোমাকে যেতে বলেছি যাও।
খলিল গুটি গুটি পায়ে তার সামনে থেকে বাইরে চলে গেল। অনেকটা পথ যাওয়ার পর সে পেছনের দিকে তাকাল। না। পেছনে কেউ নেই। সে এবার জোর কদমে হাঁটতে শুরু করল।
সকালে নাশতার টেবিলে শাহজাদার জন্য অপেক্ষা করছেন শাহবাজ খান। আর শাহজাদা অপেক্ষা করছেন তার দাদু ভাইয়ের জন্য। তিনি তাকে ফোন করে বলেছেন, ও বাসায় আছে তো? ওকে বলো না। আমি এখনই তোমাদের বাসায় আসছি।
শাহজাদা কোনো কথাই বলতে পারেনি। সে কিছু বলার আগেই বৈরম খান ফোন রেখে দিয়েছেন। শাহজাদা ফোন রেখে বাসার সামনে গিয়ে অপেক্ষা করছে। বৈরম খানকে সঙ্গে নিয়ে সে ডাইনিং রুমে ঢুকবে। ব্যাপারটা শাহবাজ খান টেরই পাননি। তিনি বারবার শাহজাদাকে ডাকছেন। কাজের লোকদের কাছে শাহজাদার কথা জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু তারাও খোলাসা করে কিছু বলছে না। আস্তে আস্তে শাহবাজ খানের মেজাজ চড়তে শুরু করে। তিনি কিছুটা কর্কশ স্বরেই শাহজাদাকে ডাকলেন। শাহজাদা! এই শাহজাদা!
ঠিক তখনই বৈরম খান তার সামনে গিয়ে হাজির। তার পেছনে শাহজাদা দাঁড়িয়ে। শাহবাজ খান অবাক বিস্ময়ে বৈরম খানের দিকে তাকিয়ে আছেন। দাঁড়িয়ে সালাম করলেন। তার পর বললেন, আব্বা তুমি?
তোমাদের সঙ্গে নাশতা করব বলে চলে এলাম। দাদুভাই এসো।
শাহজাদা তার দাদুভাই বৈরম খানকে চেয়ার টেনে দিল। তিনি চেয়ারে বসার পর তার সামনে প্লেট দিয়ে সে নিজে তার পাশের চেয়ারে বসল। বৈরম খান শাহজাদার দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে ধন্যবাদ দিলেন। তিনি নিজে রুটি আর এক টুকরো মুরগির ঝোল নিলেন। পরে শাহজাদার প্লেটে তুলে দিলেন। শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করে বললেন, তুমি নিচ্ছ না কেন?
শাহবাজ খানও রুটি, মাংস আর সবজি নিয়ে খাওয়া শুরু করলেন।
বৈরম খান একবার দুবার মুখে খাবার পুড়ে দিয়ে শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করে বললেন, কী হয়েছে বলো তো শাহবাজ? বিমানবন্দর থেকে তোমাকে ফিরিয়ে দিল...
সেটা তো আমারও প্রশ্ন আব্বা। তুমি কথা বলে দিয়েছ। আমি নিজেও কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই তো বাসা থেকে বেরিয়েছি। তাদের ইঙ্গিত না পেলে তো বেরই হতাম না।
সেটা ঠিক আছে। সব সময়ই যে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ হবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। তোমার ধরেই নিতে হবে সবাই আমাদের কথা শুনবে না। আমরা সবাইকে কিনতে পারব না। কাজেই এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কিন্তু তোমার একটা কথা মাথায় রাখতে হবে।
শাহজাদা পাশ থেকে উঠে যেতে উদ্যত হলে বৈরম খান তাকে নিবৃত করেন। তিনি হাত দিয়ে টেনে তাকে বসান। শাহাজাদা লজ্জিত ভঙ্গিতে তার বাবার দিকে একবার তাকায়। তার পর খেতে শুরু করে। বৈরম খান চারদিকে তাকিয়ে শাহবাজ খানকে উদ্দেশ করেন বললেন, আমার আপুটা কই? আপুটাকে দেখছি না!
বাবা ও এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। শাহবাজ খান বললেন।
বৈরম খান শুরু করলেন। তোমাকে বারবার আমি বলেছি, তোমার প্রধান শত্রু তোমার মেজাজ। মেজাজ যদি কন্ট্রোল করতে না পারও তাহলে তোমাকে অনেক ভুগতে হবে। বিমানবন্দরে তোমার অত মেজাজ দেখানো ঠিক হয়নি। তোমার ভাগ্য ভালো যে ওরা তোমাকে আটক করেনি।
আব্বা তুমি জানো না, ওরা কতটা খারাপ ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছে! আমি নিজেও অবাক।
ওরা তো এ রকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই চেয়েছিল। বলতে পার এটা একটা ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েছ তুমি!
কি বলো আব্বা!
হুম। এ রকম সাধারণ একটা বিষয়ও তুমি বুঝতে পারলে না! তুমি কবে যে বুদ্ধিমান হবে! আমি খুবই হতাশ হয়েছি।
চলবে...
আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন...
পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫, পর্ব-৬, পর্ব-৭, পর্ব-৮, পর্ব-৯, পর্ব-১০, পর্ব-১১, পর্ব-১২, পর্ব-১৩, পর্ব-১৪, পর্ব-১৫, পর্ব-১৬, পর্ব-১৭, পর্ব-১৮, পর্ব-১৯, পর্ব-২০, পর্ব-২১, পর্ব-২২, পর্ব-২৩, পর্ব-২৪, পর্ব-২৫, পর্ব-২৬,
পর্ব-২৭ পর্ব-২৮ পর্ব-২৯, পর্ব-৩০,পর্ব -৩১, পর্ব-৩২, পর্ব-৩৩,পর্ব-৩৪, পর্ব-৩৫, পর্ব-৩৬, পর্ব-৩৭, পর্ব-৩৮, পর্ব-৩৯, পর্ব-৪০, পর্ব-৪১, পর্ব-৪২, পর্ব-৪৩, পর্ব-৪৪,