ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

শ্রেয়ার কথা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
শ্রেয়ার কথা

এখন বা এক মুহূর্ত পর কী হতে যাচ্ছে, তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন। এইতো মনে পড়ে, কিছুদিন আগে শ্রেয়াকে যখন প্রেগনেন্সি রিপোর্টটা দেখিয়ে বললাম ‘তুমি মা হতে চলেছ’, খুশিতে ওর চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আমি কোনো দিন কাউকে এত খুশি হতে দেখিনি।

কিছুদিন পর শ্রেয়াকে নিয়ে শ্রীপুরে জয়ন্তী দেবীর মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দিই। বাসা থেকে বেশ দূরে। আমি নিজেই ড্রাইভিং করছিলাম। হঠাৎ ঝড় শুরু হলো। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। চার দেয়ালে ঘেরা অনেক পুরোনো বাড়ি। আশপাশে গাছগাছালি ছাড়া আর কোনো বাড়িঘর ছিল না। একজন বৃদ্ধ চাচা আমাদের আশ্রয় দেন। বাড়িটিতে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। খুব সম্ভবত তিনি বাড়ির কেয়ারটেকার। বললাম, ‘চাচা, আমরা বিপদে পড়েছি। ঝড় কমলেই চলে যাব। কিছুটা সময় এখানে থাকতে দিন।’ তিনি বললেন, ‘আজ রাতটা অনেক খারাপ। ভয় নেই, রাতটা এখানে থাকেন। সকালে চলে যাবেন।’

এই কথা বলে তিনি আমাদের জন্য খাবার আনতে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, ‘আজ রাতটা সুবিধার না, ভুলেও কেউ বাইরে যাবেন না। এই যে দেখেন, কিছুক্ষণ আগে ঝড় ছিল, এখন নেই। একটু পর আবার শুরু হবে।’ শ্রেয়া বলল, ‘চাচা, আজ রাতটা খারাপ বলছেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘মা, আপনারা এ যুগের মানুষ, বিশ্বাস করবেন না। এই গ্রামে জয়ন্তী দেবী মন্দির নামে একটি মন্দির আছে। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে মন্দিরের দেবী প্রতি বছর একজন করে কুমারী মেয়ে নিয়ে যেত। এখন বছরের এই রাতে একজন করে কুমারী মেয়ে বের হয়, যে মানুষের ক্ষতি করে।’ শ্রেয়া বলল, ‘আপনি কি এখন পর্যন্ত কোনো মেয়েকে মন্দির থেকে বের হতে দেখেছেন?’

’না, আমি দেখেনি। তবে অনেকেই দেখেছে।’

অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে দরজায় কেউ কড়া নাড়ল। দরজার ওপাশ থেকে একটি মেয়ে ডাকছে, ‘কেউ আছেন? দয়া করে দরজাটা খুলুন। আমি অনেক বিপদে পড়েছি।’ আমি দরজাটা খুলতে গেলে চাচা আমার সামনে দাঁড়ান। আমাকে বাধা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, আপনার পায়ে ধরি, দরজাটা খুলবেন না। খুললে আমরা সবাই বিপদে পড়ব।’

‘কী বলেন! একটা মানুষ বিপদে পড়ে ডাকছে। আর আমরা দরজা খুলব না?’

চাচাকে ধাক্কা দিয়ে আমি দরজাটা খুলে দিই। আধ ভেজা হয়ে ১৭-১৮ বছরের মেয়েটি কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ঢুকেই বলল- ‘দয়া করে আজ রাতটা আমাকে থাকতে দিন। আমি ট্রেনে যাচ্ছিলাম। পাশের রেলস্টেশনে ট্রেনটা থামল। আমি কিছু খাবার কেনার জন্য নামলাম। আর তখনই ট্রেনটা আমাকে রেখে চলে গেল। এর মধ্যে ঝড় শুরু হলো। অনেকটা সময় ছোটাছুটি করার পর এ বাড়িটি দেখতে পাই। প্লিজ, রাতটা আমাকে এখানে থাকতে দিন। সকালে ভোরের ট্রেনে চলে যাব।’

থাকার জন্য চাচা মেয়েটিকে একটি রুম দেখিয়ে দিলেন।

ঝড় আবার থেমে গেল। আমি আর শ্রেয়া শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ খেয়াল করি, শ্রেয়া ভীষণ কাঁপছে। ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘শ্রেয়া, তোমার কি খারাপ লাগছে?’

