ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা

ধারাবাহিক উপন্যাস মোহিনী

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ এএম
মোহিনী
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

সপ্তচত্বারিংশ পর্ব
 
ব্যবসায়ী লোকটি চলে যাওয়ার পর তিনি আরও কিছুক্ষণ বসে রইলেন। তিনি কিছুই আর ভাবতে পারছেন না। এই মুহূর্তে কাকে বলবেন? কে এগিয়ে আসবে আসন্ন বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করতে? মাথাটা একেবারে ফাঁকা হয়ে আছে। ঘুরেফিরে ওই এক চিন্তা; কীভাবে পত্রিকা চলবে, কোথা থেকে এর ফান্ড আসবে? কে বলবে, আমি এটাকে নিজের কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করব না? কে বলবে, আমি পত্রিকাটিকে একটা পেশাদার হাউস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই? সেজন্য সম্পাদককে যত ধরনের সহায়তা করা দরকার তা করব। কে বলবে, বিনিয়োগকারী হিসেবে আমার ভূমিকা হবে ধ্রুব তারার মতো। যা আলো দেবে কিন্তু উত্তাপ দেবে না। এমন মানুষ কোথায় পাব?  
কথাগুলো আসিফ আহমেদের চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু ইচ্ছা করলেই কি আর সব কিছু করা যায়! কখনো কখনো নিজেকেই নিজের রাশ টেনে ধরতে হয়। নিজেকে থামাতে হয়। তবে তিনি হাল ছাড়তে রাজি নন। তিনি শেষ দেখতে চান। নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও আলো আছে। আলো না থাকলেও আলো আসবে। আসতেই হবে। সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সফলতা তারই আসে। ঘাত-প্রতিঘাত ছাড়া কি জীবনে কখনো সফল হওয়া যায়! জীবনে যদি ব্যর্থতাই না থাকল তাহলে সফলতার মর্ম বুঝব কীভাবে? 
আসিফ আহমেদের নেলসন ম্যান্ডেলার কথা মনে পড়ে। তিনি তার আত্মজীবনী পড়ে ব্যাপকভাবে উদ্দীপ্ত হয়েছেন; অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। ম্যান্ডেলা আফ্রিকার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সাতাশ বছর জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য তেরো বছর জেল খেটেছেন। কোনো মানুষ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য যদি এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তাহলে আমি আসিফ আহমেদ কেন পারব না একটা পত্রিকা দাঁড় করাতে! আমাকে পারতেই হবে। অশুভ শক্তি যতই চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করুক; আমি যদি নীতিতে অটল থাকি, আমার যদি সততা আর নিষ্ঠা থাকে তাহলে সফল আমি হবই।    
ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে আসিফ আহমেদ উঠে দাঁড়ালেন। বীরের গতিতে অফিসের উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করলেন।    

দিলরুবা খান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। বৈরম খান ফোনে কথা বলছেন দেখে ভেতরে ঢুকছেন না। বৈরম খান তাকে দেখেও কথার মনোযোগ হারাবে বলে কিছু বলেননি। বলা শেষ করে হাসি হাসি মুখ করে দিলরুবা খানের দিকে তাকালেন তিনি। অনেক দিন পর দিলরুবা খান স্বামীর হাসিমুখ দেখলেন। পায়ে পায়ে তিনি তার কাছে এগিয়ে গেলেন। উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে বললেন, কতদিন পর তোমার হাসিমুখ দেখলাম! কোনো সুখবর মনে হচ্ছে!
বসো বলছি। 
দিলরুবা খান বৈরম খানের মুখোমুখি সোফায় বসলেন। বৈরম খান তাকে উদ্দেশ করে বললেন, তোমার ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা করতে করতে কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছি! আজ মনে হয় একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব। 
তাই! কি সুখবর বলো না!
এতক্ষণ আইজি সাহেবের সঙ্গে কথা বললাম। 
কী বললেন উনি?
শোনোই না! উনি বললেন, ভাই আপনি এত চিন্তা করবেন না তো! আমি তো আগেও বলেছি; আপনার ছেলের দায়িত্ব আমি নিয়েছি। ওর বিষয় নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না। আমি দেখব। আমি বললাম, তাহলে যে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হলো? উনি বললেন, ওটা একটা আইওয়াশ! আপনি বুঝতে পারছেন না। এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছি, মানুষ যাতে ভাবে, তদন্তের স্বার্থে তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ধরুন ও বিদেশে গেল! তারপর কী হবে? পত্রিকায় রিপোর্ট হবে। তখন আমরা কী জবাব দেব? প্লিজ বোঝার চেষ্টা করেন! ওকে তো এখনই কিছুই বলা হয়নি। কোনো জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি! এর পরও যদি আপনি এত দুশ্চিন্তা করেন তাহলে আমি বুঝব আপনি আমাকে আস্থায় নিতে পারেননি। 
আমি বললাম, আসলে আমরা একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বিদেশে যেতে বাধা! তার মানে ভেতরে ভেতরে আবার আমার ছেলের বিরুদ্ধে নতুন কোনো চার্জ গঠন হচ্ছে কিনা?
আইজি সাহেব তখন কী বললেন? দিলরুবা খান জানতে চাইলেন। 
উনি বললেন, আমার ওপর আস্থা থাকলে চুপচাপ থাকেন। নিশ্চিন্তে ঘুমান। নতুন করে আর কী হবে? যা করে দিয়েছি, এখন আর নতুন করে কিছু করা সম্ভব না। 
দিলরুবা খান স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, আল্লাহ তুমিই রক্ষা করার মালিক। তুমি ছেলেটাকে একটু জানাবা? চল, আমরা দুজনেই ওর বাসায় যাই। ও যে কী অবস্থায় আছে!
আমি ওই দিন ওকে খুব করে বলেছি। ওর ছেলের সামনেই বলেছি। ছেলেটাকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। এক ঘটনায় সব ওলট-পালট হয়ে গেল! সবকিছু এত চমৎকারভাবে চলছিল...
দিলরুবা খানের দুই চোখের কোটরে পানি জমে। তিনি কথা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। তিনি আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন। বৈরম খান আবেগের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন। তার পর বললেন, তুমি কাঁদছ?
দিলরুবা খান এবার আর কান্না আটকাতে পারলেন না। তিনি হু হু করে কেঁদে উঠলেন। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, আমাদের খোদাতায়ালা এত কষ্ট কেন দিচ্ছে? আর যে সহ্য করতে পারছি না!    

চলবে...

 

আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন...

পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩পর্ব-৪পর্ব-৫পর্ব-৬পর্ব-৭পর্ব-৮পর্ব-৯, পর্ব-১০পর্ব-১১পর্ব-১২পর্ব-১৩, পর্ব-১৪পর্ব-১৫পর্ব-১৬পর্ব-১৭পর্ব-১৮পর্ব-১৯পর্ব-২০পর্ব-২১পর্ব-২২পর্ব-২৩পর্ব-২৪, পর্ব-২৫,  পর্ব-২৬,

পর্ব-২৭ পর্ব-২৮ পর্ব-২৯পর্ব-৩০,পর্ব-৩১, পর্ব-৩২, পর্ব-৩৩,পর্ব-৩৪, পর্ব-৩৫, পর্ব-৩৬, পর্ব-৩৭, পর্ব-৩৮, পর্ব-৩৯, পর্ব-৪০পর্ব-৪১পর্ব-৪২, পর্ব-৪৩,পর্ব-৪৪, পর্ব-৪৫, পর্ব-৪৬,

 

 

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