‘আমার অনেক ভয় হচ্ছে। দেবীটা তোমাকে মেরে ফেলবে। চল আমরা চলে যাই।’

আমি হেসে বললাম, ‘কী সব উলটাপালটা বলছ? দেবী আবার আসল কোথা থেকে?’

‘দেখোনি, দেবীর মতো মেয়েটি কেমন করে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটি মানুষ না, মানুষরূপী দেবী। ও আমাদের পিছে পিছে ওই জয়ন্তী দেবী মন্দির থেকে এসেছে।’ বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে ও ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েটাকে আর দেখা গেল না। দরজা খোলা ছিল। খুব সম্ভবত ভোরের ট্রেনে মেয়েটি চলে গেছে।

ওই রাতের পর থেকে শ্রেয়া অস্বাভাবিক সব আচরণ করতে শুরু করে। শ্রেয়ার অস্বাভাবিক আচরণ আমাকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়। শুধু ভাবতাম, আর কয়েকটা দিন। মা হলেই ও ভালো হয়ে যাবে। একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তানসহ আমি আমার পুরোনো শ্রেয়াকে ফিরে পাব। প্রার্থনাই শেষ সম্বল।

আমি আবার ছুটে চলি জয়ন্তী দেবী মন্দিরে। যাওয়ার পথে ওই চার দেয়াল ঘেরা পুরোনো বাড়িটি দেখে কেয়ারটেকার চাচাকে খুঁজতে যাই। যা জানতে পারি, তার সারমর্ম হচ্ছে ‘সেদিনের ওই ঝড়ের রাতের পর একটি মেয়ের লাশ পাওয়া যায় বাড়িটির পুকুরপাড়ে। তার জন্য কেয়ারটেকারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি বলে হাজতবাস করছেন।’

তারপর নিম্ন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে, অনেক কষ্টে নিজেকে অপরাধী এবং চাচাকে মুক্ত করি। কারণ, সেই রাতে আমার জীবননাশের আশঙ্কার কথা ভেবে মেয়েটাকে শ্রেয়াই পুকুরে ফেলে দিয়েছিল, পরে জানতে পেরেছিলাম। আজ আমার হাজতবাসের তৃতীয় দিন। খুব অস্থির অনুভব করছিলাম। এই অস্থিরতার মধ্যে শ্রেয়ার দুই বাক্যের একটি চিঠি আসে।

‘আমি এবং তোমার মেয়ে দুজনই ভালো আছি। আর আমি তোমার মেয়ের নাম রেখেছি জয়ন্তী।’ 
-তোমার শ্রেয়া


ইঙ্গোলস্ট্যাড, জার্মানি

 কলি 

বরষার কদমফুল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
বরষার কদমফুল
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতিদিনই বিকেলে বিষণ্নতায় মন ছেয়ে যায় প্রীতির। দিনে দিনে প্রীতির সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতির জায়গাটায় বিশেষ সংকট দেখা দেয়, তবু নিজের কাছে অবিশ্বাস্যরকম ভাবলেশহীন সে। প্রীতি দেখতে আহামরি রূপসী না হলেও ছিপছিপে গড়নের অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। মানুষ স্বভাবতই রাগ-ক্ষোভ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলেও তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো।

প্রীতির কাছে বিকেলের ক্ষণটা ভীষণ পছন্দের। বর্ষায় প্রীতির মন বিষণ্নতায় অধিক আচ্ছন্ন থাকে। আজকের দিনের বিরামহীন বৃষ্টি তাকে মোটেই একঘেয়েমিতে ঢেকে দেয়নি। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়েছে সে। শরীরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনের বাড়বাড়ন্ত আবেগকে যে বয়স চাইলেও দমাতে পারে না, সে বয়সটা প্রীতির সঙ্গে ছায়ার মতো লেপ্টে থাকে। কোনোকিছুতেই আর আলগা হয় না।

সময়টা টের পাওয়া লোকেরও একদম অভাব নেই। ভ্রমর যেমন ফুলকে অনুসরণ করে, তেমনই পড়শির চোখেও যৌবনের অস্তিত্ব বারবার ধরা দেয়।

বরষার কদম প্রীতির ভীষণরকম প্রিয়। তার শোবার ঘরের পাশে আগে একটি কদম গাছ ছিল। কিন্তু বাড়ি সংস্কারের সময় গাছটি কাটা পড়ায় সে খুব ব্যথিত হয়। যারপরনাই অবাক হয়। কারও মনেই গাছটির জন্য এতটুকু কষ্ট অনুভূত হয়নি। আজ বিকেলবেলায় প্রীতির ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে ছুড়ে দেওয়া পূর্ণ যৌবনের একগুচ্ছ কদম ফুল এসে মেঝেতে পড়ে। কৌতূহল নিয়ে কদম ফুলের দিকে তাকায় প্রীতি। সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির আদলে ভেতরটাও হিমশীতল করে দিয়ে যায় অদ্ভুত অজানা এক শিহরণ। 

ব্যাকুল পিয়াসীর মতো দারুণ এক সুখানুভূতি ছুঁয়ে দেয় তাকে। দৌড়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই চোখ পড়ে কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক সুদর্শন যুবক। অপলক তাকিয়ে থাকে অচেনা-অজানা যুবক। প্রীতিও নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে বুঝে উঠতে চায় অপরিচিত এই যুবকের চাহিদা কী? এই প্রথম পূর্ণ যৌবনের অনুভূতি টের পায় নিষ্পাপ সারল্যের প্রীতি। নিজের বোধকে জাগ্রত করে উপলব্ধির ব্যাপকতা বাড়িয়ে সময়ের উপযোগী করে তুলতে চায়।

ভালোভাবে বুঝে ওঠার আগেই ছেলেটি হাঁটতে থাকে। ততক্ষণে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দৃষ্টিসীমার দূরত্ব বেড়ে যায়, ছেলেটি ঝাপসা হয়ে আসে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ছেলেটি আর পেছনে ফিরেও তাকায়নি। ব্যস তোলপাড় করা ঝড় শুরু হয় যুবতী মনের অন্দরে। বৈশাখী ঝড়ের আদলে এই ঝড় সবকিছু নতুন করে চেনায়। ফুল চেনায়। যৌবন চেনায়। কাছের কাউকে চেনায় নিবিড়ভাবে!

গাজী তারেক আজিজ, ফুলগাজী, ফেনী/আবরার জাহিন

গাছ হাঁটতে পারে?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:২১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:২১ পিএম
গাছ হাঁটতে পারে?
ছবি: আবরার জাহিন

পৃথিবীতে ছোট-বড় মিলিয়ে অনেক ধরনের গাছ আছে। কোনোটি বড় আবার কোনোটি ছোট। এসব গাছের কোনোটির কাণ্ড মোটা আবার কোনোটির কাণ্ড লিকলিকে চিকন। কোনো কোনো গাছ আকাশ সমান উঁচু হয় আবার কোনো গাছ খাটোতেই সুন্দর। গাছেরও যে জীবন আছে তা আমরা জানি। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদান অক্সিজেন সরবরাহ করে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন গাছ চলতে পারে? ছোটবেলা থেকে আমরা দেখে আসছি গাছ যেখানে জন্মায় সেখানেই শিকড় দিয়ে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিস্ময়ের এই পৃথিবীতে এমনো গাছ আছে যারা চলতে পারে। মাটি আঁকড়ে না থেকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে হেঁটে বেড়ায়।

অদ্ভুত এই গাছের নাম ‘ক্যাশাপোনা’। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘ওয়াকিং পাম’ বা ‘চলন্ত পাম’। যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘Socratea exorrhiza’। পামজাতীয় এই উদ্ভিদটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার রেইন ফরেস্টে দেখা মেলে। গাছটির উচ্চতা প্রায় ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ হওয়ায় এর শিকড়ে শ্বাসমূল এবং ঠেসমূলের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এর অস্বাভাবিক শিকড় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রেইন ফরেস্টে দেখা মেলে এই গাছের। এই জায়গার মাটি আলগা এবং সেখানে পানি ধারণক্ষমতা খুব কম। তাছাড়া প্রায় সেখানে ভূমিক্ষয় হয়। তাই এর শিকড় হেঁটে চলে।

মাটি আলগা হওয়ায় শিকড়গুলো মাটি থেকে উঠে আসে। আবার এই অঞ্চলে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না। তাই একটু সূর্যের আলোর ছোঁয়া পেতে স্থান পরিবর্তন করে গাছটি। পাশাপাশি নতুন ঠেসমূল তৈরি করে গাছটি। আগের শিকড়গুলো রেখে যায় এবং সেই স্থানে নতুন উদ্ভিদ গজায়। গাছটি রেখে যায় তার অঙ্কুর। গাছটি এভাবে জলবায়ুতে বেঁচে থাকতে হেঁটে চলে। গবেষকরা বলেন, গাছটি প্রতিদিন তার স্থান থেকে দুই বা তিন সেন্টিমিটার নড়ে। বছরে তা প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পৃথিবীতে অনেক পাম জাতীয় উদ্ভিদ আছে। তবে ‘ক্যাশাপোনা’ উদ্ভিদই হাঁটতে পারে। এই পাম জাতীয় উদ্ভিদগুলো অ্যামাজনের আদিবাসী লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করে এবং ঘর নির্মাণে ব্যবহার করে। তাছাড়া এই গাছে হলুদ এক ধরনের ফলও হয়ে থাকে।

এই গাছের চলনে বৃষ্টিও ভূমিকা রাখে। বৃষ্টি অনেক প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে থাকে, যা এটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। ফলে গাছটি তার পরিবেশের চারপাশে চলাফেরা করতে পারে। যেহেতু এই অঞ্চলে পানি ধারণক্ষমতা কম তাই বৃষ্টি অনেকাংশে সাহায্য করে গাছটিকে।

১৯৮০ সালে জীববিজ্ঞানি জন এইচ বোডলি ক্যাশাপোনা গাছের এই হেঁটে চলার ব্যাপারটা ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, গাছটি নতুন শিকড় তৈরি করে এবং অবস্থান পরিবর্তন করে আগের স্থানে অঙ্কুরোদগোম করে। বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, এই গাছে সূর্যের আলো পৌঁছানোর জন্যও গাছটি তার শিকড় দিয়ে স্থান পরিবর্তন করে।

স্লোভাক একাডেমি অব সায়েন্সেস ব্রাটিসলার আর্থ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্যালিওবায়োলজিস্ট পিটার ভারসানস্কি বলেন, তিনি এই প্রথম এই ধরনের উদ্ভিদ দেখেছেন। শিকড়গুলো নতুন মাটি খুঁজতে স্থান পরিবর্তন করে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দুই মাস সেই অঞ্চলে অভিযান চালান এবং ১৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ খুঁজে পান। এই গাছটির নাম তিনি বিপন্ন উদ্ভিদের তালিকায় উঠান।

ইকুয়েডরের এই অঞ্চলে শুধু ওয়াকিং পাম নয়, আরও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী পাওয়া যায়। যা পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গায় পাওয়া যায় না। ইকুয়েডরের এই সংরক্ষিত অঞ্চলকে ইউনেস্কো সংরক্ষিত অরণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। জায়গাটির নাম ‘সুমাকো বায়োস্ফিয়ার’। দুর্গম এই জায়গায় ভ্রমণ করতে প্রায় একদিন সময় লাগে।

/আবরার জাহিন

বিশ্বের চার ব্যতিক্রম স্কুল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম
বিশ্বের চার ব্যতিক্রম স্কুল
ছবি: সংগৃহীত

প্রচলিত স্কুলে শিক্ষার্থীরা স্কুলব্যাগ, খাতা-কলম আর ড্রেস পরে ক্লাসে যায় এবং পাঠদান নেয়। মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট পায় এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেগুলো মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে শিক্ষক শিশুর প্রতিভা এবং দক্ষতার প্রতিফলন ঘটান। কিন্তু এমন কিছু স্কুল আছে যেখানে পাঠদান একটু ব্যতিক্রম। এমন চার স্কুল নিয়েই আজকের আয়োজন।

উইচ স্কুল: এ স্কুলটি মূলত জাদুবিদ্যার প্রয়োজনীয়তা এবং এর ওপর বিশ্বাস করাকে শেখায়। আমেরিকার শিকাগো ইলিনয় ও সালেম ম্যাসাচুসেটে উইচ স্কুলের ক্যাম্পাস রয়েছে। এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে রেভ এড হাব্বার্ড। স্কুলটি সাধারণত অনলাইনে কোর্স অফার করে। ২০০১ সালে যখন স্কুল যাত্রা শুরু করে তখন এর ছাত্রছাত্রী ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার। ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও স্কুলটি এখনো সফলভাবে চলছে। সারা বিশ্ব থেকে এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। 

ব্রুকলিন ফ্রি স্কুল: নাম অনুসারেই ফ্রি স্কুল ব্রুকলিন। এটি ইউএসএতে অবস্থিত। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্কুলের কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম বা শিক্ষার্থীদের অনুসরণ করার মতো কোনো নিয়ম নেই। স্কুলের পেছনে ধারণা হলো শিশুদের তাদের পথ খুঁজে পেতে অনুমতি দেওয়া। যাতে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা কী শিখতে চায় এবং কোন ক্লাসে তারা যোগ দিতে চায়। যদি তারা ক্লাসে বসতে আগ্রহী না হয়; তাহলে তারা ঘরেই থাকতে পারে। বিভিন্ন কারণে স্কুলটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এলফ স্কুল: এ স্কুলটি আইসল্যান্ডের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মধ্যে অবস্থিত। এটি প্রধানত এলভস এবং আইসল্যান্ডের লোককাহিনি সম্পর্কে শিক্ষা দেয় যারা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। ১৯০০ সালে এই স্কুলটি চালু হওয়ার পর থেকে ৯০০০ জনেরও বেশি লোক স্কুলে ভর্তি হয়েছে যার বেশির ভাগই বিদেশি। স্কুলটি এলভস শিক্ষার সার্টিফিকেশন  দেয়, যা এক দিনের মধ্যে অর্জন কর যায়। তারা জনপ্রিয় আইসল্যান্ডিক লোককাহিনি নিয়ে গবেষণা করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যাগনাস স্কারফিওইনসন এই বিষয়ে বিভিন্ন বই লিখেছেন।

মহর্ষি স্কুল: এই স্কুল ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাশায়ারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মহর্ষি স্কুলে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বর্তমান বিশ্বের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো শেখানো হয় না। তাদের শিক্ষার পদ্ধতি চেতনাভিত্তিক, যেখানে তারা অতীন্দ্রিয় ধ্যান শেখায়। শিক্ষাদানের অপ্রচলিত রূপ সত্ত্বেও এই স্কুলটি অভিভাবকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষ স্কুলগুলোর মধ্যে সেরা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

/আবরার জাহিন

ক্ষুদ্রতম নদী রো

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম
ক্ষুদ্রতম নদী রো
ছবি: সংগৃহীত

‘আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে,
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।’

রবি ঠাকুরের এই ‘ছোটো নদী’ কবিতা পড়েনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। রবি ঠাকুর আমাদের গ্রামবাংলার অপার প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে তার এই কবিতা লিখেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নদী সম্পর্কে আমরা কজনই-বা জানি?

বিশ্বের দীর্ঘতম নদী কিংবা বিখ্যাত নদীগুলোর খোঁজ তো অনেকেই রাখেন। নীল নদ, অ্যামাজন কিংবা মিসিসিপি নামের দীর্ঘতম নদীগুলোর নাম জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নদীর সম্পর্কে কিছু জানেন কি? একসময় ‘ডি’ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র নদী। এ নদীর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগ্যান অঙ্গরাজ্যে। নদীটি ডেভিলস হ্রদ থেকে বের হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে। ডি নদীর দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৪৪০ ফুট। কিন্তু ১৯৮৯ সালে ‘রো’ পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নদী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ নদীর দৈর্ঘ্য মাত্র ২০১ ফুট। ২০১ ফুট বা ৬১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীটি পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এর গভীরতা প্রায় ৬-৮ ফুট বা ১.৮ থেকে ২.৪ মিটার। এ নদীটিও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত, তবে মন্টানা অঙ্গরাজ্যে। নদীটি জায়ান্ট স্প্রিং থেকে বের হয়ে মিসৌরি নদীতে গিয়ে পড়েছে। মজার বিষয় হলো, মিসৌরি আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।

আরও একটি মজার বিষয় হলো, রো নদীকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম নদী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একসময় রীতিমতো আমেরিকায় আন্দোলন হয়েছে। ১৯৮০ সালে লিংকন স্কুল এলিমেন্টারির শিক্ষক সুসান নারডিঙ্গার নেতৃত্বে এই নদীর প্রচার চালিয়েছিল তৎকালীন একদল পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া। তাদের দাবি ছিল, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট নদী হিসেবে রো নদীর নাম গিনেস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তুলতে হবে। অবশেষে অনেক কঠোর আন্দোলনের পর ১৯৮৯ সালে রো নদীকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম নদী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তবে ‘ডি’ এবং ‘রো’ নদীর মধ্যে কোনটি ক্ষুদ্রতম, এটা নিয়ে অনেক বিতর্কের জন্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে বিতর্কের জেরে ২০০৬ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সবচেয়ে ছোট নদীর কৃতিত্ব দেওয়া বন্ধ করে দেয়। যদিও এখনো বেশির ভাগ মানুষ রো নদীকেই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট নদী বলে মনে করেন। এদিকে ভূগোলবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের মতে, পৃথিবীতে আরও ছোট নদী রয়েছে। যেমন ইন্দোনেশিয়ার তামবোরাসি নদী। এর দৈর্ঘ্য মাত্র ২০ মিটার। আবার নরওয়ের কোভাসেলভা নদীর দৈর্ঘ্যও ২০ মিটার। কিন্তু উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘যে জলস্রোত কোনো পর্বত, হ্রদ, প্রস্রবণ ইত্যাদি জলাধার থেকে উৎপন্ন এবং বিভিন্ন জনপদের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অন্য কোনো জলাশয়ে পতিত হয়, তাকে নদী বলে।’

যেহেতু ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের নদীগুলো প্রবাহিত হয় না, তাই সেগুলোকে নদী না বলে জলাশয় বলাই ভালো। আবার আর্থার নেওয়েল স্ট্রাহলার নামে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের এক অধ্যাপক বলেছিলেন, ‘নদীর পানি কোনো বড় নদী বা সমুদ্রে গিয়ে মিশতে হবে’। ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের নদীগুলো এই শর্ত পূরণ করেনি। কিন্তু ‘রো’ মিসৌরি নদীর সঙ্গে মিশেছে। তাই এদিক দিয়েও বলা যায়, ‘রো’ই পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নদী। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই নদীর পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ, খাওয়ার উপযোগী। এই নদীর ঢেউও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এমনকি এই নদীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যামন মাছ পাওয়া যায়।

/আবরার জাহিন

 

ভারতবর্ষের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:০৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম
ভারতবর্ষের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি
শ্রীকান্ত জিচকার। ছবি: সংগৃহীত


ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের তালিকা করলে যার নাম সর্বাগ্রে থাকে তিনি হলেন মারাঠা বংশোদ্ভূত শ্রীকান্ত জিচকার। ছোটবেলা থেকেই শ্রীকান্তের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ, জ্ঞানার্জনের প্রতি এক ধরনের তীব্র ঝোঁক ছিল। যা পরবর্তীতে শ্রীকান্ত জিচকারকে জ্ঞানার্জনের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। শ্রীকান্ত জিচকারের পথচলা শুরু হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান দিয়ে। শ্রীকান্ত জিচকার ছিলেন একজন সত্যিকারের জ্ঞানপিপাসু। একে একে জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকে কঠোর অধ্যবাসয়ের মাধ্যমে নাগপুরের এক মেডিকেল কলেজ থেকে প্রথমে ‘এমবিবিএস’ পরে ‘এমএস’ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক হয়েও চিকিৎসা পেশায় বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেননি।

শ্রীকান্ত জিচকার সবসময় জ্ঞানের নতুন নতুন দ্বার উন্মোচনের অপেক্ষায় থাকতেন। চিকিৎসা পেশা থেকে হঠাৎ করেই আইনজীবী হওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে শ্রীকান্তের। ওকালতি করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি ‘এলএলবি’ ডিগ্রি সম্পন্ন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ল’-এর ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। পর্যায়ক্রমে ‘বিজনেস ম্যানেজমেন্ট’-এর ওপর প্রথমে ডিপ্লোমা এবং পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শ্রীকান্ত জিচকার এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে তার লক্ষ্যবস্তু থেকে কোনো কিছুই বিন্দুমাত্রও টলাতে পারেনি। যখনই পড়াশোনায় একটু একঘেয়েমি চলে আসত তখনই তিনি ভিন্ন আঙ্গিকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন কিন্তু দমে যাননি। তিনি জীবনে যা চেয়েছেন তা না পাওয়া পর্যন্ত একটুও পিছপা হননি।

শ্রীকান্ত জিচকার ভারতের ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০টিতেই উত্তীর্ণ হন। শুনতে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি যে, শ্রীকান্ত জিচকার অর্থনীতি, ভারতীয় ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, ইংরেজি সাহিত্য, জনব্যবস্থাপনা ও সংস্কৃতিসহ দশ-দশটি বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। যে ডিগ্রিগুলো অর্জন করতে মানুষ জীবনভর পরিশ্রম করেও সহজে নিজের করতে হিমশিম খায় সেই উচ্চশিক্ষার ধাপগুলো শ্রীকান্ত যেন লাফিয়ে লাফিয়ে পার করেছেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রীষ্ম ও শীতে কোনো না কোনো বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছেন এবং বেশির ভাগ পরীক্ষাতেই সফলতার সঙ্গে এমনকি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোয় ঈর্ষান্বিত ফলাফল অর্জন করায় একের পর এক স্বর্ণপদকও পেয়েছেন এই ভদ্রলোক। জিচকারের অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে মোট ২৮টি স্বর্ণপদক। জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগ, প্রবল তৃষ্ণা শ্রীকান্ত জিচকারকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। শ্রীকান্ত যখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তখন তার মাথায় IPS হওয়ার ভূত চাপে। IPS-এর প্রস্তুতি গ্রহণ শেষে পরীক্ষায় পাস করে কিছুদিন পর ১৯৮০ সালে IAS অফিসার হিসেবেও নিজেকে আবিষ্কার করেন। ভারতবর্ষে তখনো UPSC পরীক্ষা চালু না হওয়ায় IAS ও IPS চাকরির জন্য আলাদা এক্সাম হতো। মাত্র চার মাস চাকরি করার পর পদত্যাগ করে ঝুঁকে পড়েন রাজনীতিতে।

১৯৮০ সালে তুখোড় মেধাবী ‘ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’ থেকে পদত্যাগ করে মাত্র ২৬ বছর বয়সে যোগ দেন রাজ্যসভার সর্বকনিষ্ঠ এমএলএ হিসেবে। সংসদ সদস্য হয়েছেন মন্ত্রী হবেন না, তা কী করে হয়। পর্যায়ক্রমে তিনি সরকারের মন্ত্রি পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রি হিসেবে মনোনীত হন। তিনি রাজ্যের মন্ত্রী, রাজ্যসভার সদস্য এবং মহারাষ্ট্র আইন পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীকান্ত জিচকার প্রতিটি পেশায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। তিনি একাধারে ১৪টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

এ পৃথিবীতে সবাই নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়লেও শ্রীকান্ত জিচকার যেন এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেননি। তিনি একাধারে ডাক্তার, আইনজীবী, IAS অফিসার, চিত্রকর, পেশাদার ফটোগ্রাফার, রাজনীতিবিদ, মঞ্চ অভিনেতা, সাংবাদিক, জ্যোতিষ শাস্ত্রের একজন মহান পণ্ডিত ছিলেন। এ ছাড়া শ্রীকান্ত জিচকার ধর্মীয় বিষয়েও যথেষ্ট পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। সংস্কৃতের ওপর তিনি ডক্টর অব লিটারেচার (পিএইচডি) ডিগ্রি লাভ করেন।

ভারতের নাগপুরের আজনগাঁওয়ের এক মারাঠা পরিবারে জন্ম নেওয়া শ্রীকান্ত জিচকার ছিলেন প্রচণ্ড জ্ঞানপিপাসু। পৃথিবীতে অর্থবৃত্ত, ক্ষমতা ও পেশিশক্তি প্রদর্শন তো অনেকেই করে থাকে কিন্তু বিদ্যার এমন প্রভাব, প্রতিপত্তি, নজির কজনই-বা দেখাতে পারে?

ভারতে তার একক ব্যক্তিগত পাঠাগারেই ৫২ হাজারেরও বেশি পুস্তক সংগৃহীত ছিল। ক্ষণজন্মা এই ভদ্রলোকের জ্ঞানের প্রতি তৃষ্ণার কিছুটা প্রমাণ মেলে তার ব্যক্তিগত পাঠাগারের মস্ত সংগ্রহশালা থেকেই। তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারটি ভারতের বৃহত্তম ব্যক্তিগত গ্রন্থাকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। শ্রীকান্ত জিচকারের মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ১৪টি পোর্টফোলিও ছিল। ধর্ম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ডাক্তার জিচকার বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। ক্ষণজন্মা এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইউনেস্কো ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। ভারতের রেকর্ড বুক ‘লিমকা বুক অব রেকর্ডস’ শ্রীকান্ত জিচকারকে ভারতের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত করে।

শ্রীকান্ত জিচকার শুধু যে নিজেই জ্ঞানার্জনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন বিষয়টি তা নয় বরং তিনি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারেও কাজ করেছেন। তিনি বাচ্চাদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে, আলোকিত সমাজ গঠনে এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রচার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯২ সালে নাগপুরে সন্দীপনী স্কুল ও সমৃদ্ধ একটা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। 
২০০৪ সালের ২ জুন নাগপুর থেকে প্রায় ৪০ কি.মি দূরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৫১ বছর বয়সে এই ক্ষণজন্মা গুণিজন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

/আবরার জাহিন